বইছে নির্বাচনের সুবাতাস, সাথে বহু অনিশ্চয়তা ও শঙ্কাযুক্ত দুর্গন্ধ

প্রকাশিত: 9:28 PM, July 28, 2017 | আপডেট: 9:28:PM, July 28, 2017

মোঃ শামীম হোসেন (বিদ্যুৎ):

 

দেশে এখন নির্বাচনের সুবাতাস বাইছে। সাথে বইছে বহু অনিশ্চয়তা ও শঙ্কাযুক্ত দুর্গন্ধ। দীর্ঘ দিন ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজনৈতিক দল বি এন পি’র নেতাকর্মীরা এখন বেশ চাঙ্গা। ঘরোয়া ভাবে হলেও কিছুটা রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে শঙ্কার বিষয় হল আরও একটি ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন হয় কিনা সেটি নিয়ে জনমনে বেশ উৎকণ্ঠা। সরকারী দল আওয়ামীলীগের অধীনে সরাসরি নির্বাচন হলে বি এন পি এবং তাঁদের জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবে না বলে বি এন পি’র পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বি এন পি’র মহাসচিব জনাব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সামনে আওয়ামীলীগ আরো একটি ৫ই জানুয়ারী নির্বাচন দেওয়ার চেষ্টা করলে সরকার তা পারবে না। অতএব পরিস্থিতি যে গত নির্বাচনের চেয়ে বেশ ভয়াবহ হবে দুই পক্ষের পরস্পর বক্তব্য তেমনটাই অনুমান করা যায়। আর বর্তমান নির্বাচন কমিশন অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেশবাসীকে উপহার দিতে পারবে কিনা তা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছে চরম উৎকণ্ঠা। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন যে নির্বাচনী রোড ম্যাপ দিয়েছে তাতে প্রধান নির্বাচন কমিশন অদক্ষতার ছাপ রেখেছেন। আমরা প্রায়ই শুনি দেশ অনেক এগিয়ে গেছে কিন্তু স্বাধীনতার প্রায় অর্ধ শতাব্দী পরে এসেও যদি একটি সঠিক নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য লড়াই করতে হয়, তাতে আর যায় বলি না কেন দেশ এগিয়ে গেছে একথা কেউ মানতে রাজি হবে না।

 

 

 

দেশ এগিয়ে যাওয়া বলতে এতটুকুই যে, আগে মানুষ না খেয়ে মরেছে আর এখুন মানুষ দুমুঠো ফরমালিন খেয়ে মরতে পারে। আগে মানুষ ভিক্ষা করে খেয়েছে আর এখন মানুষ ঋণ করে খাচ্ছে। আগে ব্রিটিশ শোষণ করেছে, পাকিস্তান শোষণ করেছে আর এখুন আমার জ্ঞাতি ভাইবোনেরা শোষণ করেছে। ইংরেজরা লুটপাট করে নিয়ে কহিনুর দিয়ে প্যালেস সাজিয়েছে। পাকিস্তানিরা লুট করে ইসলামাবাদ বানিয়েছে আর এখন আমাদের ভাইবোনেরা লুট করে সুইস ব্যাংকগুলোর সমৃদ্ধ করছে। নাটক ঠিকই মঞ্চস্থ হচ্ছে শুধু নাটকের নট-নটী পরিবর্তন হয়েছে এই যা উন্নতি হয়েছে।

 

 

 

তিউনিসিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বেন আলী, লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফি, ইরাকের সাদ্দাম হোসেন, মিসরের হোসনী মোবারক, সিরিয়ার বাসার আল আসাদ সহ অনেক আরাবিয়ান শাসক গোষ্ঠী বিপুল পরিমাণে অর্থ সুইস ব্যাংকে জমা রেখেছিল কিন্তু কাহারও শেষ রক্ষা হয় নাই। আরব বসন্তে তাঁদের সবার জীবনে বসন্তের কোকিলের সুকণ্ঠী সুর না বেজে কাকের কর্কশ সুরে জীবনের বারটা বেজেছে। এ থেকে আমাদের শিক্ষা হবেনা কারণ আমাদের নেতারা লোভে মত্ত। লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু আর এই মৃত্যুর মাধ্যমেই পরিসমাপ্তি হবে। শুধু এই টুকু সান্ত্বনা ওরা তো আমাদেরই ভাইবোন তাই না? যখন পাকিস্তান ছিল তখনও সবাই আমরা জ্ঞাতি ভাইবোন ছিলাম। শুধু জ্ঞাতি ভাইবোন বলেই আমরা ১৯৪৭ সালে ভারতের পেটের মধ্যে থেকেও আমরা সেদিন পাকিস্তানী হয়েছিলাম। শুধু ব্রিটিশ একমাত্র শোষণ করেছে যারা আমাদের জ্ঞাতি ভাই ছিলো না। অবশ্য আমরা ভাগ্যবান যে ১৯৪৭ সালে আমরা পাকিস্তানী হয়েছিলাম বলেই আজ আমরা বাংলাদেশী হতে পেরেছি। এরকম না হলে আমরা আজ ভারতের কোন অঙ্গ রাজ্যই থেকে যেতাম।

 

 

 

তবে আমরা সাধারণ জনগণ খুব অসম্মান বোধ করি যখন দেখি আওয়ামীলীগ সরকার নিজেদের ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে থাকার জন্য ভারত সরকারের পদ লেহ্যন করে। মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা ভারতের শুধু অঙ্গ রাজ্যই নয় যেন তাঁদের গোলামী রাজ্য। ভারতের রাজ্য সরকারের যে অধিকার ও সামর্থ্য আছে কেন্দ্র সরকারকে চ্যালেন্স করার আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হয়ে তা করতে পারিনা কারণ এই সরকারের ক্ষমতা ভারত নির্ভর হওয়ায়। স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন। এই সত্য যেন আমাদের নেতারা ভুলে গেছে। আমিও অনেকের মত ভাবি আমাদের এই কষ্টার্জিত স্বাধীনতা কোন দিন হারাবেনা। কিন্তু ক্রমাগত ভারতের পদ লেহ্যন যে আমাদের শঙ্কিত করেছে দিনকে দিন।

 

 

 

একসময় বাংলার স্বাধীন নবাব সারা বাংলা শাসন করত। তাঁরা কি কখনো ভেবে ছিল তাঁদের এই দুর্দিন আসবে? সেই হাজার হাজার মাইল দূর থেকে ইংরেজরা বাংলায় এসে দখল করে নিয়েছিল। সাথে সহযোগী হিসাবে পেয়েছিল মীরজাফর কে। আর ভারত হল বাংলাদেশের নাকের ডগায়। সুবিধামত সময়ে যে তাঁরা সিকিম দখলের মত বাংলাদেশ দখল করবে না তার কি নিশ্চয়তা আছে? ভারতের নেতৃবৃন্দ সবসময় অখণ্ড ভারত গড়ার স্বপ্নে বিভোর। নিরাপত্তার স্বার্থে চীন, পাকিস্তান কে মোকাবেলা করার জন্য ভারত চাই এর প্রতিবেশী দেশগুলোকে নানাভাবে বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে তাদেরকে প্রচণ্ড দুর্বল করে নিজেদের সুবিধা আদায় করতে।

 

 

 

শুধু সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস পড়লে যে কেউ বিশ্বাস করতে বাধ্য হবে যে বাংলাদেশও একদিন তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হারাতে পারে। ১৭৫৭ সালে বাংলার স্বাধীনতা লুণ্ঠন করতে ইংরেজরা যেমন মীরজাফর কে পেয়েছিল তেমনি ১৯৭৫ সালে সিকিম দখল করতে ভারত পেয়েছিল মীরজাফররুপী কাজী লেন্ডুপ দরজিকে। সেই সময়ের ভারত নেতৃবৃন্দ শুধু লর্ড ক্লাইভের ভূমিকা পালন করেছিল। ১৯৭৩ সালে সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস ভোটের কারচুপির অভিযোগ এনে সারাদেশ ব্যাপী তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। যে আন্দোলন সরাসরি রাজতন্ত্র পতনের আন্দোলনে রুপ নেয়। এরও আগে ১৯৬৫ সালে গয়াল বিক্ষোভ দমনের জন্য রাজা চোগিয়াল পন্ডেল থন্ডুপ ভারত সরকারের সাহায্য চাই। সেই থেকেই শুরু।

 

 

 

চরম আধিপাত্যবাদী ভারত সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। চোগিয়াল পন্ডেল আর লেন্দুপ দরজির দা কুমড়া সম্পর্ক ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কাজে লাগিয়ে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের মানচিত্র খুব সহজেই পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলে। সেদিন এই নীল নকশার মাধ্যমে কবর রচিত হয় প্রায় চার’শ বছরের রাজতন্ত্র আর একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্রের। একমাত্র চীন ছাড়া প্রায় জাতিসংঘের সবগুলো রাষ্ট্রই সিকিমকে আধিপত্যবাদী ভারতের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাওয়াকে সমর্থন করেছিল কারণ হিসেবে তাঁরা উল্লেখ করেছিল যে অন্ততপক্ষে সেখানে তাঁরা গণতন্ত্র দেখতে পাচ্ছেন। আমাদের দেশ পৃথিবীর মানচিত্রে ভৌগলিক অবস্থান ও বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের এক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে অবস্থিত। সেটা ভারতের জন্য যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা বলার কোন অপেক্ষাই রাখেনা।

 

 

 

 

প্রতি পাঁচ বছর পর পর আমাদের দেশে সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন আসে। সাথে নিয়ে আসে রাজ্যের যত শঙ্কা। পাঁচ বছর মেয়াদের যে কোন সরকারের অধীনে দেশ যতটুকু এগিয়ে যায় শুধু এক নির্বাচন কে কেন্দ্র করে দেশ যেন তার পাঁচ গুন পিছিয়ে যায়। কারণ আজ স্বাধীনতার প্রায় পাঁচ দশক পরেও আমরা একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি নাই। আমাদের দেশে আওয়ামীলীগ এবং বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী দল (বি এন পি) বা এই দুই দল ঘরানায় জোট মূলত দেশ শাসন করছে। ক্ষমতায় যাওয়া আর ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার জন্য এই দুই দলের মধ্যে সম্পর্ক ঐ সিকিমের রাজনৈতিক চোগিয়াল পন্ডেল আর লেন্দুপ দরজির মত সাপে নেউলে সম্পর্ক। মূলত দুই দলই ভারতের আনুকূল্য পেতে চায় কিন্তু আওয়ামীলীগ এ ক্ষেত্রে মরিয়া। তাঁদের ভূমিকা অনেকটা প্রকাশ্যে এরকম দেশ ভারত নিয়ে নিক কিন্তু আমরা ক্ষমতায় থাকতে চাই চাই! বাংলাদেশের সব জনগণের মত আমিও ভীষণ আশাবাদী ১৯৭১ সালের মত প্রয়োজনে আবারও প্রাণ দিতে প্রস্তত দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রাক্ষায়। কিন্তু দুরচিন্তা হল যদি আওয়ামীলীগ তাঁদের ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে কাজী লেন্ডুপ দরজির ভুমিকায় অবতীর্ণ হয় তাহলে তো আমরা সাধারণ জনগণ শুধু প্রাণ দিতে পারব কিন্তু স্বাধীনতা কি রক্ষা করতে পারব?

 

 

দেশে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা নেই তা আমরা সবাই জানি। রাজনীতিবিদরা যখন নির্বাচনের আগে সেবক হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে শোষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ সেই রকম উপলব্ধি থেকে জার্মান বংশদ্ভুত আমেরিকান কবি ও লেখক চার্লস বুকওয়স্কি বলেছিলেন যে “গণতন্ত্র আর স্বৈরতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য হল গণতন্ত্রের জন্য আগে ভোট দিতে হয় তারপর শোষিত হতে হয় আর স্বৈরতন্ত্রের জন্য ভোট দিয়ে সময় নষ্ট করতে হয় না।” কিন্তু আমরা কোন সরকার ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হচ্ছি? আমাদের জনগণকে ভোট দিয়ে সময় নষ্ট করতে হয়নি তবে শত শত কোটি টাকা গচ্চা দিতে হয়েছে গত ৫ই জানুয়ারী সাধারণ নির্বাচন নামে রঙ্গ নাটকের জন্য যা এদেশের জনগণের রক্ত ঘাম করা উপার্জিত অর্থ।

 

 

 

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মোট বাজেট ধরা হয়েছিল ৫০০ কোটি টাকা। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য পরিকল্পিত ভাবে মোট ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে নিজ দলের প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষণা করেছিল। নির্বাচন হয়েছিল মাত্র ১৪৭টি আসনে। তারপরও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কাজে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৯২ কোটি টাকা। অথচ অষ্টম ও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাজেট ছিল যথাক্রমে ৭২ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং ৯২ কোটি ২৯ লাখ টাকা যা পরবর্তীতে বেড়ে ১৬৫ কোটি হয়েছিল। কিন্তু সরকারের উন্নয়নের কারিশমায় নির্বাচনী বাজেট হয়েছিল ৫০০ কোটি টাকা। কল্পনা করা যায় কোন অলৌকিক কারণে নির্বাচনী ব্যয় এক লাফে তিন গুন বেড়ে যায়।

 

 

 

শেখ হাসিনা সরকার হয়ত বলতেই পারে যে সরকার পরিকল্পিত ভাবে অর্ধেকের বেশি আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষণা করায় সেই আসন গুলোতে যেহেতু নির্বাচন হয়নি তাই নির্বাচনী ব্যয় এক তৃতীয়াংশ কম হয়েছিল। এতে দেশের লাভ-ই হয়েছে! এবার হয়ত শেখ হাসিনা সরকার বলতে পারেন সরকার অনেক উন্নয়ন করেছে তাই এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য আওয়ামীলীগ সরকার দরকার। আর এই জন্য সামনে আর কোন জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার দরকার নেই। অবশ্য ইতিমধ্যে সংসদে তথাকথিত সাংসদ একজন বলেছেন নির্বাচন করার দরকার নেই।

 

 

 

এই ভাবে দেশ নাকি ভালই চলছে। তারা হয়ত যুক্তি দেখাবে নির্বাচন দিলে এবার ৫০০ কোটি থেকে বেড়ে এক হাজার কোটি খরচ হতে পারে। তবে মেয়াদ শেষ হলে আরও একটি ৫ই জানুয়ারি উপহার দেশবাসীকে দেওয়ার চেষ্টা করবে। কারণ বিশ্বকে দেখাবে সংবিধান রক্ষায় সরকার নির্বাচন করেছে অন্যদিকে নির্বাচনী ব্যয় নামে শত শত কোটি টাকা তছরুপ করতে পারবে। তাতে সরকার এক ঢিলে দুই পাখি মারবে। তবে সময়ই সব বলে দিবে। এসবই জনগণের টাকা থেকে খরচ করেছে সরকার। সব খরচের দায় ভার জনগণের ঘাড়ে চাপানো হয়েছে। জনগণ ঋণের স্ট্রীম রোলারের চাপায় পৃষ্ঠ। আজ একটি শিশু জন্ম নিলেই তাকে প্রায় তের হাজার টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে জন্ম নিতে হচ্ছে। অপুষ্টি নিয়ে শিশু জন্মালে যেমন সবল হয়ে বেড়ে ওঠা তার জন্য কঠিন, তেমনি বিশাল ঋণের বোঝা নিয়ে জন্মালে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠা তার জন্য অনুরূপ কঠিন। অনাগত ভবিষ্যতের জন্য আমরা যে ভঙ্গুর অর্থনীতি, গণতন্ত্রের আবরণে স্বৈরতন্ত্র রেখে যাচ্ছি তা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব খোয়া যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। এর দায় ভার সরকারের।

 

 

বাংলাদেশে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে মাথাপিছু ঋন এর পরিমাণ ছিল ১৩,১৬০ টাকা। গত বছরের জুনে অর্থমন্ত্রী ২০১২-২০১৩ অর্থবছরের হিসাব দিয়ে সংসদে বলেছিলেন, বাংলাদেশের জনগণে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১২ হাজার ৭০০ টাকা। এই হিসাবে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৪৬০ টাকা। একটি শিশু প্রায় ১৩,১৬০ টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে জন্ম গ্রহন করছে। বলা হচ্ছে দেশ নাকি নির্ধারিত সময়ের আগেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হচ্ছে। স্বপ্ন দেখানো ভাল কিন্তু স্বপ্ন ভাঙ্গা খুব ভয়ংকর আর মিথ্যা স্বপ্ন দেখানো ভয়ংকর বিপদজনক। বর্তমানে যে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ আরও বেড়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। সরকার ব্যবস্থা যায় হোক আর যেই দলই সরকার হোক এই ঋণ জনগণকেই পরিশোধ করতে হবে। তাই টেকসই গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায় বিচার ও স্থায়ী নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা পারে এই দুরাবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করতে।

 

 

 

লেখকঃ লেখক, কলামিস্ট ও ব্লগার।