আপডেট ২ min আগে ঢাকা, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং, ৩রা কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৬শে মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"Bold","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ জাতীয়

Share Button

চূড়ান্ত যুদ্ধ প্রস্তুতি

| ২১:৪১, আগস্ট ১১, ২০১৭

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক । ১২ আগস্টঃ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কথার যুদ্ধ আরেক ধাপ বাড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, উত্তর কোরিয়াকে ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নিতে ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’ মার্কিন সেনাবাহিনী।

কোরীয় উপদ্বীপকে ট্রাম্প ‘একটা পরমাণু যুদ্ধের’ দিকে ঠেলে দিচ্ছেন পিয়ংইয়ংয়ের এমন অভিযোগের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া যদি অজ্ঞানের মতো কাজ করে, আমাদের সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সামরিক সমাধান এখন আমাদের সামনেই রয়েছে। আশা করছি, কিম জন উন অন্য পথ খুঁজবেন।’ উত্তর কোরিয়ার গুয়াম হামলার পরিকল্পনা প্রকাশ করার পর এ হুমকি দেন তিনি। খবর বিবিসির।

নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে নিজের গল্ফ ক্লাবে বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাচ্ছেন ট্রাম্প। এখান থেকেই টুইট করেন তিনি।

এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়া যদি ‘উল্টাপাল্টা কাজ করে’ তবে তাদের ‘এমন পরিণতি ভোগ করতে হবে’, যা বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি জাতিই প্রত্যক্ষ করেছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘যদি উত্তর কোরিয়া আমরা যাদের ভালোবাসি তাদের ওপর অথবা যারা আমাদের প্রতিনিধিত্ব করি তাদের কিংবা আমাদের মিত্র বা আমাদের ওপর হামলার চিন্তাও করে, তবে তাদের সেটার ফল নিয়ে খুবই আতঙ্কিত হওয়া উচিত।’ কারণ তাদের সঙ্গে যা হবে সেটা তারা কখনও কল্পনাও করতে পারবে না। উত্তর কোরিয়ার জন্য তার আগের হুশিয়ারি ‘খুব সম্ভবত যথেষ্ট কঠোর ছিল না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে অত্যন্ত দুর্বল ছিল এবং চীন ‘আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারত’ বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। উ. কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা যুদ্ধ চায় না মার্কিন প্রশাসন, কূটনীতিতেই আশাবাদ।

তবে ট্রাম্প ধারাবাহিক যুদ্ধের হুঙ্কার দিলেও তার প্রশাসন যুদ্ধকে ভয়াবহ আকারেই দেখছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর কূটনীতির পথেই উত্তর কোরীয় সংকট সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদের কথা জানিয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস দাবি করেছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘ দূতের তত্ত্বাবধানে সেই চেষ্টা চলছে। ওই প্রচেষ্টা ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ম্যাটিস।

যুদ্ধের পরিণতি খুবই ভয়াবহ ও ‘সর্বনাশ’ ডেকে আনবে জানিয়ে বৃহস্পতিবার ম্যাটিস বলেন, তিনি মনে করেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন এবং জাতিসংঘের দূত নিকি হ্যালির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কূটনৈতিকভাবে ফলপ্রসূ হচ্ছে।

এদিকে ট্রাম্প-কিম বাকযুদ্ধ প্রসঙ্গে টিলারসন সম্প্রতি বলেছেন, গত কয়েকদিনের উত্তেজনা নিয়ে তিনি ভাবছেন না। আমেরিকানদের নিশ্চিন্তে রাতে ঘুমিয়ে থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

হোয়াইট হাউসও সাংবাদিকদের ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে খুব একটা মাথা না ঘামানোর পরামর্শ দিয়েছে। ট্রাম্পের এসব মন্তব্যকে অপ্রস্তুত ও অসতর্কমূলক বক্তব্য হিসেবে দেখতে বলা হয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জের ধরে ওয়াশিংটন-পিয়ংইয়ং সম্পর্কে তিক্ততা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা অব্যাহত রাখায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার ওপর কঠোর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জাতিসংঘ।

ওই নিষেধাজ্ঞার কারণে উত্তর কোরিয়ার রফতানি আয় এক-তৃতীয়াংশ কমে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। ক্ষুব্ধ উত্তর কোরিয়া আগস্ট মাসের মাঝামাঝিই যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ গুয়ামে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পরিকল্পনা করছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ।

বিবিসি জানায়, উত্তর কোরিয়ার ওই হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্রের ছোট্ট দ্বীপটির বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র গুয়ামে পৌঁছাতে সময় নেবে মাত্র ১৪ মিনিট।

বৃহস্পতিবার এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে গুয়ামের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা অধিদফতরের মুখপাত্র জেনা গামিন্দে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, এ রকম পরিস্থিতিতে সাইরেন বাজিয়ে দ্বীপের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হবে। তবে দ্বীপটির গভর্নর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি মোকাবেলার সক্ষমতা গুয়ামের আছে বলে জানিয়েছেন।

গভর্নর এডি ক্লাভো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ দ্বীপে সামরিক ঘাঁটি গাড়ার পর থেকেই এটি হামলার লক্ষ্য হয়েছে। আর সে কারণেই আমেরিকার যে কোনো জায়গার তুলনায় এ এলাকাটি সব ধরনের হুমকি মোকাবেলায় অনেক বেশি প্রস্তুত।

এদিকে উত্তর কোরিয়া যদি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলা করে তবে তাদের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া যুদ্ধ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল। তিনি বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলা হয় তবে এএনজেডইউএস (অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র সুরক্ষা) চুক্তি অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় এগিয়ে যাবে।’

সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রুখবে জাপানও। বৃহস্পতিবার দেশটির সংসদীয় কমিটিকে এ কথা জানান জাপানের নবনিযুক্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তা কার্যকর করতে দেশটির বিভিন্ন পয়েন্টে জাপানি সেনারা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিতকরণ যন্ত্রও স্থাপন করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়াকে ‘আগুন নিয়ে না খেলার জন্য’ সতর্ক করেছে চীন। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশকেই সতর্ক করেছে এশিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী এই দেশটি।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম চায়না ডেইলিতে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া- দুই দেশকেই সতর্ক পদক্ষেপ ও সংলাপে অংশ নিতে পরামর্শ দেয়া হয়। দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের হুমকি-পাল্টা হুমকি কখনও ভালো ফল বয়ে আনবে না বলেও ওই সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে চীনের অপর রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস বলেছে, পিয়ংইয়ং যদি পরমাণু হামলা চালায় এবং যুক্তরাষ্ট্র যদি তার জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়, তাহলে চীনের ‘নিরপেক্ষ’ নীতি গ্রহণ করা উচিত।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!