আপডেট ১৭ min আগে ঢাকা, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং, ৩রা কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৬শে মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"Bold","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ জাতীয়

Share Button

ভিডিও কা ফ্রেন্ড নিয়ে কেবিসিতে আসছেন অমিতাভ

| ২২:১৪, আগস্ট ২৬, ২০১৭

বিনোদন ডেস্ক । ২৭ আগস্টঃআবার আসছে কৌন বনেগা ক্রোড়পতি। ২০১৪ সালের পর আবার। বুদ্ধি, জ্ঞান আর বিচার বিশ্লেষণের এই গেম শো নিজেকেও যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলে ফেলছে। এবার প্রথমেই ঠিক করে নেওয়া হয়েছে যে মাত্র ৩০টি পর্বে পাঁচ সপ্তাহ চলবে কেবিসি’র নতুন সিজন। চ্যানেলের সিইও এনপি সিং বললেন,‘ শো-এর মান যেন কোনও অবস্থাতেই না পড়ে আমরা সেই দিকে জোর দিচ্ছি। টাইট শিডিউলে এই শো প্রতি সিজনে দর্শকদের উপহার দিতে চাই।’ দিল্লি, কলকাতা, মুম্বই আর ভূপাল এই চার শহরে অডিশন হয়েছে। এবার ট্যাগলাইনও করা হয়েছে জবাব দেনে কা ওয়াক্ত আ গয়া হ্যায়। এবার কেবিসি অনেক বেশি থ্রিলিং, ফাস্ট, টেকনোলজি সমৃদ্ধ আর হোস্ট হিসেবে অমিতাভ বচ্চনের ক্যারিশমা তো আছেই’, বললেন সোনি এন্টারটেইনমেন্টের ইভিপি দানিশ খান। এবছর কোনও ফিল্মের প্রোমোশন এই শো-এ হবে না। আসছেন না কোনও সেলিব্রিটিও।

এবিসি অব কেবিসি-
এই গেম শো-এর প্রাণভোমরা যে এবারও অমিতাভ স্বয়ং তা সকলের কথাতেই পরিষ্কার। ‘সতরা সাল বেমিসাল। এবি অর্থাৎ অমিতাভ বচ্চনই হচ্ছেন এবিসি অব কেবিসি। সমাজকে যারা বদল করতে সাহায্য করেছেন এরকম কয়েকজনকে এবার এই শো-এ সম্মান জানানো হবে’, বললেন প্রযোজনা সংস্থা বিগ সিনার্জির সিদ্ধার্থ বসু। ‘আমি নিজেও এই শো-এর জন্য অপেক্ষা করে থাকি। দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হয় বলে এই শো আমার কাছে অনেকটা আয়নার কাজ করে। কোটি টাকা তো নেহাত কম কথা নয়। একজন মানুষের জীবন বদলে দেয়। আমিও এই পরিবর্তনের অংশ এটা আমাকে অদ্ভুত তৃপ্তি দেয়’, বলছেন শাহেনশা।

 

বদলের ক্রোড়পতি-
যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলে যাচ্ছে কেবিসি’র লাইফলাইনও। যদিও বদল এবারই প্রথম হচ্ছে এমন নয়। ‘ফ্লিপ আ কোয়েশ্চেন’ বা ‘এক্সপার্ট প্যানেল’-এর মতো ইন্টারেস্টিং লাইফলাইন আগেও এসেছে। হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুকের রমরমার সময়ে ‘ফোন আ ফ্রেন্ড’-এর নতুন সংস্করণ ‘ভিডিও আ ফ্রেন্ড’। হট সিটে বসে অংশগ্রহণকারী এবার সরাসরি পছন্দসই মানুষকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতামত নিতে পারবেন। সেই সঙ্গে টিভির পরদায় সাহয্যকারী বন্ধুকে দেখতে পাবে আসমুদ্রহিমাচল। থাকবে নিজের পছন্দের কাউকে নিয়ে এসে ‘জোরিদার’ লাইফলাইন নেওয়ার সুযোগ। জিও ফোন ব্যবহারকারীদের ঘরে বসে খেলার অপশনও দিচ্ছে কেবিসি। সেটা কিরকম? টেলিভিশনের দর্শকদের কাছে কেবিসি’কে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে এবার। দর্শকদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে ‘play along’। জিও চ্যাট ব্যবহারকারীর কাছে স্ক্রিনে ফুটে উঠবে চারটে অপশন। ঘরে বসে উত্তর দিয়ে জ্যাকপট জয়ের পাশাপাশি থাকছে প্রতিদিন গাড়ি জেতার সুযোগ। কেবিসিতে দেখা যাবে না ঢাউস ঢাউস চেকও। তার বদলে এবার পুরস্কার অর্থ মিলবে সরাসরি অ্যাকাউন্টে।

 

নস্ট্যালজিক অমিতাভ-
দেখতে দেখতে ১৭টা বছর পেরিয়ে গেল। এই তো মনে হচ্ছে সেদিন জার্নিটা শুরু হল। একটা জিনিস সবসময় মাথায় রেখেছি। প্রতিযোগীদের যেন মনে হয় অমিতাভ তাঁদের নিজের ঘরে আপ্যায়ন করছেন। এদের অনেকের ঘটনাই আমাকে নানাভাবে উদ্ধুদ্ধ করেছে। দেশের কোন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে তাঁরা আসছেন, কত কঠিন হার্ডেল টপকে এই মঞ্চে আসার সুযোগ করে নিয়েছেন, তাঁদের দুঃখ জয়ের কাহিনি শুনে অনেকসময় আমার গায়ে কাঁটা দিয়েছে। মনে হয় আমি কিছুই করে উঠতে পারিনি। আমার স্ট্রাগল তো নেহাতই মামুলি। অনেক আশা নিয়ে বিভিন্ন মানুষ নানা প্রতিকুলতা ডিঙিয়ে এখানে খেলতে আসছেন। তাঁরা যাতে নিরাশ না হয়ে পড়েন সেটাও লক্ষ রাখার চেষ্টা করি।
এই কেবিসি করার সময় ২০০০ সালেই আমি টিবিতে আক্রান্ত হই। পিঠে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়েছিল এই সেটে বসেই। মেরুদন্ডে টিবি ধরা পড়ে। সঠিক সময়ে ধরা পড়ার জন্য সে যাত্রায় বেঁচে যাই। ২০০৫ সালে হেপাটাইটিস বি ধরা পড়ে। সেটাও কেবিসি’র শ্যুটং চলাকালীন। কুলি ছবির দুর্ঘটনার সময় আমার প্রচুর রক্তপাত হয়েছিল। তখন আমাকে প্রায় ২৫০ জন রক্ত দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে কোনও একজনের থেকে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস আমার শরীরে প্রবেশ করে। অস্ট্রেলিয়ান অ্যান্টিজেন ভাইরাস সেই থেকে আমার লিভার নষ্ট করতে শুরু করে। ২০০৫ সালে একটি টেস্টে ধরা পড়ল আমার ৭৫% লিভারই নষ্ট। এখন আমার শুধু ২৫% লিভার নিয়ে কাজ করছি। এগুলোই আমি মানুষকে জানাতে চাই যে সময় থাকতে থাকতেই সচেতন হতে হবে।

 

কেবিসিই আমার লাইফলাইন- 
এবার কেবিসি’র শর্ট সিজন নিয়েও সোজাসাপটা অমিতাভ। তিনি এই সিজনের ব্যাখ্যা দিলেন একটা শায়েরি দিয়ে। সনসাইয়ো কো দোহরা যায়ে নাবক কে তির / দেখনে মে ছোটা লাগে ঘায়ে করে গম্ভীর। পুরাণের এক তীর নির্মাতা খুব ছোট ছোট তীর তৈরি করতেন। কিন্তু সেই তীরের আঘাত এমনই ছিল যে ঘা অনেকদিন থেকে যেত। প্রত্যেকবার এই একই শো-এর সঞ্চালনা করতে একঘেয়ে লাগে না। অমিতাভ বলছেন,‘এই মানুষদের জীবনের নানা ঘটনা আমি সংবাদপত্র বা টিভি থেকেও জানতে পারি। কিন্তু এই মানুষগুলোর সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, তাঁদের সঙ্গে হাত মেলানো এগুলো আমাকেও শিহরিত করে। একটা ঘটনার কথা বলি। একটি মেয়ে এই মঞ্চে খেলতে এসে ২৫ লক্ষ টাকা জিতেছিল। মেয়েটার বিয়ে ঠিক বলে বাবা আর পড়তে দিতে চাননি। বলেছিলেন, বিয়ে হয়ে যাবে আর তোমার উপর পয়সা খরচ করে কী হবে? আমি মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এত টাকা জিতে এবার কী আপনি পড়বেন? তখন মেয়েটি বলেছিল, আমার জন্য বাবা টাকা খরচ করতে চাননি তো। আমি এই টাকা নিয়ে বাবাকে দেখিয়ে দিতে চাই যে মেয়েরাও চাইলে রোজগার করতে পারে। চোখে জল এসে গিয়েছিল উত্তর শুনে। আমি প্রতিযোগীদের লাইফলাইন দিই তো। এক অর্থে কেবিসি কিন্তু আমার লাইফলাইন।

 

রসিক বচ্চন-
অমিতাভ হট সিটে বসার সুযোগ পেলে কাকে জোড়ি নেবেন? শাহেনশা একটুও না ভেবে জবাব দিলেন,‘আমি তো চাইব সিদ্ধার্থই সাহায্য করুক। কারণ সব প্রশ্নের উত্তর ওই জানে।’ নিজে কবে কোটি টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেখেছেন এই প্রশ্নেও ঘাবড়ালেন না বিগ বি। তাঁর সহাস্য জবাব, আমার সেটা ঠিক মনে নেই। কিন্তু এখন রাইট টু ইনমরমেশন-এর যুগ। আপনি ইনকাম ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টের কাছে খবর নিতে পারেন। আমি অনেকবার সিদ্ধার্থকে বলেছি কেন আমাকে এই প্রশ্নটা করতে বলো? আমার প্রশ্নটা করতে অস্বস্তি হয়। সিদ্ধার্থ বলে, এটাই ফরম্যাট। আমরা এরা বাইরে যেতে পারব না। তবে কোটি টাকা জিতে মানুষ অদ্ভুত আচরণ করে। কেউ সেটে ছুটতে শুরু করে দেয়। কেউ আমাকে উঠে প্রণাম করতে থাকে, কেউ আনন্দে গান গায়, অনেককে জলের বোতল খুলে মাথায় ঢালতেও দেখেছি। আমিও হয়তো সেরকমই কিছু করেছিলাম। কেবিসি’র ঝুলিতে আর কী কী আছে তা দেখা যাবে আজ থেকেই রাত ৯ টায়।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!