বাংলাদেশে নারী ও শিশুর শ্লীলতাহানি নতুন মাত্রা পেয়েছে: বিশ্লেষকের অভিমত

প্রকাশিত: ১১:০২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৬, ২০১৮ | আপডেট: ১১:০৩:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৬, ২০১৮

 

কাজী আবদুর রশীদ । ঢাকা ।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিককালে নারী ও শিশুর শ্লীলতাহানি যেন নতুন মাত্রা পেয়েছে। সেইসঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিভৎসতা। সাম্প্রতিক ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, গণধর্ষণ, ধর্ষিতার আত্মহত্যার ঘটনায় উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত, শিশু থেকে তরুণী-প্রৌঢ়া-প্রতিবন্ধীসহ সব বয়সি নারীই নৃশংসতার শিকার হচ্ছেন। কিন্তু এসব ঘটনায় অধিকাংশ অভিযুক্তই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট ১৮৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার হন। এরমধ্যে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ১৯জনকে। ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেন দু’জন এবং ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় ২১ নারীকে। এছাড়া যৌন হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন ২৭ জন।

এদিকে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম বলছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সারাদেশে ১৭৬ শিশু ধর্ষিত হয়েছে। এরমধ্যে গণধর্ষণ করা হয়েছে ২০ জনকে আর ধর্ষণের পর ২৫ জনকে হত্যা করা হয়। এছাড়া ২১ শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। রেহাই পায়নি প্রতিবন্ধী শিশুরাও। গেলো তিন মাসে আটজন প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষিত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মানবাধিকারকর্মী ও নিজেরা করি সংস্থার সমন্বয়কারি খুশি কবির বলেন, এমন ঘটনা আগেও ঘটতো কিন্তু রিপোর্টেড হতো না। এখন মানুষের সচেতনতার কারণে বেশি করে উঠে আসছে। তাছাড়া আগের চেয়ে ধর্ষণের ঘটনাও বেড়েছে। যা শুধু ইদানিং নয়, আগে থেকেই চলছে। কিন্তু এসব ঘটনার দ্রুত ও যথাযথ বিচার হচ্ছে না, অপরাধী পার পেয়ে যাচ্ছে। যার ফলে এমন অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। তাই দ্রুততম সময়ে সরকারকে দ্রুত কঠোর দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। থানা বা আদালতে যথাযথভাবে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সামাজিকভাবে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

আইন সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ৮১৮ নারী ধর্ষিত হয়েছেন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৪৭ জনকে। আত্মহত্যা করেন ১১ জন। আর ২০১৬ সালে ৭২৪ জন নারী ধর্ষণের শিকার হন। এরমধ্যে হত্যা করা হয় ৩৭ জনকে; আত্মহত্যা করেন আটজন।

শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য, ২০১৭ সালে মোট ৫৯৩ শিশু ধর্ষিত হয়। এরমধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয় ৭০ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ২২ শিশুকে। ২০১৬ সালে ৪৪৬ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ৬৮ জন গণধর্ষণের শিকার হয়। আর ২১ শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।

আর সরকারি তথ্যমতে, ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনায় ১৭ হাজার ২৮৯ টি মামলা হয়েছে। একই সময়ে ৩ হাজার ৪৩০টি মামলার বিচার শেষ হয়েছে। যা হতাশাজনক বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।