সাংবাদিক আরিফ ইসলামের অসময়ে চলে যাওয়া সাংবাদিকতার অপূরনীয় ক্ষতি

প্রকাশিত: ১০:০৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০১৮ | আপডেট: ১০:০৭:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০১৮

শওকত আলী শরীফ

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের বার বার নির্বাচিত সাবেক সাধারন সম্পাদক এনটিভির সাবেক ফরিদপুর প্রতিনিধি, দৈনিক আমার দেশ এর ফরিদপুর প্রতিনিধি এবং জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল আমার ফেিরদপুর ও আমার বাংলার প্রধান সম্পাদক আরিফ ইসলাম চলে গেলেন না ফেরার দেশে। তার এই অসময়ে চলে যাওয়ায় ফরিদপুরের সাংবাদিকতার এক অপুরনীয় ক্ষতি হল যা সহজেই পুরন হবার নয়।
১৯৯২ সালে আমি যখন রাজেন্দ্র বিশ^বিদ্যালয় কলেজে ডিগ্রিতে ভর্তি হই তখন থেকে দেখে আসছি আরিফ ভাই সাংবাদিকতার সাথে জড়িত তখন তিনি ছিলেন দৈনিক আজকের প্রত্যাশার ফরিদপুর প্রতিনিধি। আরিফ ইসলাম এবং আমার বন্ধু (আমরা একসাথে রাজেন্দ্র কলেজে পড়তাম) ওয়াহিদ মিল্টন এই দুই জনের হাত ধরেই ফরিদপুরের সাংবাদিকতার এক নতুন দিগন্তের সুচনা হয়। কিছু উদ্যোমী তরুন যুবক সাংবাদিকতায় আসে তরাই এখন ফরিদপুরের প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক। আরিফ ভাই যেহেতু নগরকান্দার ছেলে তাই তার সাথে আমার আগেই পরিচয় ছিল । আর বাবা নগরকান্দা গ্রামের মরহুম আঃ সালাম মিয়া নগরকান্দা ভুমি অফিসে চাকুরী করতেন।
আমি তখনও সাংবাদিকতা শুরু করিনি তবে ফরিদপুরে গেলেই জনতা ব্যাকের মোড়ে সাংবাদিক আরিফ ও মিল্টনের নেতৃত্বে পরিচালিত ফরিদপুর জেলা প্রেসক্লাবে বসতাম । তখন আরিফ ভাই সহ জেলা প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্যদের সাথে কথা হত। ১৯৯৫ সালে আমি দৈনিক দিনকালের নগরকান্দা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করার পর আরিফ ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ আগের চেয়ে আরো বৃদ্ধি পেল। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে দৈনিক আমার দেশ প্রকাশিত হলে আরিফ ভাই জেলা প্রতিনিধি হলেন এবং আমি নগরকান্দা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেলাম। একই পত্রিকার কাজ করা এবং একই এলাকায় বাড়ী হওয়ার সুবাধে তার সাথে আমার অন্তরঙ্গতা দিন দিন বাড়তে থাকল। আমি নগরকান্দা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক হিসেবে এবং নগরকান্দা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে নগরকান্দায় যতগুলি অনুষ্ঠান করেছি তার প্রতিটিতে আরিফ ভাই অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আমাদেরকে উৎসাহ অনুপ্রেরনা দিয়েছেন। কয়েকবছর আগে ঢাকায় চলে যাওয়ার পর ও নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তার প্রতিষ্ঠিত আমার ফরিদপুর নিউজ পোর্টলের সাথে শুরু থেকেই জড়িত ছিলাম নিয়মিত লেখে গেছি সংবাদ ফিচার সহ অন্যান্য কিছু।
আরিফ ভাই নেই একথাটা বিশ^স করতে আমার খুব কস্ট হচ্ছে । আল্লাহ রব্বুল আলামিন বড় অসময়ে নিয়ে গেলেন আমাদের প্রিয় আরিফ ভাইকে। আরিফ ভাইয়ের এই অকালে চলে যাওয়ায় ফরিদপুরের সাংবাদিকতার এক অপুরনীয় ক্ষতি হল যা সহজে পুরন হবে বলে আমি বিশ^স করি না। সাংবাদিকতায় আমার অভিজ্ঞতা প্রায় দুই যুগের বেশী। তারপর ও বড় ভাইয়ের মত আমার নিউজে ভুল ত্রুটি থাকলে ফোন করে বলতেন। আজকের ফরিদপুর নামে আমার একটা নিউজ পোর্টাল আছে এ ব্যাপারে আমাকে নিয়মিত পরামর্শ দিতেন। এখন হয়ত কেউ আর আমাদেরকে পরামর্শ দিবে না ফোন করে বলবে না ভাইয়া কেমন আছো ?
ফরিদপুর জেলা শহুরে বসবাসকারী সাংবাদিকরা আরিফ ইসলামকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন জানিনা তবে আমরা ফরিদপুরের ৯ টি উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা আরিফ ইসলামকে একজন সুযোগ্য অভিভাবক মনে করতাম। আর সেই অভিভাবককে হারিয়ে আমরা আজ শোকাহত। আরিফ ইসলাম কয়েকবার ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন নিজের যোগ্যতা দিয়ে কোন মন্ত্রী ,এম পি বা রাজনৈতিক নেতার দয়ায় তিনি নির্বাচিত হননি। অত্যন্ত দুঃক্ষের বিষয় আজ যখন আরিফ ভাই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন তখন তিনি যে প্রেসক্লাবে বার বার সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সেই ফরিদপুরের প্রেসক্লাবের সাধারন সদস্যও না এটা ভাবতে অবাক লাগে। অথচ ফরিদপুর প্রেসক্লাবে বর্তমানে অনেক সদস্য আছেন যারা জীবনে একটি সংবাদ লেখেন নি এমনও সদস্য আছেন লড়ঁৎহধষরংঃ শব্দ অর্থ সহ লিখতে পারবেন না । পরিশেষে আল্লাহ রব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা তিনি যেন আমাদের আরিফ ভাইকে জান্নাত নছিব করেন এবং তার স্ত্রী সন্তানকে এ শোক সইবার তৌফিক এনায়েত করেন আমিন।

 

(ফিচার লেখক- শওকত আলী শরীফ
সভাপতি ,নগরকান্দা উপজেলা প্রেসক্লাব ও সম্পাদক সাপ্তাহিক আল-মোয়াজ্জিন) ।