আপডেট ১৭ ঘন্টা আগে ঢাকা, ২৮শে মে, ২০১৮ ইং, ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১২ই রমযান, ১৪৩৯ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ অর্থ-বণিজ্য

Share Button

রমজান ও ঈদ টার্গেট:ভেজাল পণ্য তৈরির শতাধিক কারখানা

| ০৭:৪৭, মে ১৫, ২০১৮

নুরুল আমিন ও ইয়াসিন রহমান  ১৫ মে ২০১৮

 

রমজান ও ঈদকে টার্গেট করে ভেজাল পণ্য তৈরি করে সারা দেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে অসাধু চক্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে রীতিমতো কারখানা বানিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এসব পণ্য।

শুধু রাজধানীতেই ভেজাল পণ্য তৈরির এমন শতাধিক কারখানা চিহ্নিত করেছে র‌্যাব-পুলিশ। শিগগিরই চিহ্নিত এসব কারখানায় অভিযান চালাবেন র‌্যাব-পুলিশের ভ্রাম্যমাণ আদালত। র‌্যাব-পুলিশ ও বিএসটিআই সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, রমজানের শুরু থেকেই খাবারজাত পণ্য ভেজাল করতে শুরু করে অসাধু চক্রের সদস্যরা। রাজধানীর অনেক এলাকায় স্থানীয় থানা পুলিশ ও বিএসটিআই’র কর্মকর্তাদের মাসোয়ারা দিয়ে কারখানায় ভেজাল পণ্য তৈরি করে তারা। মানহীন, স্বাস্থ্যহানিকর এসব পণ্যের বাজারজাতও চলে প্রকাশ্যে।

নকল কারখানায় উৎপাদিত খাদ্য ও প্রসাধনসামগ্রীগুলো আকর্ষণীয় মোড়কে মোড়কীকরণ করে রাজধানীসহ সারা দেশে বাজারজাতও হচ্ছে। ফলে র‌্যাব-পুলিশের ভ্রাম্যমাণ আদালত ভেজাল রোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারছেন না।

তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আদালতের নিয়মিত অভিযানের ফলে ভেজাল পণ্য তৈরির অনেক কারখানা বন্ধ রয়েছে, অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম  বলেন, রমজান ও ঈদকে টার্গেট করে বরাবরই ভেজাল চক্রের সদস্যরা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। তাই ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে রমজানের শুরু থেকেই কঠোর অভিযানে নামছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযানে দুটি বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হবে। তা হল- ভেজাল ও অতিরিক্ত মূল্য। কেউ এ ধরনের অপরাধে জড়ালে অপরাধ বিবেচনায় প্রয়োজনে বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। মৌসুমি ফলে রাসায়নিক প্রয়োগকারীদেরও ছাড় দেয়া হবে না।

ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মশিউর রহমান বলেন, ভেজাল ও পণ্যের অতিরিক্ত মূল্যের বিরুদ্ধে মাসব্যাপী অভিযানে নামবে ডিএমপি। রাজধানীকে চার জোনে ভাগ করে ৩০টি টিম কঠোর অভিযানে নামবে।

সরেজমিন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু রমজানকে সামনে রেখে রাজধানীসহ সারা দেশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য কারখানা। এসব কারখানায় তৈরি হচ্ছে নকল, মানহীন-অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাংলা সেমাই, লাচ্ছা সেমাই, নুডলস, ঘি, হলুদ, মরিচ, মসলা, বেসন, আটা, ময়দা, ভোজ্য তেল, পাউরুটি, কেক ইত্যাদি।

কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর নানা উপকরণ, রাসায়নিক দ্রব্য ও রাসায়নিক রং মেশানো হচ্ছে এসব পণ্যে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে, আবার কোথাও তাদের ম্যানেজ করে, কৌশলে বাইরে তালা ঝুলিয়ে নোংরা পরিবেশে উৎপাদন করা হচ্ছে ভেজাল পণ্য।

আর এসব পণ্য বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের লেবেল লাগিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে সারা দেশে। বিএসটিআই’র তথ্যে জানা যায়, দেশে সরকারি অনুমোদিত কারখানার চেয়ে বহুগুণ বেশি রয়েছে ভেজাল পণ্য তৈরির কারখানা।

পুরান ঢাকার চকবাজার, মৌলভীবাজার, বড়কাটরা, সদরঘাট, বাবুবাজার, মিটফোর্ড, রহমতগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, হাজারীবাগ, কোতোয়ালি, ইসলামবাগ, বংশাল, শ্যামপুর, কদমতলী, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, সূত্রাপুর, পোস্তগোলা, ধোলাইখাল, ফরিদাবাদ, ইসলামপুর, সোয়ারীঘাট, দেবীদাস লেন, কামালবাগ, শহীদনগর, উত্তরার উত্তরখান, দক্ষিণখানে নকল কারখানার ছড়াছড়ি রয়েছে। টঙ্গীসহ রাজধানীর পার্শ্ববর্তী জেলার বেশ কয়েকটি জায়গায় ভেজাল পণ্য তৈরির কারখানা রয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিতে বিভিন্ন উদ্যোগ : এদিকে রমজান ও ঈদে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিতে মাঠে থাকবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক যুগান্তরকে বলেন, রমজানে অসাধু ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফার লোভে ভোক্তাদের কাছে অনিরাপদ ও ভেজাল খাদ্য সরবরাহ করে, যা কখনও কাম্য না। কিন্তু আমরা বসে নেই। ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ সারা দেশে একাধিক বিশেষ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজানে ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রি করলে নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এর আওতায় শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। অপরাধের পরিধি মেপে করা হবে জেল ও জরিমানা।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরিচালক মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, রমজান ঘিরে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে খাদ্যদ্রব্যে নিরাপত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করেছি। প্রথম অবস্থায় এসব ঝুঁকি মোকাবেলায় ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করছি।

দৈনিক পত্রিকায় বিভিন্ন ধরনের জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে প্রচার করছি। এছাড়া জেলা ও উপজেলায় বাজার, দোকানপাট, পাড়া-মহল্লায় মাইকিং করছি। ব্যবসায়ী ও ভোক্তা সচেতনতা বাড়াতে একাধিক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে যাচ্ছি।

কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগ আসলেই প্রশংসনীয়। তবে ভোক্তার স্বার্থে এ উদ্যোগ যথাযথ উপায়ে ভোক্তাবান্ধবভাবে পরিচালনা করতে হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!