আপডেট ৩ ঘন্টা আগে ঢাকা, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ জাতীয়

Share Button

নতুন কৌশলে সেই চক্র, টার্গেট মমেক হাসপাতালের পরিচালক

| ১৮:০৮, মে ২২, ২০১৮

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

হাসপাতালের ভেতরের ওয়ার্ডে অনাকাঙ্খিত রোগীর চাপ কমিয়ে তড়িৎ গতিতে সব ধরণের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করে দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের ২৪ ঘন্টার ওয়ান স্টপ সার্ভিস। কিন্তু সার্ভিস চার্জের দোহাই দিয়ে এ সেবাই বন্ধ করে দিতে নতুন মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে সুবিধা বঞ্চিত একটি চক্র। তারাই হাসপাতালটিকে অস্থির করে তোলতে অব্যাহতভাবে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।

মূলত ওই সিন্ডিকেটের টার্গেট ‘রোগী বান্ধব’ হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিনকে বদলী করে হাসপাতালে নিজেদের বাণিজ্য রমরমা করা। সুকৌশলে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের যবনিকাপাত ঘটিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের আগের মতোই ‘সুদিন’ ফিরিয়ে আনা। হাসপাতালটির একাধিক চিকিৎসক ও কর্মকর্তা নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এসব অভিযোগ করেছেন।

এদিকে, ওয়ান স্টপ সার্ভিস নিয়ে ওই চক্রের অপপ্রচারের জবাবে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা এখানে বিভিন্ন সেবা মূল্যের ওপর সার্ভিস চার্জের বিষয়টিও খোলাসা করেছেন। তারা জানিয়েছেন, সব ধরণের সেবা মূল্য ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ওপর সার্ভিস চার্জ এ হাসপাতালে চালু হয়েছে ২০০০ সাল থেকেই।

উল্টো বর্তমান হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব নিয়েই এ সার্ভিস চার্জ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে ২০১৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর চিঠিও দিয়েছিলেন। তখন সব বিভাগের বিভাগীয় প্রধানরাই এ সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তি তুলেছিলেন।

অন্তত হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১০ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ নেয়ার দাবি তুললে সার্বিক দিক বিবেচনা করেই হাসপাতাল পরিচালক এ চার্জ বহাল রাখেন।’

হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখার দায়িত্বশীল একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, ২০১৭ সালের ০৩ আগষ্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সব সদস্যের মতামতের ভিত্তিতেই রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মেটাতে সার্ভিস চার্জের এ বিষয়টি অনুমোদন করেন কমিটির সভাপতি, সদর আসনের সংসদ সদস্য বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ।

ওই সূত্রের ভাষ্য মতে, সার্ভিস চার্জের পুরনো প্রথাকে নতুন অবয়ব দিয়ে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে হাসপাতাল পরিচালকের গায়ে দুর্নীতির কলঙ্ক তিলক এঁটে দিয়ে তাকে নাস্তানাবুদ করতেই মূলত মিমাংসিত একটি বিষয়কে সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে। আর এজন্যই পরিকল্পিতভাবে তথ্য বিকৃতি ও ফাঁদ পেতে পরিচালককে হীন কৌশলে ঘায়েল করে এ পদ থেকে সরিয়ে দিতেই কেন্দ্রীয় এক চিকিৎসক নেতা, তাঁর ক্ষমতাধর যুবলীগ নেতা ছোট ভাই, স্থানীয় বিএমএ নেতা, বদলি হওয়া দুর্নীতিবাজ ও বিতর্কিত দুই কর্মচারী ‘গাঁটছড়া’ বেঁধেছেন।

বহুল আলোচিত এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন বিভিন্ন ক্লিনিক ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের মালিক, ওষুধ, খাদ্য মালামাল সরবরাহকারী ঠিকাদার, দালাল ও ওষুধ কোম্পানির কথিত রাঘব-বোয়ালরা।

জনবলের ঘাটতি কমেছে, গতি এসেছে চিকিৎসা সেবায়

সূত্র মতে, সরকারি জনবলে বিশাল রোগীর চাপ সামলাতে বরাবরই হিমশিম খেয়েছে ৫৫ বছর আগের প্রতিষ্ঠিত এ হাসপাতালটি। ফলে জনবলের ঘাটতি কমিয়ে চিকিৎসা সেবায় গতি আনা ও গরিব রোগীদের কাঙ্খিত সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি নিয়ম মেনে ২০১৬ সালের মার্চ মাসের দিকে আউটসোর্সিং চালু করেন হাসপাতাল পরিচালক।

প্রথমে সরকারিভাবে ৭৩ জনকে চুক্তিভিত্তিক জনবল নিয়োগ দেয়া হয়। এ ৭৩ জনের বেতন দিয়ে সেই সময়ে কমপক্ষে আরো ৭৭ জনের বেতনের ব্যবস্থা করা হয়। প্রতি কর্মীকে ৭ হাজার টাকা করে বেতন দেয়া হয়। হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ ফান্ড থেকে তাদের এ টাকা দেয়া হয়।

হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখার ওই সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে এসে হাসপাতালের সকল বিভাগের চাহিদা হিসাব করে ২৫০ জনের মতো জনবল নিয়োগ করা হয়। হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য ৭০ জন আনসার সদস্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে আউটসোর্সিং থেকে ২০ জন আনসারকে মাসিক ১৫ হাজার টাকা করে বেতনের ব্যবস্থা করা হয়। একই সঙ্গে তাদের ঈদ বোনাস ও অন্যান্য সরকারি ভাতাও প্রদান করা হয়।

একই সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালের ৪০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে প্রতি মাসে ১২ হাজার টাকা করে বেতন দেয়া হচ্ছে। এছাড়া ১৩ জন অন্যান্য কর্মী ১৪ হাজার ৯০০ টাকা করে বেতন পাচ্ছেন। বাকী ৩’শ পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ৬ হাজার টাকা করে বেতন দেয়া হয়।

হাসপাতালের নিজস্ব ফান্ড থেকে ৭০ জনের বেতন এবং আরো ৭০ জনের বেতনের অংশ বিশেষ হাসপাতাল ও ক্লিনিং সার্ভিস (৬ হাজার টাকা প্রতিজন) থেকে দেয়া হচ্ছে। সব টেকনেশিয়ানদের বেতন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই বহন করছে।

হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, দিন-রাত ২৪ ঘন্টা হাসপাতালে সব ধরণের রোগীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে মাস ছয় আগে চালু হওয়া ওয়ান স্টপ সার্ভিসে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ১৪ জন চিকিৎসককে। টেকনেশিয়ান ও সাপোর্ট স্টাফদের প্রত্যেককে ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা করে বেতন দেয়া হয়। একজন চিকিৎসকে ৬০ হাজার এবং বাকী চিকিৎসকদের ২০ হাজার টাকা করে গত মাস থেকে বেতন দেয়া হচ্ছে।

এক্ষেত্রে হাসপাতালের নিজস্ব রক্ষণাবেক্ষণ ফান্ড থেকে ১৪ জন চিকিৎসক ও ১৪০ জন কর্মচারী (টেকনিশিয়ান ও সাপোর্ট স্টাফ) প্রায় ৮ লাখ টাকার মতো বেতন দেয়া হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওয়ান স্টপ সার্ভিসের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার থেকে ১০ পার্সেন্ট রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ কেটে রাখছে বেতন ও রিএজেন্ট বাবদ। এটি হাসপাতালের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদনেই করা হচ্ছে।

কেনা হয়েছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি

দায়িত্বশীল ওই সূত্রটি জানায়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়েই ৪৮ লাখ টাকায় তিনটি আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন কিনেছে। দু’টি সিআর মেশিনকে ডিজিটাল এক্সরে মেশিনে রূপান্তরিত করতে চারটি ফ্ল্যাট প্যানেল ডিটেক্টর ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা হয়েছে। আর এটি কেনা হয়েছে চুক্তিতে। ইতোমধ্যে ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকী টাকা আরো ৮ কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে।

সূত্র মতে, ওই টাকাতেই চারটি বায়োকেমেস্ট্রি এনালাইজার প্রতিটি ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা করে কেনা হয়েছে। এছাড়া ছোটখাটো আরো অনেক যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে বিধি মেনে, কমিটি ও নোটশিটের মাধ্যমে। সার্ভে কমিটির মাধ্যমে প্রতিটির অডিটও করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, প্রতিষ্ঠার ৫২ বছরের মাথায় ‘রোগী বান্ধব’ পেশাদার, দক্ষ ও নিষ্ঠাবান এক পরিচালক পেয়েছে এ হাসপাতাল। নিজের দায়িত্ব পালনের মাত্র আড়াই বছরেই পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন নতুন ভাবনা চিন্তার সফল প্রয়োগ ঘটিয়ে বিভিন্ন সেবা চালু করে, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনে, রোগীদের জন্য শতভাগ ওষুধের ব্যবস্থা ও খাবারের মান্নোয়ন ঘটিয়ে, দালাল ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিমুক্ত করাসহ দিনের পর দিন ঘাপটি মেরে থাকা সব সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে এ হাসপাতালকে দেশের চিকিৎসা সেবায় একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ পরিচালকের কার্যকরী বিভিন্ন সিদ্ধান্তে নগরীর ছোট-বড় অনেক ক্লিনিকের ব্যবসায় ‘লাল বাতি’ জ্বলেছে। বন্ধ হয়েছে অনেক ফার্মেসী। বৃহত্তর ময়মনসিংহের ৬ জেলার পাশাপাশি সিলেট, সুনামগঞ্জ, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত রোগীরা এ হাসপাতালে ভিড় করছেন।

হাসপাতাল থেকে সরবরাহকৃত এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আগে এ হাসপাতালে গড়ে ১ হাজার ৩’শ থেকে ১ হাজার ৫’শ জন রোগী ভর্তি থাকতো। এখন ২ হাজার ৫’শ থেকে ২ হাজার ৭’শ রোগী ভর্তি হচ্ছে। বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ হাজার রোগী আসছে। জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপে আসছে ৪’শ থেকে ৫’শ রোগী।

 

রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড

হাসপাতাল পরিচালকের বলিষ্ঠ ও গতিশীল নেতৃত্বেই রাজস্ব আয়েও বিরল কীর্তি অর্জন করেছে এ হাসপাতাল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০১২-১৩ সালে এ হাসপাতালের রাজস্ব আয় ছিল ৩ কোটি টাকা, ২০১৪-১৫ সালে ৪ কোটি টাকা, ২০১৫-১৬ সালে ৬ কোটি টাকা ও ২০১৬-১৭ সালে ৮ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। ২০১৭-১৮ সালে ১২ কোটি টাকার মতো রাজস্ব আয়ের বিষয়ে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মূলত এসব কারণেই হাসপাতাল পরিচালকের ওপর ক্ষুব্ধ চিকিৎসক, ক্ষমতাসীন দলের এক নেতাসহ ক্লিনিক ব্যবসায়ী-মালিকদের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।

 

কোন রক্তচক্ষুর কাছে মাথা নোয়াবো না

হাসপাতাল ও নিজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন বলেন, ‘হাসপাতালের সেবার পরিবেশ বিনষ্ট করতেই একটি চক্র দীর্ঘদিন যাবত ষড়যন্ত্র করে আসছে। ব্যবসা লাটে ওঠা অনেক ক্লিনিক ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের মালিক ও হাসপাতালের কতিপয় চিকিৎসক তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। যতই ষড়যন্ত্র হোক আমি হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঙ্গে নিয়েই আমার স্টাইলেই সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যেতে চাই। যতদিন দায়িত্বে আছি, কোন রক্ত-চক্ষুর কাছে মাথা নোয়াবো না।’

 

নিজেদেরছকবাস্তবায়ন করছে সিন্ডিকেট

সময়ে সময়ে ‘রোগী বান্ধব’ পরিচালককে সরিয়ে দেয়ার গুজব ছড়িয়ে কার্যত ভেতরে ভেতরেই শক্তিশালী হয়ে ওঠেছে ক্ষমতাধর সিন্ডিকেটটি। আর এজন্য তারা নিজেদের পছন্দের চিকিৎসকদের দায়িত্বশীল পদে ফিরিয়ে এনে হাসপাতালের চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ‘ছক’ বাস্তবায়নে খিস্তিখেউর করে বেড়াচ্ছে।

একই সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফিরে এসেছেন মেডিসিন বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক হরিমোহন পন্ডিত নিউটন। এডহক ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েও নিয়ম ভঙ করে সার্জারী বিভাগের আবাসিক সার্জন (আরএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জাকির। অথচ এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া অন্য চিকিৎসকদের পঞ্চম গ্রেড পাওয়ার নজির নেই।

দায়িত্বশীল একটি সূত্রের তথ্যমতে, হাসপাতালের মেডিসিন ও কার্ডিওলজি বিভাগে বিভিন্ন সময়ে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে হাজার হাজার টাকার পরীক্ষা পাঠিয়ে কমিশন পেতেন সিন্ডিকেটের ‘সুনজরে’ থাকা ওইসব চিকিৎসকরা। কিন্তু হাসপাতালেই সব সেবা নামমাত্র মূল্যে চালু থাকায় তাদের মাথায় হাত পড়েছে। তাদের নিজস্ব আয় কমেছে। ফলে সার্ভিস চার্জের দোহাই দিয়ে বিভিন্ন রকমের খোড়া যুক্তি দেখিয়ে চলছেন তারা।

একই সূত্র জানিয়েছে, ক’দিন আগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পাওয়া চিকিৎসক আবুল হোসাইন কেন্দ্রীয় চিকিৎসক নেতা ও তার ছোট ভাই’র ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশক্রমে অন্ত:বিভাগীয় বদলীর জন্য সপ্তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের বদলীর জন্য গঠিত ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির একজন তিনি। ফলে ওই যুবলীগ নেতাকে ‘তোয়াজ’ না করা সিন্ডিকেট বিরোধী প্রায় ৩ শতাধিক চিকিৎসক ভেতরে ভেতরে বদলী আতঙ্কে ভুগছেন।

ওই সূত্র দাবি করেছে, কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে সেই চিকিৎসক যোগ দেয়ার পর পরই কেন্দ্রীয় ওই চিকিৎসক নেতার ছোট ভাই বেশ হাঁকডাক মেরে কেক কেটে তাকে বরণ করে নিয়েছেন। আবার নিজেরাই জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ছবি ভাইরাল করার মধ্যে দিয়ে প্রকারান্তরে সিন্ডিকেট বিরোধী চিকিৎসকদের ‘বদলী বার্তা’ দিয়েছেন। এ নিয়েও তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে হাসপাতালের ভেতরে-বাইরে। অবশ্য এ বিষয়ে কলেজটির সদ্য যোগ দেয়া ভাইস প্রিন্সিপাল ডা: আবুল হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

 

কলেজের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগ

অভিযোগ ওঠেছে, ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই ২০১৬-১৭ বছরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ৯ কোটি টাকার ভারী যন্ত্রপাতি কিনতে সীমাহীন দুর্নীতি হয়েছে। আরডেন্ট সার্জিক্যাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ওই দরপত্রের কার্যাদেশ পাইয়ে দিতে নাম-গোত্রহীন দৈনিকে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে।

আকাশ পাতাল পার্থক্য দেখানো হয়েছে কেনা যন্ত্রপাতির বাস্তব ও সরবরাহকৃত দামের মধ্যে। আর এসব করে চেনা সেই সিন্ডিকেটটি নিজেদের মাঝে পার্সেন্টিজের ভাগভাটোয়ারা করেছেন।

এসব বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের (মমেক) প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা: মো: আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দুর্নীতির খবরটি মহল বিশেষের অপপ্রচার। সরকারি বিধি মোতাবেকই ওই প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেয়েছে। ছড়িয়ে দেয়া এসব অপপ্রচারের কোন ভিত্তি নেই।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!