আপডেট ২ ঘন্টা আগে ঢাকা, ২০শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ অর্থ-বণিজ্য

Share Button

মানিকগঞ্জের গ্রামীন হাট বাজারে নরসুন্দরদের দেখা মিলেনা

| ১২:০০, মে ২৮, ২০১৮

রিপন আনসারী,মানিকগঞ্জ থেকে

হারিয়ে যেতে বসেছে মানিকগঞ্জের গ্রামীর রাস্তা ঘাট ও হাট বাজারের বড় বড় গাছের শীতল ছায়ায় বসে চুল,দাড়ি ও গোফ কামানোর কারিগর নরসুন্দরদের আদি পেশা। গ্রামীন খেটে খাওয়া মানুষজনকে এখন আর আগের মতো ইটের খন্ড ও কাঠের পিড়িতে বসে চুল গোফ কামাতে খুব একটা দেখা যায়না। আধুনিকতার সাথে পাল্লা দিয়ে তারা দোকান পাটের টিপটপ সাজানো গোছানো আধুনিক সেলুনেই দিকেই বেশী ঝুকছে।

একসময় মানিকগঞ্জ জেলার প্রতিটি হাট বাজারের বড় বড় বট-পাকড় ও কড়াই গাছের নীচে দেখা যেতো কাঠের পিঁড়িতে কিংবা ইটের খন্ডে বসে নরসুন্দরদের চুল গোফ কামানোর চমৎকার দৃশ্য। কিন্ত এখন আর সেই দৃশ্য সচারাচার চোখে পড়ে না।
তবে এখনো কিছু কিছু পুরাতন ও ঐহিত্যবাহী হাট বাজারে দেখা মেলে কিছু নরসুন্দরদের। বাবা দাদা আদি পেশোয় তারা নিজেকে এখনো বদলায়নি। তেমনি মানিকগঞ্জের শত বছরের ঐহিত্যবাহী বানিয়াজুরী আনন্দ বাজারে গিয়ে দেখা গেলো শতবষী কড়াই গাছের শীতল ছায়ায় বসে চুল,দাঁড়ি ও গোফ কামাচ্ছেন ভাদুরা শীল ও হরিপদ শীল নামের ষাটার্ধ দুই ব্যাক্তিকে। খুর-কাচি দিয়ে দিব্বি চুল-দাড়ি কামানোর কাজে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন এরা। কথা হয় ভাদুরা শীলের সঙ্গে। তার গল্পটা খুবই মজাদায়ক।
জানালেন, বাবা দাদার আদি পেশে ছিল চুল,দাড়ি কামানো। এই পেশোয় থেকেই আয় ব্যয় সব কিছু। এখনো চলছে অবিরাম। দোকানের বাহারী সেলুতে কাজ করতে তার মোটেও ভাল লাগে না । ছোট ভাইয়ের একটি বাহারী সেলুর ছিল। সেখানে কিছু দিন কাজও করেছেন। কিন্ত তার মন বসেনি। তার ছোট ভাই দেশের বাইরে সৌদি আরবে থাকতেন। জোর করে ভাদুরা শীলকে সে দেশে নিয়ে গিয়েছিলেন তার ভাই। কিন্ত সৌদি আরবের ভাষা আর আধুনিকতার চুল দাড়ি কামাতে ব্যর্থ হয়ে এক বছরের মধ্যেই শুন্য হাতে দেশে চলে আসেন। এসেই কোন বাহারী সেলুন নয় সোজা বানিয়াজুরী আনন্দ বাজারের আগের মতো কড়াই গাছের নীচে বসেই লেগে পড়েন চুল দাড়ি কামানোর কাজে। শুধু বললেন,যার অভ্যাস যেখানে তাকে সেখানেই মানায়। জীবনের বেশীর ভাগ সময়ই কাজ করেছি হাট বাজারের গাছের নীচে খোলা আকাশের পিঁড়িতে বসে। একসময় চুল কাটতে ৫০ পয়সা নিতেন। সেই আমল থেকে এখন দাড়ি ৫-৭ টাকা আর চুল কাটতে ১০-১৫ টাকা নেয়। এতেই তার সুখ আর এতেই তার শান্তি।
আরেক নরসুন্দর হরিপদ শীল। জানালেন, অল্প বয়স থেকেই হাট বাজারে গাছের নীচে বসে চুল দাড়ি কামাই। স্বাধীনতার পর থেকেই এই বাজারে পড়ে আছি । এক ছেলে সৌদি আরবে এই কাজ করে। তাকে বাজারে বসে এই কাজ করতে নিষেধ করলেও কে শোনে কার কথা। অবিরাম বাজারের পিড়িতে বসে ২-৩ ঘন্টা কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে মাছ,তরকারী নিয়ে প্রতিদিনই বাড়ি ফিরেন পরিপদ শীল।
যতদিন কাজ করার শক্তি থাকবে ততদিন এই আনন্দ বাজারেই তার বাব দাদার আদি পেশা পেশায় নিয়োজিত থাকবে বলে জানান।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন,একসময় বানিয়াজুরী আনন্দ বাজারটি বিকিকিনীর জন্য ছিল রমরমা। মনকে মন দুধ আর মাছে মাছে ভরে উঠতো পুরো বাজার । সেই সুবাধে বাজারও বসতো জমজমাট। ক্রেতা বিক্রেতাদের একটা উৎসব বসতো প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত। সে সময় বাজারে সারি সারি ভাবে বেশ কয়েকজন নরসুন্দর বসতো কাঠের পিড়ি নিয়ে। তাদের ব্যবসাও ছিল রমরমা। কিন্ত কালের আবর্তে বাজারটি এখন মৃত প্রায়। বিকিকিনি নেই,নেই নরসুনন্দরদের আগের মতো আনাগোনা।
শুধু বানিয়াজুরী আনন্দ বাজারই নয় মানিকগঞ্জের ঐহিত্যবাহী জাবরা হাট,তরা হাট,তরা পুরান বাজারসহ জেলার প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদে দেখা যেতো অসংখ্য নরসুন্দরদের।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!