আপডেট ৩ ঘন্টা আগে ঢাকা, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ জাতীয়

Share Button

মানিকগঞ্জে জ্বীনের বাদশা সেজে নারীদের সর্বনাশ করতো ভন্ডপীর তাহের আ

| ০০:১৭, জুন ১, ২০১৮

রিপন আনসারী,মানিকগঞ্জ থেকে

ভন্ড পীর তাহের আলী। মানুষজনের কাছে দীর্ঘ দিন ধওে যিনি নিজেকে জ্বীনের বাদশা হিসেবে জাহির করে আসছেন । আর তার ধোকাবাজির কবলে পড়ে নারীদের ইজ্জত সম্মান,টাকা পয়সা,গরু-বাছুরসহ সব কিছুই খোয়াচ্ছেন গ্রামের সহজ সরল নিরিহ মানুষজন। এমন এক ভন্ডপীরের আবির্ভাব হয়েছে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ভাটবাউর এলাকায়। তবে তার ভন্ডামী গোমড় ফাঁস হয়ে যাওয়ায় গনধোলাই খেয়ে এখন শ্রীঘরই তার ঠিকানা। তার বাড়ি সদর উপজেলার ভাটবাউর গ্রামে।


সরজমিন সদর উপজেলার দিঘি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা গেলো ভন্ডপীর তাহের আলী (৫৭)কে নিয়ে বসেছে গ্রাম আদালত। এই শালিশে ভুক্তভোগী বেশ কয়েকজন অভিযোগ কারী নারীকে দেখা গেলো। সকাল ১০টার দিকে চরতিল্লি গ্রামের লুৎফর রহমান ও তার স্ত্রী মিতু আক্তারসহ পরিবারের লোকজন হাজির হয়েছেন ভন্ডপীরের কু-কৃত্তির ফাঁস করে দিতে। পরিবারের অভিযোগ এই আদালতেও ভন্ডপীরের কেরামতি। বিচার প্রার্থী হিসেবে স্বাক্ষী দিতে আসা ১৯ বছরের গৃহবধু মিতু আক্তারের ওপর নাকি জ্বীনের বাদশা তাহের পীর ভর করেছে। সুস্থ সবল ্ওই গৃহবধু ইউনিয়ন পরিষদের বিচারিক আদালতের একটি চেয়ারে বসে ছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ ভন্ডপীর সেখানে উপস্থিত হন। তখন পীরের চোখ পড়ে ্ওই নারীর দিকে । তাকে দেখেই ওই নারী সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। নাক মুখ দিয়ে রক্ত এবং ছটফট করতে থাকেন। সুস্থ্য মানুষ অস্বাভাবিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় গ্রামীন আদালতে উপস্থিত সকলের ভেতর কৌতুলরে সুষ্টি হয়। এ খবর পেয়ে সেখানে হাজির হন প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সংবাদ কর্মীরা।
এরপর বেড়িয়ে আসতে থাকে ভন্ডপীর তাহের আলীর কু-কৃর্তির নানা কথা। তাহের আলীর প্রধান টার্গেট থাকে গ্রামে যাদের বিয়ের পর সন্তান হয়না এমন নারীদেও প্রতি।
অভিযোগকারীর একজন হলেন লুৎফল রহমান। গ্রামের খেটে খাওয়া সহজ-সরল যুবক। এই লুৎফর এক সময় ্ওই ভন্ডপীরের প্রতি ছিল গভীর বিশ্বাস। সে সুবাদে তার শিষ্য হয়েছেন। বছর আড়াই হলো লুৎফর রহমান বিয়ে করেন সুন্দরী মিতু আক্তারকে। বিয়ের পর সরল মনে স্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন ভন্ড তাহের আলীর সাথে। এতেই ্ওই গৃহবধুর দিকে শকুনের দৃষ্টি পড়ে ভন্ড তাহেরের। লুৎফর রহমান বলেন, আমি খুব বিশ্বাস করতান তাহের আলী পীর সাহেবকে। আমার স্ত্রীর সন্তান হচ্ছিলনা। তখন পীরের কাছে নিয়ে যাই। তখন পীর আমাকে জানিয়ে দিলো তোর স্ত্রী বন্ধা। সে সন্তান লাভ করতে পারবে না। তোর স্ত্রীকে একা আমার কাছে (পীরের) পাঠিয়ে দিবে তার পর বিষয়টা দেখবো। পীরের কথায় সরল মনে স্ত্রীকে তার কাছে পাঠাই। সেখান থেকে এসে আমার স্ত্রী আমাকে বলে ্তোমার ওই পীর লোক ভাল না। স্ত্রীর কাছে বিষয়টি জানান চেষ্টা করেন স্বামী লুৎফর রহমান। তার স্ত্রীকে তাহের আলী পীর বলে দেয় তুই কখনোই মা হতে পারবি না। তুই বন্ধা। তবে উপায় একটা আছে। তুই যদি আমার (পীর) সাথে শারিরিক সম্পর্ক গড়ে তুলিশ তবেই তোর গর্ভে সন্তান আসবে। আর এ কথা যেনো কেউ না জানে। এ কাজটা জিন দ্বারা করতে হবে।
লুৎফর রহমান বলেন, আমার স্ত্রী যখন এ সব কথা আমাকে বলে সেদিন থেকে ্ওই পীরের সাথে আমি কথা বলা এবং তার বাড়িতে আসা যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এতে সে আমার এবং আমার স্ত্রীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সময় কুফরী কালাম দিয়ে আমার স্ত্রীকে অসুস্থ করে তোলেন। ্ওই পীরের যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে আমি চেয়ারম্যানের আশ্রয় নেই। বিচার চাই তার কাছে। বিচারে স্বাক্ষী দিতে এসেও আমার স্ত্রীকে কুফরী করে জবান বন্ধ করে দেন এবং মুখ-নাক দিয়ে রক্ত বের হয়। পরে পুলিশের সহায়তায় স্ত্রীকে সংগাহীন অবস্থায় নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করি। মিতু আক্তারের মতো গ্রামে আরো বেশ কয়েকজন নারী ্ওই ভন্ডপীরের লালসার শিকার হয়েছেন বলে জানান যায়।
আরেক ভুক্তভোগী সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লীর চর গ্রামের আবদুর রহিমের স্ত্রী হানিফা বেগম। তিনিও চেয়ারম্যানের আদালতে ভন্ডপীর তাহের আলীর বিচার প্রার্থী। তার বিষয়টা থানা পুলিশ সংক্রান্ত। হানিফা বলেন, তাঁর স্বামী রহিমের বিরুদ্ধে একটি মামলা হওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে রহিমের জামিন করানোর কথা বলে ৩৮ হাজার টাকা নেন পীর তাহের আলী। কিন্ত তার স্বামীর জামিন না করিয়ে দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেন।
ভুক্তভোগী আনোয়ারা বেগম বলেন, ভন্ড পীর আবু তাহের কুফুরি কালম জানেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে সহজ সরল মানুষকে ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেন। কলেজে ভর্তি ও চাকুরীর কথা বলে মানুষজনের কাছ থেকে টাকা পয়সা নেন। এছাড়া নারীলোভি ওই পীর অনেক নারীর সর্বনাশ করেছে। আমার একটি গরু ও বাছুরকে কুফুরী কালাম দিয়ে হত্যা করেছে।
দিঘি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিন মোল্লা বলেন, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে দিঘী ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম্য আদালতে ভন্ড পীরের বিরুদ্ধে বিচারের আয়োজন করা হয়। এতে প্রমানিত হয় তাহের আলী একজন ভন্ডপীর। গ্রামের সুন্দরী নারীদের প্রতি তার ছিল লোভ লালসা। এলাকার অনেক নারী তার লালসার শিকার হয়েছে। শুধু তাই নয় চাকুরী,জেলা থেকে জামিন,কলেজে ভর্তি,রোগ সারিয়ে দেয়া সহ নানা ভাবে প্রতারনার মাধ্য টাকা পয়সা ও নারীদের ইজ্জত লুটে নিতো। এসব অভিযোগ ফৌজদারী হওয়ায় গ্রাম্য আদালতে বিচারবহির্ভূত। উত্তেজিত এলাকার লোকজন একপর্যায়ে তাই ্ওই ভন্ডপীর তাহেরকে গণপিটুনি দেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে আটক করেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান বলেন, ঘটনা জানার পর ভন্ডপীর তাহের আলীকে আটক করে থানায় আনা হয়। এরপর লুৎফর রহমান নামের এক ব্যাক্তি বাদি হয়ে ওই ভন্ড পীরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছে। সে এখন জেল হাজতে রয়েছে।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!