আপডেট ৩ ঘন্টা আগে ঢাকা, ২৫শে জুন, ২০১৮ ইং, ১১ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১০ই শাওয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ গণমাধ্যম

Share Button

‘আমি, আমার ছেলেরা,বোন, বোনের ছেলেরা ঈদে নতুন জামা-কাপড় পরি না’

| ১১:০৬, জুন ১৩, ২০১৮

‘পুরো লেখাটা পড়ুন’ লিখলাম এই জন্য যে আমার আজকের এই পোস্টটিতে মানবতাকে, মানুষকে, আবেগকে শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজনৈতিক ভিন্ন মতাদর্শের হলেও কোন নেতিবাচক মন্তব্য করবেন না।

রাজনৈতিক সে যে কোন পরিচয়, সে যে কোন পদ-পদবীর আগে আমরা মানুষ। আমাদের কষ্ট আছে, আবেগ আছে, ক্ষোভ আছে, দুঃখ আছে; আর সব মানুষের মতই।

আজ ভোর থেকেই একটা চিনচিনে কষ্ট, অস্বস্তি! আমি জানি কেন, আমার ছেলেরা জানে কেন, আমার বোন জানে কেন, আমার আল্লাহ জানে কেন!

‘ঈদ’ শব্দটি আমাদের পরিবারের জন্য কষ্টের, বেদনার! যে কোন ঈদই! আমার বোনের ছেলেটা মোনাশ ইউনিভার্সিটি পড়তে যাবে কত আনন্দ।

ঈদের পরেই সে যাবে মালয়েশিয়া। ঈদের আনন্দে মেতে উঠবো সবাই। কিন্তু কোথায় গেল ঈদ!

শুধু চালকের অসর্তকতায় প্রাণ চলে গেল আমার বোনের ছেলে সাইফ আহম্মেদ (অর্ণব) এর!

তিনবার হাত উঁঠিয়ে ও চালককে থামতে বলেছিল। চালক তার জবানবন্দীতে বলেছে, অর্ণব তিনবার হাত উঠিয়ে কার্ভাড ভ্যানটি থামানোর ইশারা করেছে।

তবে চালক থামালো না কেন? সে এই জীবনটিকে মূল্য দিবে না? এই একটি জীবন আমাদের জীবনের সব আনন্দ, হাসি, ঈদের আনন্দ সাথে নিয়ে চলে গেল!

আমরা ঈদ ভয় পাই, ঈদ আমাদের কষ্টগুলো তাজা করে দেয়! আমার বাসায় সেমাই রান্না হয় না!

আমি, আমার বোন, আমার ছেলেরা, আমার বোনের ছেলেরা ঈদে নতুন জামা-কাপড় পরি না!

আমাকে অর্ণব ডাকতো ছোট মা বলে (খালা তো মা-ই, তাই মা)। কত বিতর্ক চালককে ঘাতক বলা যাবে কি যাবে না!

এই বিতর্ক কেন? সব চালক কোনদিনই ঘাতক নন। কিন্তু যারা একটু সচেতন হলে একটি জীবন বেঁচে যাবে জেনেও তা করেন না- তাদের কি সেবক চালক বলবো?

দুঃখিত বলতে পারলাম না। যেমন ঘুষ খেতে পারবো না, সন্ত্রাস করতে পারবো না। আমার রক্তে এসব নেই।

যেমন সব চালককে ঘাতক বলতে পারবো না। তেমনি সব চালককে নিরাপরাধও বলতে পারবো না।

জামিনে মুক্ত সেই চালক আজ পরিবার নিয়ে ঈদ করে! আমার বোনের অর্ণব কোথায়?

জামিনে মুক্ত সেই চালকের সন্তান নতুন জামা পরে! আমার বোনের অর্ণবের জন্য জামা কিনতে চাই। কোথায় দিলে ও পরবে?

আজ এলাকায় ঈদের শাড়ি বিতরণ করবো, হাসিমুখো জনপ্রতিনিধি, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরা সবসময় হাসতে হয়।

দু-চারটা কাপড় কম পড়লে মানুষ অসন্তুষ্টও হবে। ওরা কি কখনও জানবে আজ যে মানুষটি হাসিমুখে রোদে পুড়ে কাপড় দিচ্ছে ঈদের জন্য, সেই মানুষটির বড় বোন আজ কাঁদছে!

সেই মানুষটির নিজেরও বুকের ভেতরটা কেবলই হু হু করছে! কাঁদা যাবে না প্রকাশ্যে; প্রতিমন্ত্রী বলে কথা! ওদের যে আবেগ থাকতে মানা!

 

তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!