আপডেট ৩ ঘন্টা আগে ঢাকা, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ জাতীয়

Share Button

দুই শতাধিক জামায়াত-বিএনপি নৌকার টিকিটে জনপ্রতিনিধি

| ২০:০০, জুলাই ৪, ২০১৮

মেহেদী হাসান০৫ জুলাই, ২০১৮

 

জরিপ প্রতিবেদন আওয়ামী লীগ হাইকমান্ডের হাতে ** তৃণমূলে সহস্রাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদেও বিরোধী মতাদর্শীরা ** জরিপের তথ্য যাচাই করছে ৬ সদস্যের কমিটি ** অনুপ্রবেশকারীদের এখনই বিদায় করার নির্দেশ ** কাল যৌথসভা, শনিবার চার বিভাগের ইউনিয়ন-ওয়ার্ড ** নেতাদের সঙ্গে হাইকমান্ডের বৈঠক

Related image

জামায়াত-বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মী নানা কৌশলে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে নৌকার মনোনয়ন ও সমর্থনে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জয়ী হয়ে জনপ্রতিনিধি হয়ে গেছেন। দলীয় সংসদ সদস্যসহ তৃণমূলের এক শ্রেণী নেতা অর্থের বিনিময়ে এবং নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করতে নির্বাচনের আগে দলের প্রার্থী হিসেবে জামায়াত-বিএনপির নেতাদের নাম প্রস্তাব করেছিলেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপনে একাধিক সার্ভে করান। জরিপে দেখা গেছে, জনপ্রতিনিধিসহ দলের তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ সহস াধিক পদে আছে শান্তি কমিটির কর্মকর্তা, তাদের সন্তান-স্বজনসহ বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী।

ইতিমধ্যে অনুপ্রবেশকারীদের একটি তালিকা শেখ হাসিনার হাতে এসেছে। সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্যে সংগ্রহ করা তালিকাভুক্ত এসব ব্যক্তির নাম-পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য শেখ হাসিনা দায়িত্ব দিয়েছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মণি নেতৃত্বে গঠিত ছয় সদস্যের কমিটিকে। সম্প্রতি গণভবনে দুই দফায় আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় শেখ হাসিনা বলেন, যারা অন্যদলের লোকজনকে দলে ভেড়াচ্ছেন তারা মনে রাখবেন, যাদের দলে ভেড়াচ্ছেন তারা আপনার আপন লোক নয়। তারা আসে মধু খেতে। একটি সার্ভে করিয়েছি। এদের তালিকা আমার কাছে আছে। কেউ যদি তাদের প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন, এখনই তাদের বিদায় করেন। ভিন্ন মতাদর্শী নয়, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী বাহিনী গড়ে তোলার নির্দেশ দেন তিনি।

অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ, জেলা/মহানগর, উপজেলা, জাতীয় কমিটি, পৌরসভা কমিটির নেতাদের গণভবনে ডেকে বিশেষ বর্ধিত সভার মাধ্যমে তাদের মতামত নিয়েছেন। ৩০ জুন বেলা ১১টায় রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও চট্টগ্রাম এই চার বিভাগের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে গণভবনে বিশেষ বর্ধিত সভা হয়েছে। আগামী ৭ জুলাই রংপুর, খুলনা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ এই চার বিভাগের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে গণভবনে বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে করনীয় ঠিক করতে আগামীকাল শুক্রবার বিকাল ৫টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের নবনির্মিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যরা বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া আগামী রবিবার বেলা ১১টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাথে সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ঢাকার পার্শ্তবর্তী জেলার (ঢাকা জেলা, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর জেলা, গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ জেলা, নারায়ণগঞ্জ মহানগর ও মুন্সিগঞ্জ) সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সংশ্লিষ্ট জেলা/মহানগরের অন্তর্গত দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্যগণের এক যৌথসভা আহ্বান করা হয়েছে। জানা গেছে, তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এবং যাচাই কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর অনুপ্রবেশকারী ও তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেবেন শেখ হাসিনা।

এদিকে অনুপ্রবেশকারীরা আওয়ামী লীগের কোন নেতার সহায়তায় দলে ঢুকেছেন এবং কী পদ পেয়েছেন সেসব তথ্য যাছাই কমিটি খতিয়ে দেখছে। অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত জোটের পক্ষ হয়ে জ্বালাও-পোড়াওয়ের অংশ নেওয়া অভিযোগসহ সুনির্দিষ্ট কোনও মামলা আছে কিনা সেটাও দেখা হচ্ছে। এছাড়া এসব অনুপ্রবেশকারীর বিরুদ্ধে অতীতে আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে কিনা সে বিষয়েও অনুসন্ধান চালাচ্ছে যাছাই কমিটি। অনুপ্রবেশকারীরা আওয়ামী লীগে প্রকাশ্যে, না গোপনে যোগ দিয়েছেন, তারা দলের ভাবমূর্তি ধ্বংস করছেন কিনা তা খতিয়ে দেখবে এই যাছাই কমিটি। পাশাপাশি অনপ্রবেশকারীরা অবৈধ উপায়ে অর্জন করা অর্থ সম্পদ রক্ষা করা বা অর্থ সম্পদের মালিক হতে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন কিনা, তাও যাচাই-বাছাই করে চিহ্নিত করার জন্য যাছাই কমিটিকে দায়িত্ব দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

অনুপ্রবেশ করে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন যারা

নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে পরাজিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারমান হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম। ২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল নির্বাচনে এখানে চেয়ারম্যান হন এলাকার জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম মুরাদ। তাঁর প্রাপ্ত ভোটের অর্ধেকের চেয়েও কম ভোট পান পরাজিত বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালাম। গত জানুয়ারি মাসে মারা যান রফিকুল ইসলাম মুরাদ। পরে উপনির্বাচনে বিএনপির সেই পরাজিত প্রার্থী আবুল কালাম নৌকায় চড়ে চেয়ারম্যান হওয়ায় এলাকার ত্যাগী নেতারা ক্ষুব্ধ। জামায়াত নেতা মাওলানা আবদুল আজিজকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করিয়ে টেকনাফের বাহারছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোনয়ন দেওয়া হয়। চকরিয়ার কোটাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিএনপি নেতা বাহাদুর আলম নৌকার টিকিট পান। ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা, রামু উপজেলার গর্জনীয়া ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম নৌকার টিকিটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বিএনপি থেকে দলে এনে নৌকা প্রতীক দেওয়া হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আলমগীর কবীরকে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা যুবদলের সহসভাপতি এজাবুল হক বুলিকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হয় মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক দেওয়া হয় ওই ইউনিয়নের বিএনপি নেতা জসিমউদ্দিনকে। নির্বাচনের এক মাস আগে তাঁকে দলে নেওয়া হয়। নির্বাচনের আগে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নৌকা প্রতীক পান গোবরাতলা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আসজাদুর রহমান।

জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয় ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান আনসারীকে। একই ইউনিয়নে আগেরবারও তিনি চেয়ারম্যান ছিলেন। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক সরদারকে দলীয় মনোনয়ন কিনতেই দেওয়া হয়নি। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শহিদুল ইসলাম। তিনি বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তাঁর বাবা ছিলেন শান্তি কমিটির নেতা। পরিবারের অন্যরা জড়িত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে। টাঙ্গাইল জেলা পরিষদে সদস্য পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ঘাটাইলের শাহানশাহ মিন্টু। এক সময় তিনি ছিলেন স্থানীয় জিয়া সংঘের সম্পাদক। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি ইউনিয়নে বিএনপির নুরুল আমিনকে নৌকা প্রতীক দিয়ে নির্বাচিত করা হয়েছে। সোনাইমুড়ির বারোগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে আনিসুর রহমানকে। তিনি আওয়ামী লীগে নতুন মুখ। কিছুদিন আগেও তিনি এবং তাঁর গোটা পরিবার ছিল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকারের মতো যাতে জাতীয় নির্বাচনে অনুপ্রবেশকারীরা না আসতে পারে সেজন্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এবার চার স্তরের রিপোর্ট ও ব্যাপক যাচাই-বাছাই শেষে মনোনয়ন দেবেন। এছাড়া যারা ক্ষমতায় থেকে জনবিচ্ছিন্ন, দখলবাজ, নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে সাংগঠনিক ক্ষতি করেছেন, এলাকায় গডফাদারের ভূমিকায় দলকে করেছেন বিতর্কিত, এমন এমপি-মন্ত্রী নৌকায় চড়তে পারবেন না। শনিবার বর্ধিত সভায়ও তৃণমূলের নেতারা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এখনই ব্যবস্থা নিতে শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানান।

গত বছর মার্চ মাসে সিলেটে দলীয় একটি সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ কাউয়া ঢুকছে। জায়গায় জায়গায় কাউয়া আছে। এসব অনুপ্রবেশকারীই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!