আপডেট ১৪ min আগে ঢাকা, ২২শে মে, ২০১৯ ইং, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রমযান, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ জাতীয়

Share Button

হারুনার রশিদ খান মুন্নুর প্রথম মৃত্যু বার্ষীকি-কাঁদছে মুন্ন বিহীন মুন্নু পরিবার

| ০০:৩০, আগস্ট ২, ২০১৮

রিপন আনসারী,

সততা আর আদর্শ ছিলো যার মহৎ গুন। সেই গুনে গুনান্বিত ছিলেন বলেই পেয়েছেন মানুষের ভালবাসা। আর মানবসেবাই ছিল যার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। জীবদ্দশায় তিনি যে কাজেই হাত দিতেন সে কাজেই পেতেন সফলতা। আলোকিত এই মহৎ মানুষটি আর কেউ নয় তিনি হচ্ছেন মানিকগঞ্জের মানুষের ভালবাসার এক নিদর্শন মরহুম হারুনার রশিদ খান মুন্নু। ১ আগষ্ট তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী।
গেল বছর এই দিনে সকলকে কাঁদিয়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। ঘুমিয়ে আছেন তারই হাতে গড়া মানিকগঞ্জে মুন্নু সিটিতে স্থাপিত দৃষ্টি নন্দন মসজিদের পাশে। তবে জীবদ্দশায় রেখে যাওয়া তার কর্মগুনের কারনে মানিকগঞ্জের মানুষের কাছে অমর হয়ে আছেন। বছর পেরিয়ে গেলেও মহান এই মানুষটির কথা মনে করে এখনো নিরবে কাঁদেন অনেকে। আর তার পরিবারের কাছে তিনি হচ্ছেন আদর্শের নাম। দিন, মাস এবং বছর পেরিয়ে গেলেও বিন্দু পরিমান শোক কাটেনি এই পরিবারে। ফলে মুন্নু বিহীন মুন্নু পরিবারের কাঁন্না এখনো থামেনি।
মুন্নু সিটিতে সমাহিত বাবার কবরের পাশে দাড়িয়ে প্রায়ই কাঁদতে দেখা যায় পরিবারের বড় কন্যা মুন্নু গ্রপ অব ইন্ডাসট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খান রিতাকে। তার বারা ছিলেন তার আর্দশ। বট বৃক্ষের মতো যিনি ছায়া দিয়ে রাখতেন পুরো পরিবারকে। বাবার সেই আদর্শ অনুসরন করেই আফরোজা খান রিতা পথ চলছেন। আর হারুনার রশিদ খান মুন্নুকে হারিয়ে সঙ্গি হারা পড়েছেন তার সহধর্মীনি হুরুন নাহার রশিদ। সন্তানেরা তার মাকে বাবার শোক ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও সর্বক্ষনই স্বামীর শোকে কাতর থাকেন তিনি।
শুধু পরিবারই নয় হারুনার রশিদ খান মুন্নু বিহীন মুন্নু সিটি এখনো শোকাচ্ছন্ন। মৃত্যুর এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানকার মানুষের হৃদয়ে মিশে আছে হারুনার রশিদ খান মুন্নুর প্রতিচ্ছবি আর ভালবাসা। মুন্নু গ্রুপের সকল স্তরের কর্মজীবি মানুষজনের কাছে হারুনার রশিদ খান মুন্নু ছিলেন এক মহান মানুষ। যার কারনে তার কথা মনে করে এখনো অনেকেই নিরবে চোখের পানি ফেলেন।
পাশাপাশি মানিকগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে এক দৃষ্টান্ত উদাহরন ছিলেন চার বারের সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী,শিল্প বিপ্লবের অগ্রদূত ও শিক্ষানুরাগী প্রায়ত হারুনার রশিদ খান মুন্নু। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা চারবার বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন । সর্বশেষ ২০০১ সালের নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনে একই সঙ্গে নির্বাচন করে দুটি আসনেই জয়লাভ করে তার কারিশমা দেখান। দলীয় নেতাকর্মীদের আকাশ ছোয়া ভালাবাসা রয়েছে তার প্রতি। মৃত্যুর আগ মুহুর্ত পর্যন্ত দলের প্রতি ছিল তার প্রচন্ড রকম ভাল বাসা। দলের সু-সময়ে ও দুঃসময়েও মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের বট বৃক্ষের মতো ছায়া দিয়ে রেখেছিলেন। হারুনার রশিদ খান মুন্নু না ফেরার দেশে চলে গেলেও মানিকগঞ্জের মানুষের ভালবাসায় অমর হয়ে আছেন এবং থাকবেন জন্মজন্মান্ত।
আর হারুনার রশিদ খান মুন্নু ব্যবসায়ী হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশের একজন আইকন। সততা আর নিষ্ঠার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করায় তার সুনার ছড়িয়ে পড়ে দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও। শিল্প বিপ্লবের অগ্রদূত ও সুনাম ধন্য ব্যবসায়ী হিসেবে আন্তজার্তিক স্বীকৃতিও পায় এই মানুষটি।
বাবার স্মৃতিচারন করতে গিয়ে ্আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন পরিবারের বড় কন্যা মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাসট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খান রিতা। বাবা মেয়ের মধ্যে ভালবাসার সম্পর্ক ছিলো অসম্ভব রকমের। আফরোজা খান রিতা তার পিতাকে আব্বা বলেই ডাকতেন। তিনি বলেন, কি যে হারিয়েছি বোঝাতে পরবো না। একটি মুহুর্তের জন্য আমার আব্বাকে ভুলতে পারি না। তাকে ছাড়া সব কিছুই যেনো খাঁ খাঁ করছে। ঘরে বাইরে যে দিকেই চোখ বুলাই শুধুই আব্বার স্মৃতি ভেসে উঠে। বলতেই দুচোখ গড়িয়ে ঝরতে থাকে অশ্রু।
আফরোজা খান রিতা বলেন, আমার আব্বা ছিলেন আমার অহংকার এবং আমার আদর্শ। আমার পরিবারের বট বৃক্ষ। সারা জীবন আমাদের পুরো পরিবারকে ছায়া দিয়ে রেখেছেন। সেই শিশু কাল থেকেই আমরা দুই বোন তার কাছ থেকে অসম্ভব ভাল বাসা পেয়েছি। আমাকে ’মা’ ছাড়া কোন সময় ডাকতেন না। সর্বক্ষন আব্বার সেই ’মা’ ডাক আমার কানে ভেসে আসে। আব্বা খাবার নিয়ে টেবিলে বসে থাকতেন আমি কখন আসবো। আমি এলেই তিনি খাবার শুরু করতেন। আমার আব্বা ছিলেন আমার বন্ধুর মতো।
আফরোজা খান রিতা তার পিতার স্মৃতি চারন করে আরো বলেন, আমার আব্বা হচ্ছেন একজন আর্দশবান মানুষ এবং আর্দশবান পিতা । মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সততা থেকে বিন্দু মাত্র পিছু হটেনি। একজন আর্দশবান পিতার সন্তান হয়ে আমি গর্বিত। তিনি স্বপ্ন দেখতে ভাল বাসতেন। আল্লাহ আমার আব্বার প্রায় স্বপ্নই পুরুন করেছেন।
তার স্বপ্ন ছিল মানিকগঞ্জের বুকে একটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের, সে স্বপ্নও পুরন হয়েছে। স্বপ্ন ছিল গ্রামে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করা সে স্বপ্নও বাস্তবায়ন হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি অসম্ভব দুর্বল ছিলেন তিনি।
মানবকল্যানে কাজ করতে তার আরো অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্ত তার আগেই আমাদের একা করে চলে গেলেন। তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই হচ্ছে আমার মুল লক্ষ।
আফরোজা খান রিতা বলেন,আমার আব্বাকে দেখেছি সারা জীবন মানুষের কল্যানে কাজ করতে। মানুষের বিপদ আপদে সব সময়ই ছুটে বেড়াতেন। কখনো ক্লান্ত হননি। রাজনীতি করতে গিয়ে কখনোই অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি। তার কর্মগুনের কারনে মানিকগঞ্জের প্রত্যেকটি মানুষ তাকে ভালবাসতেন। আজ একটি বছর ধরে আব্বা বলে ডাকতে পারিনা। হৃদয়ের ভেতর কি যে কষ্ট তা কাউকে বোঝাতে পারবোনা। একটি মুহুর্তের জন্য ভুলতে পারিনা।
যোগ্য পিতার যোগ্য উত্তসুরী আফরোজা খান রিতাও তার বাবার আদর্শকে সামনে রেখেই পথ চলছেন। বাবার মতো শিক্ষা দিক্ষায় বেশ মেধাবী এবং মানব কল্যানে সর্বক্ষনই নিজেকে নিয়োজিত রাখছেন। তিনিও একজন সফল ব্যবসায়ীর পাশাপাশি একজন দক্ষ রাজনৈতিবিদ। মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি। আর পিতার হাত ধরেই তার রাজনীতিতে আসা।
হারুনার রশিদ খান মুন্নুর স্মৃতিচারণ করে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল বাতেন মিয়া বলেন, হারুনার রশিদ খান মুন্নু ছিলেন মানিকগঞ্জের নক্ষত্র। বিএনপি তথা দেশের মানুষের জন্য আর্শিবাদ হয়ে এসেছিলেন। তার সাথে বহু বছর এক সাথে রাজনীতি করার সৌভাগ্য হয়েছে। দেখেছি মানুষটি কখনোই নিজেকে নিয়ে ভাবতেন না। তার ভাবনার মধ্যে ছিল শুধুই মানবসেবা। সব সময়ই ক্লিন ইমেজের রাজনীতি পছন্দ করতেন। ক্ষমতা পেয়ে কখনোই তার অপব্যবহার করেননি। দুর্নীতি ও অনিয়মকে কোন সময়ই প্রশ্রয় দিতেন না। মানুষের ভাল বাসা ছাড়া তার জীবনে কোন চাওয়া পাওয়া ছিল না। যার কারনে মানিকগঞ্জের মানুষ তাকে ভাল বাসতেন। বার বার বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাতেন। মোট কথা মরহুম হারুনার রশিদ খান মুন্নু বিএনপির রাজনীতিতে ছিলেন একজন আদর্শের নাম। সেই আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।
জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও বর্ষীমান নেতা অ্যাডভোকেট মোখসেদুর রহমান বলেন, হারুনার রশিদ খান মুন্নুর অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবে না। আধুনিক মানিকগঞ্জ গড়ার একজন প্রান পুরুষ ছিলেন তিনি। মানিকগঞ্জের বুকে যখন কোন মেডিকেল কলেজ ছিল না তখন তিনিই প্রথম মুন্নু মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন। আর চাওয়া পাওয়ার রাজনীতি কখনোই করেনি। সব সময় তিনি শুধু দিয়েই গেছেন। যার কারনে শুধু মানিকগঞ্জ জেলাই নয় সারা দেশেই হারুনার রশিদ খান মুন্নুর সুনাম ছড়িয়ে আছে। তার কর্মগুনের কারনে মানুষের মাঝে অমর হয়ে থাকবেন অনন্তকাল।
রাজনীতিবিদ ছিলেন মুন্নু ঃ
মানিকগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতে একজন প্রাণ পুরুষ ছিলেন হারুনার রশিদ খান মুন্নু । মৃত্যুর আগ মুহুর্ত পর্যন্ত নিজ জেলার দলীয় নেতাকর্মীদের বটবৃক্ষের মতো ছায়া দিয়ে রেখেছিলেন। দলের সঙ্গে কখনোই তিক্ততায় জড়াননি। ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে ৪০ হাজার ভোট বেশি পেয়ে প্রথম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর পর ৯৬ সালের নির্বাচনে ৩৫ হাজার ভোট বেশি পেয়ে জয়ের ধারাবাহিতা ধরে রাখেন। মানিকগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠায় ২০০১ সালের নির্বাচনে এক সাথে মানিকগঞ্জ-২ আসনে ৩০ হাজার ভোট ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনে ৪০ হাজার ভোট বেশি পেয়ে দুই আসন থেকে জয়লাভ করেন। মন্ত্রীত্বও পান চার দলীয় জোটে সময়। জনপ্রিয় নেতা হিসেবে মানিকগঞ্জের প্রায় প্রত্যেকটি এলাকায় তার হাতের ছোয়া লেগেছে। রাজনীতিতেও তিনি উত্তসুরী রেখেছেন। তার বড় মেয়ে আফরোজা খান রিতা এখন মানিকগঞ্জের বিএনপির রাজনীতির চালিকা শক্তি।

সমস্ত আবেগ ছিল মানিকগঞ্জের মানুষকে ঘিরে ঃ
বিশিষ্ঠ শিল্পপতি হারুনার রশিদ খান মুন্নুর জীবনী নিয়ে একটি বই প্রকাশিত হয়েছে গেল বছর। আসাদুজ্জামান রনির অনুলিখন-সংকলন-সম্পাদনা এবং আফরোজা খান রিতার প্রকাশনায় হারুনার রশিদ খান মুন্নুর ’আমার জীবন উপাখ্যান’ এই বইয়ের প্রত্যেকটি অক্ষরে অক্ষরে তুলে ধরেছেন তার জীবন সংগ্রামের সব গল্প। ২২৬ পাতার এই বইয়ের একজায়গায় মানিকগঞ্জের প্রতি তার সমস্ত আবেগ ভালবাসার কথা তুলে ধরেছেন। সেখানে হারুনার রশিদ খান মুন্নু বলেছেন, আমার সমস্ত আবেগ মানিকগঞ্জের মানুষকে ঘিরে। তাই রাজধানীর অভিজাত এলাকা ছেড়ে এসে আমি সবত গড়েছি সোঁদা মাটির গন্ধজুড়ে থাকা প্রানের মানিকগঞ্জে। মানুষ কিছুটা স্বচ্ছল হওয়া মাত্রই শহরমুখী হয়। আর আমি আমার ঝলমলে পৃথিবী ছেড়ে চলে এসেছি মাটির কাছাকাছি। আমার অন্য কোন দায় ছিল না। অন্য কোন মোহ ছিল না। আমার সমস্ত টান এবং মমত্বরোধজুড়ে মানিকগঞ্জের মাটি ও মানুষ। আমি তাদের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমগ্র জীবন আমি মানিকগঞ্জেই থাকবো। আমার চলে যাওয়ার সময়-স্থান-প্রেক্ষপট নিয়ে আমার অগ্রিম কোন ধারনা নেই। তবুও আমি সবাইকে জানিয়ে রেখেছি,আমার কবরটা যেন এই মাটিতেই হয়। আমার আয়ু ফুরোবার পর এ মানিকগঞ্জের মাটিতে শেষ ঘুম ঘুমাতে চাই। মুন্নু সিটির ভেতরে জামে মসজিদের প্রত্যাহিক আজান যেন আমি শুনতে পাই। এ মাটি ছেড়ে আমি অন্য কোথাও যেতে চাই না। মানিকগঞ্জের প্রতি আমার আবেগের প্রাবল্য এখানেই।
বইয়ে লেখা হারুনার রশিদ খান মুন্নুর শেষ চাওয়াটাও পুরুন হয়েছে। ঘুমিয়ে আছেন তার হাতে গড়া মুন্নু সিটিতে স্থাপিত মসজিদের পাশেই।

 

(ফিচার লেখকঃ সাংবাদিক । মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি ) ।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!