আপডেট ২ ঘন্টা আগে ঢাকা, ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং, ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ জাতীয়

Share Button

পাকিস্তানের ‘মোদি’ হতে চান ইমরান, বেকায়দায় ফেলতে চায় বিরোধীরা

| ২৩:৫৩, আগস্ট ৩, ২০১৮

ইসলামাবাদ, ৩ আগস্ট:

 

২০১৫ সালের ১১ ডিসেম্বরের কথা। রাজধানী নয়াদিল্লিতে সেদিন ইমরান খান দেখা করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে। পরে সেই সাক্ষাতের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছিলেন, ‘বিশ্বের অনেক মন্ত্রী বা নেতাদের সঙ্গে আমি দেখা করেছি, কথা বলেছি। কিন্তু মোদির সঙ্গে দেখা করার পর যে প্রশান্তি পেয়েছি, তা খুব কম জায়গাতেই পেয়েছি।’ মোদিই ছিলেন তাঁর দেখা সেরা নেতা। প্রকাশ্যে বলেওছিলেন তা। ইমরান খান যে নরেন্দ্র মোদির মতো হতে চান তার যথেষ্ট প্রমাণ এখনও মেলেনি ঠিকই, কিন্তু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতিগুলোর দিকে লক্ষ্য করলেই কিছুটা আঁচ করা যায়। মোদি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির স্লোগান তুলে ২০১৪-র নির্বাচনী বৈতরণী পেরিয়েছিলেন। ইমরানও দুর্নীতির ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে জনমানসে জায়গা করে নিয়েছেন। মোদির স্লোগান ছিল, ‘আব কি বার, মোদি সরকার’, আর ইমরানের স্লোগান ছিল, ‘আব স্রেফ ইমরান’। বিদেশের ব্যাঙ্কে থাকা ভারতের কালো টাকা ফিরিয়ে আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করার কারণে একাধিকবার নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করেছিলেন পাকিস্তানের বিরোধী দলনেতা ইমরান খান। বলেছেন, ‘তাঁর (মোদি) সম্পর্কে আপনি যাই বলুন না কেন, তিনি একজন বিশ্বস্ত মানুষ।’ দেশের বাইরে পাচার হওয়া পাকিস্তানের অর্থ সরকার ফিরিয়ে আনুক, এমন উদ্যোগ চেয়েছিলেন ইমরান। তিনি যেভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামোর পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেটাও অনেকটা মোদির সঙ্গে মিলে যায়। মোদির সুরেই ইমরান বলছেন, নয়া পাকিস্তান উপহার দেবেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে লেখা শুরু হয়ে গিয়েছে, ইমরান খান পাকিস্তানের মোদি হতে চান। কিন্তু পাক সেনা কি তাঁকে তার জনগণের জন্য ‘আচ্ছে দিন’ আনতে দেবেন? বহুদলীয় জোটও কি তাঁকে মোদির মতো করে সরকার চালাতে দেবে? অর্থাৎ ভারতের মতো খোলা হাওয়া ইমরান পাবেন না।
২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়া পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) এখন সরকার গঠনের হিসেব মেলাতে ব্যস্ত। পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের দেওয়া চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, সরকার গঠনের জন্য আরও অন্তত ২২টি আসন প্রয়োজন তাদের। সেক্ষেত্রে ইমরানকে অন্য দল কিংবা নির্দল প্রার্থীদের সঙ্গে জোট সরকার গঠন হবে। অন্যতম দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল পিএমএল-এন ও পিপিপি’র সঙ্গে তাদের জোটে শামিল হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, সামনের দিনগুলোতে পার্লামেন্টে পিটিআইকে যেন বেকায়দায় ফেলা যায়, তা নিয়ে যৌথ কৌশল নির্ধারণের কথা ভাবছে পিপিপি ও পিএমএল-এন।

 

যেসব পিটিআই নেতা নির্বাচনে একাধিক আসনে জয় পেয়েছেন, সাংবিধানিক শর্ত মেটাতে উপনির্বাচনের জন্য তাদের অতিরিক্ত আসনগুলো ছেড়ে দিতে হবে। একজন নির্বাচিত পার্লামেন্ট সদস্য কেবল একটি আসনের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন। পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান খান পাঁচটি আসনে জয় পেয়েছেন। সেক্ষেত্রে তাঁকে চারটি আসন ছেড়ে দিতে হবে। আরও এক পিটিআই নেতা গোলাম সারওয়ার খানকেও একটি আসন ছেড়ে দিতে হবে। খাইবার পাখতুনওয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পারভেজ খাত্তাক একইসঙ্গে জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের আসনে জয় পেয়েছেন। পিটিআই যদি আবারও তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেয়, তবে তাকে জাতীয় পরিষদের আসনটি ছেড়ে দিতে হবে। এই অবস্থায় পিটিআই-এর প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ১১৫টি থেকে কমে ১০৯-এ দাঁড়াবে। বাকি ৬ আসনের উপনির্বাচনে নতুন করে জয় পেতে হবে তাদের। এই হিসেব মাথায় রেখে পিটিআই নেতৃত্ব এখন ছোট ছোট দল ও নির্দল প্রার্থীদের সঙ্গে সমঝোতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংবাদসংস্থা ডন জানিয়েছে, পিটিআই-এর প্রাক্তন মহাসচিব জাহাঙ্গির তারিন নির্দল প্রার্থী ও মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট-পাকিস্তান (এমকিউএম-পি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। নির্বাচনে এমকিউএম-পি ৬টি আসন পেয়েছে। নির্দল প্রার্থীরা জিতেছেন ১৩টি আসনে। সূত্রের খবর, ইমরান নিজেও দু’টি আসন পাওয়া গ্র্যান্ড ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (জিডিএ)’র নেতা মমতাজ ভুট্টোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে জোটে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। নির্বাচনে চারটি আসন পেয়েছে পিএমএল-কয়েদ (পিএমএল-কিউ)। এর মধ্যে দলের নেতা চৌধুরী পারভেজ এলাহি দু’টি আসন পেয়েছেন। উপনির্বাচনের হিসেব বাদ দিলে, দলটি ইমরানের সঙ্গে জোটভুক্ত হলে তিনটি আসন যোগ হবে সম্ভাব্য জোট সরকারে। পাশাপাশি বালুচিস্তান আওয়ামি পার্টি (বিএপি)-এরও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে ইমরানের দল। বিএপি নির্বাচনে চারটি আসন পেয়েছে।

 

পিটিআই যদি জিডিএ, এমকিউএম-পি, পিএমএল-কিউ ও আওয়ামি মুসলিম লিগের সমর্থন পায়, উপনির্বাচনের হিসেব বাদ দিলে তাদের আসন সংখ্যা হবে ১২২টি। সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় ১৩৭ আসন থেকে ১৫টি আসন কম থাকবে তাদের। সেক্ষেত্রে বিজয়ী ১৩ নির্দল প্রার্থীর সমর্থন পেলেও দু’টি আসন কম থাকবে। জাতীয় পরিষদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অন্য দলগুলো হচ্ছে বালুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টি-মেঙ্গাল (বিএনপি-এম), জামহুরি ওয়াতান পার্টি, আওয়ামি ন্যাশনাল পার্টি ও পাকিস্তান তেহরিক-ই- ইনসানিয়াত। নির্বাচনে বিএনপি-এম পেয়েছে তিনটি আসন। আর জামহুরি, আওয়ামি ন্যাশনাল পার্টি ও তেহরিক-ই-ইনসানিয়াত প্রত্যেকে ১টি করে আসন পেয়েছে।
একদিকে জোটশর্ত, অন্যদিকে সেনা নির্ভরতা—ইমরান আসলে কী হবেন, সেটা সময়েই বোঝা যাবে।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!