আপডেট ২ ঘন্টা আগে ঢাকা, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, ৮ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ প্রধান প্রতিবেদন

Share Button

সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তুষ্টি দূর করার অ্যাসাইনম্যান্ট দিলো মাহমুদ-রিজভী ও মোমেনকে

| ০০:২৭, আগস্ট ৮, ২০১৮

লন্ডন টাইমস নিউজ । ৮ আগস্ট । ২০১৮ ।

 

২০১৪ সালের নির্বাচনের পর নানা কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উপর নাখোশ ছিলো। অনেকেই ইউনূস এবং হিলারি ইস্যুকে সেজন্য দায়ী করলেও মূলত দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিনীদের হয়ে ভারতের ক্যাম্পেটন্সি কূটনীতির খেলা না বুঝার কারণেই তখনকার ঢাকার বিদেশ মন্ত্রণালয় অনেক বিপত্তি ঘটায়। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি উদ্যোগ নিয়ে সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি বোস্টনের অধ্যাপক ডঃ আবদুল মোমেনকে একচ্ছত্র দায়িত্ব দিয়ে মিশন শুরু করে সম্পর্কের উন্নয়নে। যার ফলে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের সীমাহীন ক্যাম্পেইন ও চিঠি চালাচালি ও পিটিশনের পরও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের এবং একই সাথে পশ্চিমা দাতা দেশ সমূহের সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটে।

 

হঠাত করে আবার গত কয়েক সপ্তাহের ভিতরে মার্কিন সরকার ও ঢাকার সরকারের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়ন শুরু হয়। ড্যান মজিনার স্টাইলে বর্তমান বিদায়ী মার্কিন অ্যাম্বাসাডর সরকারের এক ধরনের সমালোচনা বিবৃতির আকারে দেয়া শুরু করেন। যা মার্কিন সরকারের নীতি এবং এর প্রভাব পড়তে শুরু করে সর্বত্র। বার্ণিকাটের এমন প্রকাশ্য সরকার বিরোধী আচরণে পশ্চিমা অন্যান্য দাতা দেশ সমূহের মধ্যেও দেখা দেয় আগ্রহ।

 

সম্প্রতি গাজীপুরের মেয়র নির্বাচন আর ছাত্র আন্দোলন নিয়ে বার্ণিকাটের বিবৃতি এক ধরনের সরকারের বিরোধীতারই নামান্তর-যা সর্বমহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।  

 

সর্বশেষ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে কথিত হামলার ঘটনা ওয়াশিংটন পর্যন্ত গড়িয়েছে। সরকারের প্রতি মার্কিন মনোভাব ক্রমশ: নেতিবাচক হিসেবে প্রকাশ হচ্ছে। এরকম প্রেক্ষাপটে, সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটানোর উদ্যোগ নিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আবদুল মোমেনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা বলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবারই মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাটকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বাসভবনে ডেকে নেন। দুজন প্রায় দুঘণ্টা বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী আগামী সপ্তাহেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। ড. রিজভী এখন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। এখানে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর ব্যক্তিগত কর্মসূচি রয়েছে। এটা শেষ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্র যাবেন বলে জানা গেছে। এদিকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আবদুল মোমেন আগামী মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন।

 

সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি গত কিছুদিন ধরেই পরিকল্পিতভাবে মার্কিন প্রশাসনে বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত। তাঁরা বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে নানা অভিযোগ করে আসছে। যারা সরকারের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিষোদগার করছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ড. কামাল হোসেন এবং সুশীল সমাজের কিছু ব্যক্তি। সরকারের ধারণা, এদের বাইরেও বিএনপি-জামাত সরকার বিরোধী প্রচারণা করছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে। সিনেটর এবং কংগ্রেসম্যানদের কাছেও বিএনপি-জামাতের পক্ষ থেকে নিয়মিত পিটিশন দাখিল করা হচ্ছে।

 

সরকারের একাধিক নেতা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের চমৎকার সম্পর্ক ছিল। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে দুই দেশের সম্পর্কে কিছু অনভিপ্রেত বিষয়ের উদ্ভব হয়েছে। সরকারের একজন শীর্ষ স্থানীয় নেতা বলেছেন, ‘মার্কিন নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনের পরাজয়ের পর আমরা আশা করেছিলাম দুই দেশের সম্পর্কের নতুন মদদ পাবে। কিন্তু একটি মহল সরকারের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের দূরত্ব সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

 

দেখা গেছে, মাদক বিরোধী অভিযানের সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত কঠোর ভাষায় এই অভিযানের সমালোচনা করে। গাজীপুর সিটি নির্বাচনের পর মার্কিন দূতাবাস থেকে এই নির্বাচনে জনরায়ের প্রতিফলন ঘটেনি বলে মন্তব্য করা হয়। সাম্প্রতিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে মার্কিন মনোভাব ছিল সরকারের বিরুদ্ধে। এরপর মার্কিন রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে কথিত হামলার ঘটনা। সংশ্লিষ্ট সূত্র গুলো বলছে, নির্বাচনের আগে সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে চায় না। আর সে কারণেই সম্পর্ক উন্নয়নে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

অভিজ্ঞমহলের মতে, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনেক ঢিমে তালে চলেন, যার ফলে রোহিঙ্গা ক্রাইসিস সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়  বিশ্বদরবারে সীমাহীন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, যার খেসারত বাংলাদেশকে দিতে হচ্ছে।

 

আর অভিজ্ঞ ডঃ গওহর রিজভী দিল্লি ছাড়া অন্য কোথাও এখন আর গ্রহণযোগ্যতা নেই। তাছাড়া সময়ের সাথে এবং যুগের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কূটনীতি চালাতে রিজভী ক্যারিশমা অনেকটাই ম্রিয়মান।

 

ডঃ আব্দুল মোমেন হতে পারতেন সেই সব দ্যুতিয়ালি ও ক্যারিশম্যাটিক কূটনীতিতে সফল-যার ক্যারিয়ারে এবং বিগত দশকে ক্রাইসিস কূটনীতি ডেভেলপম্যান্টে অত্যন্ত সফলতার ট্র্যাক রেকর্ডের অধিকারি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  সহ পশ্চিমা দুনিয়া আর মধ্যপ্রাচ্য সহ সর্বত্র রয়েছে বিশেষ প্রভাব। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সরকার রাজনৈতিক কূটচালে ডঃ আব্দুল মোমেনের মতো চৌকস সফল এক কূটনীতিককে দেশে এনে বসিয়ে রেখেছে।প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসনে ধারণাও দিয়েছিলেন ফরেন মিনিস্ট্রিকে ডঃ আবদুল মোমেনের মতো লোকজনের দরকার-সেদিনের সেই আশাবাদ যদি তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়িত করতেন, তাহলে বাংলাদেশকে আজ এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতোনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লবিং করে বাংলাদেশকে আস্থায় নেয়ার জন্য এই মুহুর্তে আওয়ামীলীগের জন্য ডঃ আবদুল মোমেনের বিকল্প নেই। রোহিঙ্গা ইস্যু, সরকারের সাথে মার্কিন প্রশাসনের সম্পর্কের উন্নতি ও দ্রুত যোগাযোগ সমন্বয়,বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ আবার যে ইমেজ সংকটে পড়েছে, সেটাকে পুনরুদ্ধারের জন্য মোমেনই হতে পারেন একমাত্র বিকল্প।ঢাকা সহ সর্বত্র এখন এ বিষয়টি ব্যাপকভাবে গুঞ্জরিত হচ্ছে।   

 

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!