আপডেট ২ ঘন্টা আগে ঢাকা, ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং, ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ আইন আদালত

Share Button

চোখ বেঁধে শহিদুল আলমকে নাকে ঘুষি মারা হয়েছে: সারা হোসেন

| ২২:৩৭, আগস্ট ৯, ২০১৮

আমিনুল ইসলাম মল্লিক

 

 

নিরাপদ সড়ক চেয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী ডঃ শহিদুল আলমকে চোখ বেঁধে নাকে ঘুষি মেরে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে হাইকোর্টের কাছে তুলে ধরেছেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন।

৯ আগস্ট, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ২২ মিনিটে আদালতে শহিদুল আলমের আইনজীবী ডঃ কামাল হোসেনের মেয়ে ব্যারিস্টার সারা হোসেন সাবমিশন রাখেন।

এর আগে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে সাবমিশন রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তিনি আদালতে শহিদুল আলমের মামলার আর্জি ও পুলিশের বক্তব্য নিয়ে যুক্তি তুলে ধরেন। শহিদুল আলম শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে আল জাজিয়া টেলিভিশনে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেটি উস্কানিমূলক ছিল বলে উল্লেখ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। শহিদুল আলম যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন সেটি ট্র্যাকিং করে ডিবি পুলিশ। পরে রাত ৩টার সময় ডিবি পুলিশ শহিদুল আলমকে আটক করে।

আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘শহিদুল আলমের বিষয়ে পরবর্তী তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে রিমান্ডে রাখা হোক।’

আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘শহিদুল আলম তো বলেননি যে তিনি অসুস্থ, পাগল।’ তখন আদালত বলে, ‘মেন্টালি টর্চার করলে এগুলো বলতে হয় না।’ অ্যাটর্নি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করার পর চারজন ডাক্তার তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। এখানে চারজন ডাক্তারের মধ্যে তিনজনই ছিলেন বিভাগীয় প্রধান। তাকে যারা পরীক্ষা করেছেন, তারা একটি প্রতিবেদন দিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহিদুল আলম ইজ ফিজিক্যাল সাউন্ড (শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ)।’

৫২২ নম্বর কেবিনে নিয়ে শহিদুল আলমকে ভালোভাবে পরীক্ষা করা হয় বলে আদালতকে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি আদালতকে আরও জানান, তাকে (শহিদুল) নির্যাতন করা হলে তো সেটি পরীক্ষায় উঠে আসত।

এরপর সারা হোসেন আদালতে বলেন, ‘ড. শহিদুল আলমকে আটক রেখে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে সেটি আইনসম্মত হয়নি (আন ল’ ফুল হয়েছে)। উনাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে চোখ বেঁধে, হাত বেঁধে। উনার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হবে—এ রকম হুমকিও দেওয়া হয়েছে। সাদা একটি মাইক্রোবাসে সাদা পোশাকের লোকজন তাকে আটক করে নিয়ে গেছে। এটি আইনসম্মত হয়নি।’

সারা হোসেন আরও বলেন, ‘সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উনাকে আইনসম্মতভাবে আটক করা হয়নি। উনার মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। নির্যাতনের জন্য উনাকে শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা করতে হবে। বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে, সে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উনি ফিজিক্যালি অ্যান্ড মেন্টালি সাউন্ড (শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ)। আবার উনাকে পরীক্ষাও করা হয়েছে অসুস্থতার কারণে।

হাইকোর্টের আদেশ কিন্তু উনার অসুস্থতা যাচাই করতে বলেনি। হাইকোর্টের আদেশ দেওয়া হয়েছিল যে, উনাকে নির্যাতনের ভিত্তিতে উনার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। উনি নির্যাতিত হয়েছেন, এ জন্য উনার মেডিকেলে পরীক্ষা করা দরকার ছিল। আমরা আদালতে বলেছি, যারা মেডিকেল পরীক্ষা করেছেন, চারজন ডাক্তার; তাদের মধ্যে একজনও মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন না। অথচ মানসিক বিশেজ্ঞ ছাড়া উনারা কী করে একটি প্রতিবেদন আদালতে দিলেন? এবং বললেন যে শারীরিক এবং মানসিককভাবে শহিদুল আলম সুস্থ। মানসিক সুস্থতা প্রমাণ বা যাচাই করার কোনো ডাক্তার কিন্তু ছিলেন না সেখানে।

সরকার পক্ষ আদালতে বলেছে যে শহিদুল আলমের আবেদনটি আইনসম্মত হয়নি। আদালতের সামনে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতে বলেছি উনাকে আদালতের সামনে কীভাবে আনা হয়েছে, সেটি নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলছি না। আমরা বলছি, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উনাকে নেওয়া হয়েছে আটক করে। উনার সঙ্গে কী আচরণ করা হয়েছে। এটি আইনসম্মত হয়নি। উনার ব্যাপারে ম্যাজিস্ট্রে যে আদেশ দিয়েছে, সেটি আইনসম্মত হয়নি।

ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শহিদুল আলম যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন সেটি কিন্তু সবাই শুনেছেন। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট যখন আদেশ দেন তখন লিখেন উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদেশ দিলাম। উনি (ম্যাজিস্ট্রেট) যে শহিদুল আলমের মুখ থেকে যেসব কথা শুনেছেন, সেটি কিন্তু এক বাক্যও লিখেননি। শহিদুল আলম আদালতে দাঁড়িয়ে যেসব কথা বলেছেন, সেসব কথা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আদেশে লিখতে বাধ্য। এ সরকারের সময় নতুন একটি আইন হয়েছে ২০১৩ সালে। রিমান্ডে রেখে কাউকে নির্যাতন করা যাবে না। হেফাজতে নিবারণ আইনে বলা আছে, যেকোনো ব্যক্তি আদালতে বক্তব্য দিলে সেগুলো রেকর্ড করতে হবে। আদালত তাৎক্ষণিকভাবে উনার (শহিদুল আলম) শারীরিক পরীক্ষা করে মানসিক চিকিৎসা করানোর আদেশ দেন। সে জন্য আমরা আদালতে বলেছি ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশটি বেআইনি হয়েছে।’

এরপর আদালত বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, ‘আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমকে হেফাজতে মৃত্যু ও নির্যাতন নিবারণ আইন অনুযায়ী শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে কি না সে ব্যাপারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।’ আগামী সোমবারের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিবকে এই প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বিচারিক আদালতে।

৯ আগস্ট, বৃহস্পতিবার বিচারপিতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!