আপডেট ৪৩ min আগে ঢাকা, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, ৮ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ জাতীয়

Share Button

কনজারভেটিভ পার্টি বরিসের বিরুদ্ধে কোড অব কন্ডাক্ট তদন্ত করবেঃরূপা হক এমপির কঠোর সমালোচনা

| ০২:০৫, আগস্ট ১০, ২০১৮

লন্ডন টাইমস নিউজ । ১০ আগস্ট । ২০১৮।

 

মুসলিম নারীদের বোরকা পরিধানকে কেন্দ্র করে ডেইলি টেলিগ্রাফে বরিস জনসন তার সাপ্তাহিক কলামে লেটার বক্স বা ব্যাংক রবার কটুক্তিতে ফুসে উঠেছে ব্রিটিশ মিডিয়া ও মূলধারার সিভিল সোসাইটি। যার ধাক্কা গিয়ে লেগেছে কনজারভেটিভ পার্টিতেও। কনজারভেটিভ পার্টি সূত্রে জানা গেছে, দলীয় কোড অব কন্ডাক্ট এর ভিত্তিতে বরিস জনসনের কটুক্তির তদন্ত করবে দল। তবে কনজারভেটিভ পার্টি দলীয় কোড অব কন্ডাক্ট কঠোর গোপনীয়তা বিধায় প্রকাশ করছেনা।

Woman in burka in Bradford

এদিকে বরিস জনসনের এমন কটুক্তিতে মুসলিম নারীরা তীব্র প্রতিবাদ করলেও মূলধারায় এখন মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, বরিস জনসন তার সাপ্তাহিক কলামে এমন উক্তি করে তার বক্তব্যের বা মতামতের স্বাধীনতা প্রকাশ করেছেন, কোন অ্যাসল্ট আচরণ ভঙ্গ করেননি।আবার অন্যপক্ষ তার মন্তব্যের সমালোচনা করলেও বলছেন, তিনি শারিরীক স্পর্শের মতো কাজ করেননি, যা ক্রিমিন্যাল অফেন্স, বরং তার মতামত দিয়েছেন।

 

কিন্তু বিক্ষুব্ধরা বলছেন, বরিস জনসন মুসলিম নারীদের আঘাত করেছেন, তাদের কটু মন্তব্য করেছেন, ইসলামোফোবিয়াকে উস্কে দিয়েছেন-সস্তা জনপ্রিয়তার জন্যে।

 

ব্যারোনেস সাঈদা ওয়ার্সি তার দলীয় এই নেতার মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেছেন কোড অব কন্ডাক্ট অনুসারে তদন্ত করে দেখা উচিৎ।

 

ডঃ রূপা হক এমপির কঠোর সমালোচনাঃ

Image result for dr rupa huq mp

বরিস জনসনের সমালোচনাকারীদের তালিকায় এবার যুক্ত হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুপা হক। পত্রিকায় লেখা নিবন্ধে বোরকা পরা নারীদের চিঠি রাখার ঢাকনাওয়ালা বাক্সের সঙ্গে তুলনা করায় বরিস জনসনকে ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বরিস জনসনের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পশ্চিম লন্ডনের ইয়েলিং আসন থেকে নির্বাচিত লেবার পার্টির সংসদ সদস্য রুপা হক ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ওই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায় ক্ষমতাসীন দলটির পদাধিকারীদের মধ্যে কতটা ইসলামভীতি বিদ্যমান।

রুপার ভাষ্য, ‘বরিস জনসন ১৯৭০ সালের কোনও ভাঁড়ামিপূর্ণ নাটকের দৃশ্যে অভিনয় করেছেন না। তার একজন রাষ্ট্রনেতার মতো আচরণ করার কথা, আমরা একুশ শতকে রয়েছি। আমি নিজেও বোরকা পছন্দ করি না। কিন্তু তার মন্তব্যটি বিভিন্ন দিক থেকে নিন্দনীয়। মধ্যবিত্ত এক মোটা ধাঁচের শ্বেতাঙ্গ পরুষ হয়ে নারীদের কী পরা উচিত আর কী পরা উচিত নয়, সে বিষয়ে তাকে উপদেশ দিতে দেখে আমি হতাশ হয়েছি।’
প্রতীকী ছবি

১০০ নারীর চিঠিঃ

expanded thumbnail

বোরকা নিয়ে কটূক্তি করা যুক্তরাজ্যের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনকে কনজারভেটিভ পার্টি থেকে বহিষ্কার করার দাবি জানিয়ে দলটির সভাপতি ব্র্যানডন লুইসের কাছে চিঠি লিখেছেন নেকাব বা বোরকা পরা ১০০ নারী।

বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট ২০১৮) দেশটির শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম স্কাই নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়েছে। চিঠিটিও প্রকাশ করেছে এই গণমাধ্যম।

চিঠিতে বলা হয়েছে, জনসন শুধু ক্ষমা প্রকাশ করলে তা যথেষ্ট হবে না। কারণ তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এটা করেছেন। নিজেদের পক্ষে কথা বলার এবং পোশাক বাছাইয়ের সক্ষমতা নারীদের আছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।

জনসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে স্কাই নিউজ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে তার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কনজারভেটিভ পার্টি।

 

বোরকা সংক্রান্ত মন্তব্যের জেরে বরিস জনসনের ওপর ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে চাপ বাড়ছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেজা মেও ওই নিবন্ধের কারণে অনেকের ‘আহত’ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে স্বীকার করে নিয়ে কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান ব্র্যান্ডন লুইসের পক্ষ থেকে জানানো ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানকে সমর্থন করেছেন। তার ভাষ্য, ‘আমি ব্র্যান্ডন লুইসের সঙ্গে একমত। বরিস লোকজনের পোশাকের বিষয়ে লিখতে গিয়ে এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করেছেন যা নিশ্চিতভাবে অনেককে আহত করেছে। আমরা কি চাই মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা থাকুক? নারীর ক্ষেত্রে বোরকা ও নিকাব পরার স্বাধীনতা কি থাকা উচিত নয়? আমি বিশ্বাস করি, নারী যেভাবে চায় তার সেভাবে পোশাক পরার অধিকার থাকা উচিত। ’

 

দাবি উঠেছে বরিসকে দল থেকে বের করে দেয়ার জন্য। যুক্তরাজ্যের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী জেরেমি রিটও মনে করেন তার সাবেক কেবিনেট সহকর্মী বরিস জনসনের ব্যবহৃত শব্দগুলো অবিবেচনাপ্রসূত। তার ভাষ্য, ‘কোনও বিষয়ে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা হতেই পারে। কিন্তু একজন পাবলিক ফিগার হিসেবে আমাদের কিছু বিষয় মাথায় রেখেই চলা উচিত।’

যুক্তরাজ্যের ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বরিস জনসন নিয়মিত কলাম লেখেন। গত সোমবার তিনি ডেনমার্কে বোরকা নিষিদ্ধের প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যেও ইসলামি পোশাক নিষিদ্ধের বিষয়ে কলাম লিখেছিলেন। তার ভাষ্য, ‘আপনি যদি বলেন বোরকা নিপীড়নমূলক, তাহলে আমি সেটার সঙ্গে একমত। আমি বরং আরও বলব, মানুষের লেটার বক্সের মতে দেখতে পোশাক পরাটা একেবারেই উদ্ভট। বোরকা পরা একজন নারী শিক্ষার্থী যদি বিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয় তাহলে তার শিক্ষকের অবস্থা এমন হবে যেন তিনি কোনও ব্যাংক ডাকাতের দিকে তাকিয়ে আছেন।’

তিনি মনে করেন, যুক্তরাজ্যের সরকার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন ড্রেস কোড প্রচলনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত যাতে সবার মুখ উন্মুক্ত থাকে। তবে তিনি সতর্কতা অবলম্বন করে এটাও বলেছেন, ‘এমন উদ্যোগ কার্যকর করার প্রস্তাব আর স্বাধীন কোনও নারীর পোশাক পাবলিক প্লেসে কী হবে তা নির্ধারণ করে দিতে চাওয়া এক বিষয় নয়।’

বরিস জনসন অক্সব্রিজ অ্যান্ড রুইসলিপ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি লন্ডনের মেয়রও ছিলেন। ব্রেক্সিটের সমর্থনে তৎপর বিশাল জনপ্রিয় বরিসকে এক সময় কনজারভেটিভ পার্টির সম্ভাব্য প্রধান মনে করা হতো।

এখনাকার অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, বরিস তার মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বাড়তে থাকা সমালোচনার পরও মুখ খুলতে নারাজ। নিজে সমালোচনার বিষয়ে মুখ না খুললেও বরিস জনসনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র তার বিরুদ্ধে হওয়া সমালোচনাকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যায়িত করে বলেছেন, ‘আমাদের এ বিষয়ে কথা বলতে হবে। আমরা যদি উদারনৈতিক মূল্যবোধের পক্ষে অবস্থান নিতে ব্যর্থ হই তাহলে তা প্রতিক্রিয়াশীল ও চরমপন্থীদের জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়ার সমান হবে।’

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!