একজন তরুন কবির চোখে বঙ্গবন্ধু

প্রকাশিত: ১০:৫৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০১৮ | আপডেট: ১০:৫৫:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০১৮
সাকিব জামাল
“শোন একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কন্ঠস্বরের ধ্বনি-প্রতিধ্বনি আকাশে বাতাসে ওঠে রণী বাংলাদেশ, আমার বাংলাদেশ।। – গৌরী প্রসন্ন মজুমদার” প্রথমেই ক্ষমা প্রার্থণা করে নিচ্ছি – এতো উচ্চমানের একটি প্রবন্ধ আমার মত ক্ষুদ্র মানুষ লিখতে বসেছি হয়তো আমার জ্ঞান স্বপ্লতায় ভুলত্রুটি হতে পারে । দ্বিতীয়ত লেখার স্বার্থে নিজেকে “কবি” ধরে নিতে হচ্ছে । এ দুটো বিষয় ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে সবাইকে দেখার অনুরোধ করছি । একুশ-ছাব্বিশ-ষোল : এই আমার অস্তিত্ব । একুশ-ছাব্বিশ-ষোল : ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ এবং ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর এই তিনটি তারিখ খোচিত আমার অস্তিত্ব । বায়ান্নো এবং একাত্তর এই দুটো চেতানা নিয়েই একজন বাঙালি তরুন কবির সত্ত্বা । শুধু কবিগন নয় – পুরো বাঙালি জাতির অভ্যুদয় এই দুটি সালের সেতুবন্ধন থেকে উৎসারিত । একাত্তরে বিজয় অর্জিত বাঙালি জাতির কবিতা কাহনে, লাল-সবুজের পতাকার দেশে কবিতা নিয়ে আলোচনা শুরু করলে দেশত্ববোধক কবিতার কথা প্রথমে আসে ।
কবিতামাতৃক বাংলাদেশে দেশের কবিতা নানা আঙিকে চিত্রিত হয় কবির কলমের আঁচরে । যারা লেখালেখি করেন তারা বাংলার রূপ সৌন্দর্য্য, ঋতু বৈচিত্র্য যেমন এড়াতে পারেন না কোনভাবেই – তেমনি একটি মহান চরিত্রকে উপেক্ষা করতে পারেন না কোনমতেই । আর সে চরিত্রটি হচ্ছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান । “ লাল সবুজের পতাকায়-মুজিব তোমায় দেখা যায়” এটি শুধু রাজনৈতিক স্লোগানই নয়, বাস্তবতা প্রতিচ্ছবি । এজন্যই বিভিন্ন প্রেক্ষিতে, বিভিন্ন উপলক্ষ্যে, বিভিন্ন দিবসে বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেন তরুন কবিদের লেখনিতে অন্যতম প্রধান চরিত্র । “বিশ্বকবির সোনার বাংলা নজরুলের বাংলাদেশ , জীবনানন্দের রূপসী বাংলা রূপের যে-তার নেইকো শেষ” – দেশত্ববোধক কবিতার কথাই তাই প্রথমে বলি । দেশত্ববোধক কবিতা, গান সব সময়ই বাঙালিদের প্রাণের খোরাক ।
আমার প্রিয় বাংলাদেশকে নিয়ে কবিতা আমি যখন লিখতে বসি, দেশমাতার সমান কোন ব্যক্তিত্ব কল্পনা যদি করতে হয় কবিতার প্রয়োজনে, তবে তিনি একমাত্রই বঙ্গবন্ধু । কবি মাত্রই দেশপ্রেমিক । দেশপ্রেম তার মনকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে । দেশের সমসাময়িক বিষয়াবলী ধনাত্মক এবং ঋনাত্মক উভয়ভাবেই ফুটে ওঠে দেশের কবিতায় । মজার ব্যাপার- দুই ধরনের কবিতায় কবির অন্তরকুঞ্জে বাস করেন জাতির জনকের চেতনার, তার দ্রোহের কন্ঠস্বরের পাখিরা । প্রায় সব কবির দেশের কবিতায় তাই অপ্রতিদ্বন্ধী একক চরিত্র বঙ্গবন্ধু । দেশের সাথে জড়িত সব ঘটনায় বঙ্গবন্দু এতিহাসিকভাবে জড়িত । ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহের কবিতায় তিনি উজ্জ্বলতম চরিত্র ।
১৯৬৩ এর ২৮ আগস্ট বর্ণবাদী আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং এর সেই ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ মহাকাব্যের পর আরো একটি মহাকাব্য রচিত হয় ১৯৭১ এর ৭ মার্চ রেসকোর্সে । যেমন এতিহাসিক ৭ মার্চ নিয়ে আমার লেখা“একটি মুজিব- একটি তর্জনী আঙুল” কবিতায় বলেছি – “এই প্রজন্মের এই আমি কৃতজ্ঞ সদা – একটি মুজিবের, একটি তর্জনী আঙুলের নির্দেশে- জন্মেই পেয়েছি প্রিয় বাংলাদেশ, প্রিয় স্বাধীনতা ।” এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেছেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সাধারণ কোন নাম বা উপাধি নয়-একটি ইতিহাস, একটি স্বাধীন বাংলাদেশ, একটি স্বাধীন জাতিসত্ত্বা” -এই উক্তিটি প্রণিধানযোগ্য । (সুত্র : এই বেলা ।) দেশের কবিতা, দেশপ্রেমের কবিতা – এসব ক্ষেত্রে শুধু তরুন কবিদেরই নয় সবই কবির কবিতায় তিনি অপ্রতিদ্বন্ধী চরিত্র । এ দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকে জাতির জনক বলেছিলেন – “এখন যদি কেউ বাংলাদেশের স্বাধীনতা হরণ করতে চায়, তাহলে সে স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্যে মুজিব সর্ব প্রথম তার প্রাণ দেবে।“ স্বাধীনতার কবিতার কথা বলি এবার । স্বাধীনতা হীনতায় কেউ থাকতে চায় না, বাঁচতে চায় না ।
যুগে যুগে শুধু স্বাধীনতার জন্যই পৃথিবীর বুকে লড়াই হয়েছে, হচ্ছে । আমরাও করেছি ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস । বাঙালি জাতি যখন নির্যাতন নিপীড়নে ক্লান্ত তখন আশার আলোকবাতি জ্বালিয়ে রেখেছিলেন একমাত্র বঙ্গবন্ধু । ইতিহাস জানা আছে সবার । আমি আলোচনাকে সাহিত্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখছি তাই । “Our sweetest songs are those that tell of saddest thought.” – Percy Bysshe Shelley তিনি বলেছেন এ কথা, আর আমি বলি-“Our sweetest songs are those that tell of maximum freedom.” আর এ কথাটি আমাকে শিখিয়েছেন বঙ্গবন্ধু ! কিভাবে শিখালেন তা আপনিও জানেন, যখন তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দিয়ে সাথেই বলে দিলেন এটি আমাদের মুক্তিরও সংগ্রাম । সে কারণেই তরুন কবিদের স্বাধীনতার কবিতা, মুক্তির কবিতা লেখার প্রেরণার ব্যাক্তিত্ব বঙ্গবন্ধু ।
তরুন কবিদের স্বাধীনতার কবিতা একাত্ত্বর থেকে পাওয়া, এর প্রেক্ষিতে আমি আমার “আমার স্বাধীনতা” কবিতায় বলেছি – “আপনমনে ঘর বাধা—আপনমনে বাস, আপনমনে সবার সনে—ন্যায্য ভূমির চাষ, এ আমার ভালোবাসা—এগিয়ে যাওয়ার প্রথা একাত্তরে যুদ্ধে পাওয়া—আমার স্বাধীনতা।“ পক্ষান্তরে অগ্রজ কবিদের স্বাধীনতার কবিতা ছিলো একাত্তরপূর্ব নানা বিষয়, নানা ব্যাক্তি, নানা রাজনৈতিক প্রক্ষাপট সহ একাত্ত্বর থেকে পাওয়া । এর মানে একাত্ত্বরপূর্ব এবং উত্তর দুটো সময়ই অগ্রজ কবিরা দেখেছেন, আমরা দেখেছি একটি সময় একাত্ত্বর উত্তর থেকে সমসাময়িক- এতটুকুই পার্থক্য । আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভুমিকা রাখা ব্যক্তিবর্গ থেকে তরুন কবিদের কবিতায় অন্যান্য নেতৃবৃন্ধের বঙ্গযন্ধু স্বমহিমায় প্রধান চরিত্র হয়েছেন । “বাংলাদেশ” কবিতায় আরেক তরুন কবি শুভাশিস দাশ বলেছেন- “স্বাধীনতা তোমার নামে শপথ নিয়ে বলি শেখ মুজিবের পথেই যেন ন্যায়ের পথে চলি!”( সূত্র : চিন্তাসূত্র ) জাহাঙ্গীর হাবীবউল্লাহ তার কবিতা “পতাকায় পেল সুখ” এ বলেছেন – “আহ্বান ধ্বনি আকাশে বাতাসে অন্তরে এলো ভেসে মার্চের ডাক মহান নেতার মুক্তিযুদ্ধ দেশে, বীরযোদ্ধারা ন’মান যুদ্ধে পতাকায় পেল সুখ স্বাধীন হয়েছি বিজয়ের ফলে দেখি সূর্যের মুখ।“(স