আপডেট ৫ ঘন্টা আগে ঢাকা, ১৭ই জুন, ২০১৯ ইং, ৩রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ই শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ আজকাল

Share Button

ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করুন

| ২২:৫৭, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮

গত শনিবার ‘উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও সুশাসন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের অভাব, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা জেঁকে বসেছে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন। তাদের এ মূল্যায়ন যে যথার্থ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। বিরাজমান পরিস্থিতি ব্যাংকিং খাতের জন্য অশনি সংকেত, তা বলাই বাহুল্য।

পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে হলে ব্যাংকিং খাতে অবশ্যই সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি বা বেসরকারি যে কোনো প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা ও অভ্যন্তরীণ সুশাসনের ওপর। কেননা সুশাসিত একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই কেবল দক্ষতার সঙ্গে সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।

এ প্রেক্ষাপটে ব্যাংকের অভ্যন্তরে সুশাসন নিশ্চিত করতে সঠিক জায়গায় সঠিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। একইসঙ্গে তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠাও জরুরি।

বলার অপেক্ষা রাখে না, ব্যাংকগুলোর শীর্ষ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিবর্গের দুর্নীতি দেশের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম-জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা না কমে বরং দিন দিন বাড়ছে। এটি কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আর্থিক খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যাংকিং খাত দেশের মুদ্রা বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কাজেই বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় অপরাধমুক্ত, স্থিতিশীল ও দক্ষ ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় মনোযোগ দিতে হবে।

বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত ছাড়াও অধিকাংশ বেসরকারি ব্যাংক নতুন নতুন অনিয়ম, জালিয়াতি ও দুর্নীতির জন্ম দিচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সমগ্র অর্থনীতির ওপর। ব্যাংকিং খাতে অরাজকতার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমানতকারীরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

এ প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতকে সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনার পাশাপাশি এ খাতে আদর্শ ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করা গেলে অর্থনীতিতে স্বস্তির বাতাস বইবে বলে মনে করেন ব্যাংক ও আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

দেশে এখন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ছড়াছড়ি। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এ খাতে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যায়-অনিয়মের সঙ্গে যুক্তদের আইন অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনতে না পারলে ব্যাংকিং খাতের ওপর থেকে মানুষের আস্থা চলে যাবে।

প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা যদি দেশের মানুুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে ব্যর্থ হয়, তবে দেশের অর্থনীতিতে প্রাণসঞ্চারের কাজটি মারাÍকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে, যা কোনোমতেই কাম্য নয়। বিগত কয়েক বছর ধরেই ব্যাংকিং খাতে সংকট চলছে, সম্প্রতি যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

এ খাতে জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ধারাবাহিকতায় বেসিক ব্যাংক থেকে অন্তত সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারি এখনও আলোচিত-সমালোচিত।

এর সঙ্গে সম্প্রতি যোগ হয়েছে ফারমার্স ব্যাংকের অনিয়ম-দুর্নীতি। এসবের পাশাপাশি অধিকাংশ ব্যাংকই নতুন নতুন অনিয়ম, জালিয়াতি ও দুর্নীতির জন্ম দিচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতিতে। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে হলে ‘উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও সুশাসন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা যেসব সুপারিশ করেছেন, তা বাস্তবায়নের পাশাপাশি দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে, এটাই প্রত্যাশা।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!