আপডেট ১৪ ঘন্টা আগে ঢাকা, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৫ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ অর্থ-বণিজ্য

Share Button

রাজাপুরে সচেতনতার অভাবে ভোক্তা অধিকার আইন বাস্তবায়ন হচ্ছে না

| ২১:১৪, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮

রেজাউল ইসলাম পলাশ ফরাজী (ঝালকাঠি) ঃ

 

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে এবং খাদ্যে ভেজাল রোধ ও পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেই কোন কার্যক্রম। ক্রেতা সাধারনের জন্য ভোক্তা অধিকার আইন নামে দেশে একটি আইন আছে এবং আইনটি ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশে চালু রয়েছে। রাজাপুর উপজেলার সাধারন মানুষের অনেকেই এই ব্যাপারে সঠিক তথ্য জানেন না। এই আইন অনুযায়ী কোনো অসাধু ব্যবসায়ী ভোক্তাকে ঠকালে শুধু শাস্তিই পাবেন না, বরং ভোক্তাও অভিযোগ করে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। এই আইনটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে-ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, ভোক্তা অধিকারবিরোধী কার্য প্রতিরোধ, ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনজনিত অভিযোগ নিষ্পত্তি, নিরাপদ পণ্য বা সেবা পাওয়ার ব্যবস্থা, কোনো পণ্য বা সেবা ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তাকে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা, পণ্য বা সেবা ক্রয়ে প্রতারণা রোধ, ভোক্তা অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টি। উপজেলার বিভিন্ন হাটে বাজারে মিষ্টির দোকানসহ পাইকারি ও খুচরা খাদ্যসামগ্রী বিক্রয়ের দোকানে দেখা যায় ওজন দেয়ার সময় মোটা কাগজে প্রস্তুত মিষ্টির বাক্স অথবা মোটা কাগজে প্রস্তুত ঠোঙাসহ ওজন দেয়া হয়। বাক্স বা ঠোঙার ওজনের কারণে ক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর প্রতিবাদ করতে গেলে ভোক্তাকে অপমানিত হতে হয়। আজকাল প্রায়ই দেখা যায় প্রতিশ্র“ত পণ্য বা সেবা প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী সঠিকভাবে সেবা প্রদানে অবহেলা, দায়িত্বহীনতা বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক সেবা না দেয়ার কারণে উপজেলার কোথাও কোথাও বিভিন্ন সময় দন্ধ, সংঘাত, মারামারি ঘটছে। যারা টাকা দিয়ে কোনো জিনিস বা সেবা কিনে থাকে তারাই হচ্ছে ভোক্তা। ক্রেতা যদি কোনো পন্য বাকিতে, বা কিস্তিতেও কিনে থাকেন তবুও তিনি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতাভুক্ত হবেন। বাংলাদেশ কনজ্যুমারস ফোরামের (সিএফ) পক্ষ থেকে সম্প্রতি ঢাকায় পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, এখনো দেশের ৩৬.২০ শতাংশ মানুষ জানে না দেশে ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণমূলক একটি আইন কার্যকর আছে। ৪৭.৫৫ শতাংশ মানুষ জানে না ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণে সরকারিভাবে একটি অধিদপ্তর স্থাপন করা হয়েছে। পণ্য ও সেবা গ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ৩৩.৩৩ শতাংশ মানুষ কোথাও কোনো অভিযোগ করে না। সেখানে দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চল রাজাপুর উপজেলার ব্যাপক জনগোষ্ঠী ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে জানেই না। সরকার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বিষয়ে এপিএ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে সেমিনার আয়োজনের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারবৃন্দের অনুকূলে বাজেট বরাদ্দ করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি, সংগঠন সহ ভোক্তাদের নিয়ে হয়নি কোন আয়োজন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে পণ্যে ভেজাল বা নকল পণ্য উৎপাদন বা বিক্রি করলে কিংবা বিক্রির সময় ওজন বা মাপে কারচুপি করলে এক থেকে তিন বছর কারাদন্ড এবং ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান করা হয়েছে। এ ছাড়া মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বা অন্য যে কোনো পণ্য বিক্রি বা বিক্রির প্রস্তাব করলে অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদন্ড কিংবা উভয় দন্ড হওয়ারও বিধান রয়েছে। তা ছাড়া মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয় এমন কোনো পণ্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণ করলে দুই বছর কারাদন্ড এবং অনধিক দুই লাখ টাকা জরিমানা, মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের প্রতারিত করলে এক বছর কারাদন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, পণ্য বিক্রয়কারীর পরিমাপক যন্ত্র বা বাটখারা প্রকৃত ওজনের চেয়ে কম হলে এক বছরের কারাদন্ড কিংবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, পণ্যের মোড়কের গায়ে ওজন, পরিমাণ, উৎপাদন এবং মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। এ নিয়ম মানা না হলে এক বছর কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, দোকানে কোনো দৃশ্যমান স্থানে পণ্যের মূল্যের তালিকা ঝুলিয়ে রাখতে হবে, এ নিয়ম না মানলে এক বছর কারাদন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে। উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জরিমানা আরোপ, ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম সাময়িক বা স্থানীয়ভাবে স্থগিত করতে পারবেন।
দেশে সাধারণ ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলার একমাত্র প্রতিষ্ঠান কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব) ১৯৭৮ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি ভোক্তাদের স্বার্থে আন্দোলন করে আসছে। নিরাপদ, ভেজালমুক্ত খাদ্যের জন্য প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। অথচ রাজাপুর উপজেলায় ক্যাব এর নেই কোন কার্যক্রম। উপজেলার সাধারণ জনগণ প্রতিনিয়তই এবং পদে পদে ভোক্তা অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ব্যবসায়ী কর্তৃক ভোক্তাদের ঠকানোর প্রবণতা পূর্বাপর একই আছে। অত্র উপজেলায় সচেতনতার অভাবে ভোক্তাদের অধিকার খর্ব হচ্ছে সবসময়। এ ব্যাপারে উপজেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সদস্যসচিব উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা বেগম পারুল জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়সই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

রাজাপুরে র‌্যাবের হাতে আটক এক মাদক ব্যবসায়ী


ঝালকাঠির রাজাপুরে মোঃ মিলন আকন (৪০) নামের এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ১৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ র‌্যাবের হাতে আটক। সোমবার রাত ১১টায় উপজেলার কানুদাসকাঠি এলাকার মৃত আফতাব জম্মাদার বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার উপর মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের সময় হাতেনাতে বরিশাল র‌্যাব-৮ এর একটি বিশেষ টহলরত টিম মিলনকে আটক করে। এ সময় মিলনকে তল্লশী করে তার শার্টে পকেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ১৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। মিলন উপজেলার কানুদাসকাঠি গ্রামের মৃত মতিউর রহমান আকনের ছেলে। এ ঘটনায় র‌্যাব-৮ বাদী হয়ে রাজাপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করে মামলা নং ৯। মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে মিলনকে ঝালকাঠি আদালতে প্রেরন করা হয়।

অবশেষে কিছুটা ‘দখলমুক্ত’ হয়েছে রাজাপুরের ফুটপাত

ঝালকাঠির রাজাপুরে জেলা প্রশাসক হামিদুল হক এর নির্দেশে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা বেগম পারুল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ডাকবাংলো সড়ক থেকে শুরু করে বাদুতলামোড় হয়ে বাইপাসমোড় এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তার সাথে স্থানীয় সাংবাদিক সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন। পরে নির্বাহী কর্মকর্তা সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, জনসাধারনের চলাচলের সুবিধার্থে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চলছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলা সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে অভিযান পরিচলনা করা হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় মানুষ স্বস্থির নি:শ্বাস ফেলছেন। কিন্তু এই দৃশ্যের স্থায়িত্ব কতোদিন? ফুটপাত দখলমুক্ত হয়েছে ইতোপূর্বে বিচ্ছিন্নভাবে। কিন্তু তা সাময়িক সময়ের জন্য। দখলমুক্ত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই আবার বেদখল হয়ে গেছে ফুটপাত। অতীতে এমন ঘটনা ঘটেছে অসংখ্যবার। যে কারণে মানুষ ভরসা করতে পারছে না যে সম্প্রতি দখলমুক্ত ফুটপাত এভাবেই সবসময় পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!