আপডেট ২৩ min আগে ঢাকা, ১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৭ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ জাতীয়

Share Button

প্রধানমন্ত্রীর ছায়াসঙ্গিনীর জন্মদিনঃপ্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

| ১১:৪৭, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮

অনলাইন ডেস্ক । ১৩ সেপ্টেম্বর । ২০১৮।

 

 

১৯৭৫ সালের ২৯ জুলাই। স্বামী এম এ ওয়াজেদ মিয়া পশ্চিম জার্মানিতে পিএইচডি করছেন, তাই স্বামীর কাছে যাওয়ার জন্য দেশ ছাড়লেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। সেই যাত্রায় বড় আপার সঙ্গী হলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। আপার সঙ্গী হওয়ার কথা ছিল না তাঁর। কিন্তু শেখ হাসিনার ছেলেমেয়ে জয় এবং পুতুল তখন ছোট। তাদের দেখাশোনার একটা ব্যাপার আছে। এসব বিবেচনা করে যাত্রার মাত্র দুদিন আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো বড় আপার সঙ্গে পশ্চিম জার্মানিতে যাবেন তিনি। ভাগ্যিস, সেদিন সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছিল। নয়তো বঙ্গবন্ধু পরিবারের আরেক সদস্যকেও ৭৫ এর ১৫ আগস্ট নারকীয় হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুবরণ করতে হতো। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার অসীম কৃপায় সেদিন প্রাণে বেঁচে যান শেখ রেহানা। ভাগ্যের জোরে মৃত্যু থেকে বেঁচে যাওয়া আর কর্মের জোরে জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়া বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানার আজ জন্মদিন। ১৯৫৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা জন্মগ্রহণ করেন।

বঙ্গবন্ধু কন্যা এবং প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ রেহানার তেমন সরব উপস্থিতি নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগের দুর্দিনে এবং শেখ হাসিনার শেখ হাসিনা হয়ে ওঠার পেছনে অসামান্য অবদান রেখেছেন শেখ রেহানা। পাদপ্রদীপের আলোর বাইরে থেকেই তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে রেখে চলেছেন তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা।

সপরিবারে যখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয় তখন অল্প বয়স ছিল শেখ রেহানার। ওই বয়সেই বাবা-মাকে হারিয়ে এতিম হয়ে যান তিনি। মাথার ওপর বড় বোন শেখ হাসিনা ছাড়া আর কারও ছায়া রইলো না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর এই কনিষ্ঠ কন্যা দুর্দমনীয়। হার মানতে শেখেননি তিনি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি প্রথমে ভারতে চলে যান। এক পর্যায়ে শেখ হাসিনা দেশে ফেরত আসার সিদ্ধান্ত নেন, তবে শেখ রেহানা সিদ্ধান্ত নিলেন লন্ডনে যাবেন। লন্ডনের কিলবার্নে শেখ রেহানার বিয়ে হয় ড. শফিক সিদ্দিকের সঙ্গে। দুটি সন্তান নিয়ে টিকিট কেটে লন্ডনে যাওয়ার মতো টাকা না থাকায় সেই বিয়েতে অংশ নিতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে শেখ হাসিনা।

ওই দিনগুলোতে কঠোর সংগ্রাম করেছেন শেখ রেহানা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক‍্যান্টিনে খাবার পরিবেশনের কাজও করেছেন তিনি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নিরহঙ্কারী, নির্লোভ আদর্শে বেড়ে ওঠা শেখ রেহানা এসব কাজ করেছেন স্বাচ্ছন্দ্যে। এই পরিশ্রম কিন্তু ফল দিয়েছে। রত্নগর্ভা শেখ রেহানাই সম্ভবত বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল মা। তাঁর বড় মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটিশ পার্লামেন্টে লেবার পার্টি একজন এমপি, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ঢাকায় একটি ইউএনডিপিতে কনসালটেন্সি করছেন আর ছোট মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। কিন্তু এতগুলো সফল ছেলেমেয়ের মা হয়ে, দেশের প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন হয়ে এবং নিজের কর্মজীবনে সফল হয়েও নিরহঙ্কারী চরিত্রটি বদলায়নি শেখ রেহানার। এখনো লন্ডনে বাসে চড়ে অফিসে যান তিনি।

শেখ রেহানা একদমই নেপথ্যচারিনীর জীবনযাপন করেন। কিন্তু বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার জীবনে তাঁর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। আমরা যখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা বলি তখন আমরা অবশ্যম্ভাবী ভাবে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের নাম নেই। বঙ্গবন্ধুর জীবনে ও কর্মে বঙ্গমাতাই ছিলেন অনুপ্রেরণা। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বঙ্গবন্ধুকে পরামর্শ দিতেন বঙ্গমাতা, তাঁর জন্যই বঙ্গবন্ধু বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠতে পেরেছিলেন। কিন্তু এত অবদান রাখার পরও প্রচারের আলোয় থাকতে অনাগ্রহী ছিলেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা। বেগম ফজিলাতুন্নেসার ছোট মেয়ে শেখ রেহানাও তাঁর মায়ের মতোই হয়েছেন। পর্দার অন্তরালে থেকেই বড় বোন শেখ হাসিনাকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করেন তিনি। তাঁর জন্যই শেখ হাসিনা আজকের শেখ হাসিনা হয়ে উঠতে পেরেছেন। পৃথিবীতে কারও পরামর্শ যদি শেখ হাসিনা শোনেন, তাহলে সেই ব্যক্তিটি শেখ রেহানা। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংকটে তিনিই মূল কাণ্ডারির ভূমিকা পালন করেন।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে যখন পাকিস্তানি শাসকরা হয়রানি করছিলো, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসাই তখন তাঁর পাশে থেকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেছেন। একই ভাবে এক-এগারোর সময় যখন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয় তখন তাঁর পাশে ছিলেন শেখ রেহানা। ওই সময়টাতে দলকে সংগঠিত রাখা, দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফকে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে পাঠানো, আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার মতো কাজগুলো করে সংকটকালীন সময়ে আওয়ামী লীগকে একতাবদ্ধ রাখার কাজটি করেছিলেন তিনি। তবে নেপথ্যচারিনী শেখ রেহানার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেশ ও দলের দুঃসময়েই সীমাবদ্ধ। সুসময়ে তিনি রাজনীতি থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করেন। আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় আছে, তাই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আর দেখা যায় না তাঁকে।

বড় বোন শেখ হাসিনার মতো পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ না হলেও জাতির পিতার আদর্শে অটল শেখ রেহানা। নেপথ্যচারিনী শেখ রেহানা আজীবন বাংলাদেশের উন্নয়নের কর্ণধার শেখ হাসিনার পাশে শক্তি হয়ে থাকবেন বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যার জন্মদিনে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

শেখ রেহানাকে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের শুভেচ্ছা

ব্যস্ততার মধ্যেও শেখ রেহানাকে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের শুভেচ্ছা

আজকের দিনটি প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রচণ্ড ব্যস্ততার। দিনের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ)। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ভাষণ দিয়ে সেখান থেকে ফিরতে ফিরতেই দুপুর। বিকেলে আবার আছে অনুষ্ঠান। নতুনরূপে আসা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এত ব্যস্ততার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী আজ বেলা ৩ টার দিকে ফোন করলেন লন্ডনে। লন্ডনে তখন মাত্র দিনের শুরু হয়েছে, সকাল ৯ টা বাজে। ফোনে প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানালেন শেখ রেহানাকে। আজ যে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানার জন্মদিন। ১৯৫৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা জন্মগ্রহণ করেন।

শেখ রেহানাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। জন্মদিনের আনন্দঘন মুহূর্তে আসে বিষাদের সুর। শেখ হাসিনার সঙ্গে জার্মানিতে ছিলেন বলেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ থেকে প্রাণে বেঁচে গেছেন শেখ রেহানা। পরিবারের সবাই হারিয়ে এখন শুধু বেঁচে আছেন তাঁরা দুজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন রেহানা।

জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ রেহানার দীর্ঘায়ু কামনা করেন। আবেগঘন কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার জীবন থেকে আয়ু কমিয়ে হলেও আল্লাহ যেন তোমার হায়াত বাড়িয়ে দেন।

উল্লেখ্য, শেখ রেহানা দেশেই ছিলেন। গত শনিবার তিনি লন্ডন চলে যান। আর প্রধানমন্ত্রী শত ব্যস্ততার মধ্যে ছোট বোন শেখ রেহানার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!