আপডেট ৫ ঘন্টা আগে ঢাকা, ১৭ই জুন, ২০১৯ ইং, ৩রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ই শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ আজকাল

Share Button

মর্যাদাপূর্ণ দুই অ্যাওয়ার্ড পেলেন প্রধানমন্ত্রী

| ২১:২৪, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৮

বাসস, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র-রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে মানবিক ও দায়িত্বশীল নীতির জন্য অনন্য নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মর্যাদাপূর্ণ ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ এবং ‘২০১৮ স্পেশাল ডিস্টিংকশন অ্যাওয়ার্ড ফর আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট’ দেওয়া হয়েছে।

বৈশ্বিক সংবাদ সংস্থা ইন্টার প্রেস সার্ভিস (আইপিএস) প্রধানমন্ত্রীকে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড এবং নিউইয়র্ক, জুরিখ ও হংকংভিত্তিক একটি অলাভজনক ফাউন্ডেশনের নেটওয়ার্ক গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন ‘২০১৮ স্পেশাল ডিস্টিংকশন অ্যাওয়ার্ড ফর আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট’ সম্মাননা দেয়। শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে এই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন।

নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষ ৮-এ অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সংবর্ধনায় ডিরেক্টর জেনারেল অব ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন অ্যাম্বাসেডর উইলিয়াম লুসি সুইংয়ের কাছ থেকে শেখ হাসিনা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন।

এতে কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্সের জাতিসংঘ আন্ডার সেক্রেটারি মার্ক লোকক, আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক কানাডার মন্ত্রী মারি-ক্লাউড বিবেউ বক্তব্য দেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন আইপিএস ইন্টারন্যাশনালের মহাপরিচালক ফারহানা হক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর অসাধারণ নেতৃত্বের জন্য গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশনের বার্ষিক অ্যাওয়ার্ড ডিনারে সংস্থাটির অবৈতনিক প্রেসিডেন্ট ইরিনা বোকোভা ‘২০১৮ স্পেশাল ডিস্টিংকশন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করেন।

এই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণকারী অপর তিন বিশ্ব নেতা হচ্ছেন নাইজারের প্রেসিডেন্ট মাহমাদু ইসুফি, তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট রেজি কেইড এসেবসি ও গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী এলেক্স সিপ্রাস।

পদক গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিকের আশ্রয়ে হৃদয় ও ঘরবাড়ি উন্মুক্তকারী আমার দেশের জনগণের উদ্দেশে এই সম্মাননা উৎসর্গ করছি।’ এই অনুষ্ঠানে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেন,Ñযাঁর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সার্বভৌম ও স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি মনে করি বিশ্বের নিপীড়িত ও বাস্তুচ্যুত মানুষদের প্রতি মানবিকতা প্রদর্শন সকল দায়িত্বশীল জাতির দায়িত্ব।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রচেষ্টায় বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য নিজস্ব সম্পদ থেকে প্রায় ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছি। এ ছাড়া আবাসন গড়ে তোলা ও ভূমি উন্নয়নে অতিরিক্ত প্রায় ৩৮০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছি। আমাদের মনে রাখতে হবে, এই সংকটের উৎসভূমি হচ্ছে মিয়ানমার। এ জন্য এর সমাধান মিয়ানমারেই খুঁজতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি ও পুনরেকত্রীকরণ নিশ্চিত করতে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সুস্পষ্ট দায়িত্ব হচ্ছে সম্মিলিতভাবে মিয়ানমারেই এই সমস্যার সমাধান করা এবং আরও বিতাড়ন বন্ধে দেশটির সরকারের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করা। এ ছাড়া এ ক্ষেত্রে জবাবদিহির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মিয়ানমারে জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নৃশংস অপরাধের পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই শুধু রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের দীর্ঘ ৯ মাসে এক কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। সে সময় আমি এবং আমার পরিবার ঢাকায় অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ছিলাম। ওই বন্দীদশার মধ্যে আমার প্রথম সন্তানের জন্ম হয়।’ তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আমার মা, তিন ভাই এবং এর মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ভাইয়ের বয়স ছিল ১০ বছর; ভাবি ও চাচার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর আমাকে ৬ বছর দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য করা হয়।’

প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকতার অঙ্গনে অনেক অবদানের জন্য ইন্টার প্রেস সার্ভিসকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণকে সম্মানিত করার জন্য গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন ও এর অবৈতনিক প্রেসিডেন্ট ইরিনা বোকোভাকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি যে কারণে আজ এখানে দাঁড়িয়েছি, তা কখনো আশা করিনি। মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে নির্মম নৃশংসতা সংঘটিত হয়েছে, তা বিশ্বে নজিরবিহীন।’

প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যার আশু সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের প্রতি তাদের চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান দীপু মনি ও প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী অন্য সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!