আপডেট ২ ঘন্টা আগে ঢাকা, ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং, ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ আইন আদালত

Share Button

সিলেটের হোসনাবাদের ৩০ কোটি টাকার ভূমি দখল নিয়ে উত্তেজনা

| ১৮:১৭, অক্টোবর ৫, ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে | ৬ অক্টোবর ২০১৮, শনিবার

 

 

সিলেটের হোসনাবাদ আবাসিক এলাকায় প্রায় ৩০ কোটি টাকার ভূমি দখল পাল্টা দখল নিয়ে উত্তেজনা চলছে। প্রতিদিনই ভূমিতে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করতে মহড়া দেয়ায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। এর মধ্যে ঘটেছে বাসা দখলের ঘটনাও। জোরপূর্বক বাসা দখলের ঘটনায় বুধবার রাতে সিলেটের এয়ারপোর্ট থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। এর আগে একাধিকবার জিডিও করা হয়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আদালতে বিচারাধীন থাকা জমি দখল-পাল্টা দখল নিতে দুইপক্ষ মরিয়া হয়ে ওঠায় এলাকায় ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকে তারা।

নগরীর শাহী ঈদগাহের পাশেই হোসনাবাদ আবাসিক এলাকা। এই এলাকায় ২ একর ৮৫ শতক ভূমি নিয়ে ১৯৬৬ সাল থেকেই দুইপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। একপক্ষে রয়েছেন এলাকার আব্দুল আজিজ ও আহমদ আলী। অপরপক্ষে এম আহমদ টি এন্ড ল্যান্ড কোম্পানি। বিরোধপূর্ণ এ ভূমির বর্তমান মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। সম্পত্তি নিয়ে হাইকোর্টের আপিলেড ডিভিশনে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই অবস্থায় দখল পাল্টা দখল নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। আম্বরখানা মৌজার ওই ভূমির রেকর্ডিয় মালিক আব্দুল আজিজ ও আহমদ আলী। ১৯৬৬ সালে জমি নিজেদের দাবি করে তৎকালীন সিলেটের মুনসিফ আদালতে মামলা করেছিল এম আহমদ টি এন্ড ল্যান্ড কোম্পানি। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়ে বিচার শুরু হয়। ১৯৭৪ সালের জানুয়ারি মাসে মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারক। রায়ে এম আহমদ টি এন্ড ল্যান্ড কোম্পানির দায়ের করা ওই মামলাটি খারিজ হলে রায় রেকর্ডিয় মালিকদের পক্ষে যায়।

এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে এম আহমদ টি এন্ড ল্যান্ড কোম্পানি। সিলেটের অতিরিক্ত জেলা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক ১৯৯২ সালের ৩১শে মার্চ আপিল মঞ্জুর করে রায় প্রদান করেন। এতে রায় যায় এম আহমদ টি এন্ড ল্যান্ড কোম্পানির পক্ষে। এই রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে রেকর্ডিয় মালিকরা হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন মামলা দায়ের করেন। পরবর্তী ২০০৬ সালে হাইকোর্ট বিভাগের একক বেঞ্চ বিচারপতি আতাউর রহমান খান সিভিল রিভিশন মামলা খারিজ করে দেন। এরপর সুপ্রিম কোর্টের আপিল ডিভিশনে আপিল করলে সেটি একক শুনানির জন্য বিচারপতি বুরহান উদ্দিনের বেঞ্চে প্রেরণ করা হয়। ওই আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২০শে মার্চ রেকর্ডিয় মালিকদের পক্ষে সিভিল রিভিশন মামলা মঞ্জুর করেন। ফলে মামলার রায় এম আহমদ টি এন্ড ল্যান্ড কোম্পানির বিপক্ষে যায়। এরপর এম আহমদ টি এন্ড ল্যান্ড কোম্পানি হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আ্যাপিলেড ডিভিশনে আপিল করার জন্য ২৬৪৬/২০১৭ লিভ টু আপিল দায়ের করেন। এখনো ওই আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।

হোসনাবাদের ওই জমিতে এখন কয়েকশ মানুষের বসবাস। প্রায় ৫০টি পরিবার এতে বসবাস করেন। ক্রয় সূত্রে অনেকেই হয়েছেন জায়গার মালিক। মামলার বিচারের শেষপর্যায়ে এখন ভূমি দখল ও পাল্টা দখল নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সর্বশেষ বুধবার এলাকার শাহজাহান সিদ্দিকীর দায়ের করা মামলা দ্রুত বিচার আইনে গ্রহণ করেছে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। মামলার আর্জিতে শাহজাহান সিদ্দিকী জানিয়েছেন, গত ২০শে সেপ্টেম্বর তার  মালিকানাধীন বাসায় দখল নিয়েছে একটি পক্ষ। এ সময় তারা ওই বাসায় ভাঙচুরও চালায়। মামলায় এলাকার আনোয়ারসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশে বুধবার রাতে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। এখন তদন্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করা হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এর আগে ২১শে সেপ্টেম্বর নিরাপত্তা চেয়ে এয়ারপোর্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন হোসনাবাদ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট শামীম আহমদ সিদ্দিকী। ওই জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, সন্ত্রাসীরা প্রায় ১০-১২টি মোটরসাইকেল নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই এলাকায় মহড়া দিয়ে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তার ভাড়াটিয়াদের জমি ছেড়ে দেয়ার জন্য তারা বার বার হুমকি প্রদর্শন করছে। এতে করে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ রয়েছেন বলে জানান তিনি। পরে ২৩শে সেপ্টেম্বর তিনি সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরেকটি মামলা করেন। এ মামলায় আসামি করেন, আনোয়ার হোসেন, খসরু মিয়া, বিপ্লব, নুর মোহাম্মদ, রফিক আহমদ, আফি নূর, রাশেদ আহমদসহ ১০-১২ জনকে।

মামলার বাদী অ্যাডভোকেট শামীম আহমদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, বিরোধপূর্ণ হওয়ায় জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। অপরপক্ষের আপিলের শুনানি না হওয়ার কারণে এখনো মামলার রায় তাদের পক্ষে রয়েছে। সুতরাং সবদিক দিয়েই দখলদাররা বৈধ। এ ছাড়া বিএস রেকর্ডের মালিক হিসেবে তাদের নাম রয়েছে। জোরপূর্বক জমি থেকে উচ্ছেদ করে ভীতির সৃষ্টি করা হচ্ছে। অবিলম্বে এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!