আপডেট ৩ ঘন্টা আগে ঢাকা, ১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৭ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ জাতীয়

Share Button

‘শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউট’ উদ্বোধন

| ২৩:৪৭, অক্টোবর ২৪, ২০১৮

বাসস ও স্পেশাল করাসপন্ডেন্ট, ঢাকা- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনীতির নামে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা পুনরাবৃত্তির বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে খালেদা জিয়া ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করেছিল।

প্রায় চার হাজার মানুষ অগ্নিসন্ত্রাসের শিকার হয়, যার মধ্যে প্রায় ৫০০ মানুষ আগুনে পুড়ে মারা যায়। মানুষ পুড়িয়ে হত্যা কী ধরনের রাজনীতি- এমন প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কোনোভাবেই আর এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না। এ ধরনের জঘন্য অপকর্মের সঙ্গে যারা যুক্ত হবে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন চানখারপুল এলাকায় ‘শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউট’ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

৫০০ শয্যাবিশিষ্ট দেশের প্রথম এ বার্ন ইন্সটিটিউটে বিশ্বের সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতিসহ উন্নততর চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকবে। অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসায় বর্তমান সরকার ২০১৬ সালে ৫২২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

১২ তলাবিশিষ্ট এ ইন্সটিটিউটে ৫৪টি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট, ৬০ শয্যাবিশিষ্ট হাইডেফিসিয়েন্সি ইউনিট, ১২টি অপারেশন থিয়েটার এবং অত্যাধুনিক পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড। জরুরিভাবে রোগী নিয়ে আসার জন্য ভবনের ছাদে হেলিপ্যাড সুবিধাও আছে।

প্রধানমন্ত্রী এই বার্ন ইন্সটিটিউটের নির্মাণ কাজে সম্পৃক্ত সেনাবাহিনীসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটি যাতে একটি উন্নত বিশ্বমানের ইন্সটিটিউট হিসেবে গড়ে ওঠে সেই ব্যবস্থা অবশ্যই আমরা করব। যাতে আগুনে পুড়লে আমাদের কোনো লোককে আর বিদেশে যেতে না হয়। দেশে বসেই যেন চিকিৎসাটা পায় এবং এজন্য নার্সদেরও বিদেশ থেকে প্রয়োজনে ট্রেনিং করিয়ে আনা হবে এবং নতুন যন্ত্রপাতি ব্যবহারে টেকনিশিয়ানদেরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে, অনেকদূর আমাদের যেতে হবে। তবে, আমাদের পাঁচ বছর সময় প্রায় শেষ এবং সামনে নির্বাচন। তিনি বলেন, নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ যদি নৌকা মার্কায় ভোট দেয় আমরা আবার আসব (ক্ষমতায়), তখন এই কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। ক্ষমতার পালাবদলে এ বার্ন ইন্সটিটিউটের অগ্রযাত্রা যেন থমকে না যায়, তা সবাইকে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইস্টটিটিউটের জাতীয় সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ইঞ্জিনিয়ারিং চিফ মেজর জেনারেল সিদ্দিকুর রহমান সরকার বক্তব্য রাখেন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সিরাজুল হক খান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দুটি স্মারক উপহার দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ যেন তাদের মৌলিক চাহিদাসহ উন্নত জীবন পায় সেটা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীতেও যদি নৌকায় ভোট দিয়ে জনগণ সেই সুযোগ দেন তাহলে অবশ্যই সরকার এখন যে কাজগুলো শুরু করেছে সেগুলো সম্পন্ন করতে পারবে।

তিনি বলেন, পুনরায় ক্ষমতায় এলে দেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা তো করবই, উপরন্তু ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত দেশ হবে এবং ২০২১ সালে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশেই আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব এবং ২০৪১ সালে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হবে।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বলে গিয়েছিলেন ‘বাংলাদেশকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না’। পারে নাই। শুধু মাঝে ২১ বছর এবং ২০০১ পরবর্তী সময়ে আরও আট বছর জাতির জীবন থেকে নষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবাকে আমরা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সমর্থ হয়েছি, অনলাইন চিকিৎসাসেবা চালু এবং কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে ৩০ প্রকারের ওষুধ বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেলা হাসপাতালগুলোকেও আমরা উন্নত করছি। সেখানেও বার্ন ইউনিট তৈরি করছি। যাতে সেখানে পোড়া রোগীরা চিকিৎসাটা নিতে পারে। পাশাপাশি প্রতিটি বিভাগে আমরা একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, হাতে মাত্র ১০ বছর সময় পেয়েছি। এ ১০ বছরে যতটুকু সম্ভব আমরা কাজ করার চেষ্টা করেছি। এ সময়ে ১৯টি মেডিকেল কলেজ এবং ২৮টি ডেন্টাল কলেজ সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা এ সময় পঙ্গু হাসপাতালে পঙ্গুত্ব লাঘবেও সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, সেখানে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট নতুন ভবন তৈরি হয়ে গেছে, যা উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।

সমুদ্র নিরাপদ রাখতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে -প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এশিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন দেশগুলোর অভিজ্ঞতা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে আগামীতে এই অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করার উপায় উদ্ভাবন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, সমুদ্র নিরাপত্তা আমাদের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলের বৃহৎ জনগোষ্ঠী তাদের জীবন-জীবিকার জন্য সমুদ্র সম্পদের ওপর নির্ভরশীল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সকালে রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্ল–তে চতুর্দশ ‘হেডস অব এশিয়ান কোস্ট গার্ড’ (এইচএসিজিএএম)-এর উচ্চ পর্যায়ের সভার উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এশীয় অঞ্চলে অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে একযোগে কাজ করে আমাদের সমুদ্রকে নিরাপদ রাখবে- এটাই আমার প্রত্যাশা। এজন্য আমরা সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করব।

কোস্ট গার্ডের সদস্যরা সমুদ্র এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দুরূহ কাজে নিয়োজিত থাকেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সভার মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো তাদের সমুদ্রসীমা আরও নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত করতে নতুন নতুন কৌশল গ্রহণ করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং স্বরাষ্ট্র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী পরিষদ সদস্য, তিন বাহিনী প্রধান, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং সচিব, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

উপকূলবর্তী দেশ হিসেবে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের মানুষের নানা স্বার্থ জড়িত উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গোপসাগরের অপর দুই অংশীদার ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সীমানা নির্ধারিত না থাকায় বিগত চার দশক যাবত আমরা সমুদ্র তলদেশের সম্পদ আহরণে বাধাগ্রস্ত হয়েছি। জেলে সম্প্র্রদায় মৎস্য আহরণে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। আমাদের মৎস্যসম্পদ অন্য দেশের জেলেরা অবাধে শিকার করেছে।

২০১২ ও ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনবিষয়ক ট্রাইব্যুনালে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তি হয়, যার মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দুটি বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেও এটা করতে সক্ষম হয়েছি। এ বিশাল জলরাশির তলদেশে খনিজসম্পদের প্রাচুর্যতা রয়েছে। এ সম্পদ আমরা উত্তোলন করতে সক্ষম হলে আগামী কয়েক প্রজন্ম লাভবান হবে।

তিনি বলেন, এর ফলে বঙ্গোপসাগরের প্রায় এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকার ওপর নিরঙ্কুশ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ সমুদ্র পরিবহনের মাধ্যমে সম্পাদিত হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের এ সামুদ্রিক এলাকায় মাদকদ্রব্য পাচার, অবৈধ অস্ত্র পাচার, মানব পাচার, অনিয়ন্ত্রিত মৎস্য আহরণ, জলদুস্যতা, সশস্ত্র ডাকাতি এবং আরও বিভিন্ন রকম অবৈধ কার্যকলাপ সংঘটিত হয়ে থাকে। এসব অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে শুধু দেশীয় নয়, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর অপরাধীরা জড়িত।

শেখ হাসিনা বলেন, অপরাধীরা অনেক সময় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে থাকে। কাজেই একক দেশের পক্ষে এদের দমন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, একমাত্র সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে এসব কর্মকাণ্ড দমন করতে।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!