আপডেট ৩ ঘন্টা আগে ঢাকা, ২৩শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং, ১০ই মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ জাতীয়

Share Button

সুলতানের কোট খুলে নেয়াঃমুজিব কোটতো সমগ্র বাঙালির!

| ২৩:১১, অক্টোবর ২৭, ২০১৮

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ

 

 

 

সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমেদ । ছিলেন এক সময়ের ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট। ছিলেন ডাকসুর ভিপি। যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহ সারা বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দাপটে এবং জাসদ ছাত্রলীগের তাড়া খেয়ে মুজিবাদর্শের ছাত্রলীগের ত্রাহী অবস্থা, ঠিক সেই সময়ে আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বড় আদর আর যত্নের সাথে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদকে ছাত্রলীগের সভাপতি করেন। এখানেই শেষ নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত তত্বাবধান আর পছন্দে সেদিনের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের প্যানেলে ডাকসু নির্বাচনে সুলতানকে ভিপি মনোনয়নের রূপকারও আজকের প্রধানমন্ত্রী।

Related image

 

০২) ব্যক্তিগতভাবে আমি সুলতান মনসুরের রাজনীতির সমর্থক কখনো ছিলামনা, এখনো নই। ছাত্রনেতাদের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতির কর্মী নেতারা যেভাবে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেন, সেরকম কোন সম্পর্কও সুলতান মনসুরের সাথে আমার ছিলোনা। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের আবাসিক ছাত্র হিসেবে সেদিনের ছাত্র রাজনীতির চরম অনিশ্চয়তা ও উত্থাল দিনগুলোতে প্রতিরাতে না হলে একদিন অন্তর অন্তর সুলতান মনসুরের সাথে আমার সাক্ষাত হয়েই যেত।সেটা যেন এক ধরনের কাকতালিয় অবস্থা ছিলো, তা নয়, বরং সুলতান ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট এবং ডাকসুর ভিপি হয়েও সুর্যসেন হলে আমার রুমে আসতেন, ক্লান্ত অবসন্ন হয়ে, আগামী দিনের রাজনীতির ছোট খাটো কর্ম কৌশল শেয়ারের মাধ্যমে নিজের পরিকল্পনা ও রাজনীতিকে কিছুটা শানিত করে নেয়ার জন্যে হয়তো। যদিও আমি তা কখনো মনে করতামনা। কিন্তু সুলতান তখনকার ছাত্র ও জাতীয় রাজনীতির ভেতরের অবস্থা অবলীলায় শেয়ার করতেন চরম বিশ্বাস ও ভরসার এক আশ্রয় স্থল হিসেবে। সে সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের তখনকার কিংবদন্তী মরহুম বাবলু, জালালও আসতেন, কথা বলতেন, রাজনীতি এবং ছাত্ররাজনীতির নানান দিক শেয়ার করতেন।

 

 

০৩) সেই হিসেবে সুলতান মনসুরকে খুব কাছে থেকে দেখার ও বুঝার সুযোগ হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন নিরু বাবলু রতন, শহীদ, অভিদের দাপট। ছাত্রলীগ কোনভাবেই কোন হলে উঠাতো দূরে থাকুক, টিকে থাকাই দায় ছিলো। শেখ হাসিনার পছন্দের চৌকস, ক্লিন ইমেজের তরুণ ছাত্রনেতা সুলতান মনসুর তার স্বভাবসুলভ ব্যবহার, মিষ্টি ব্যবহার এবং অনলবর্ষী বক্তা হিসেবে সহজেই সকল শ্রেণীর ছাত্রদের মধ্যে নিজের একটা আসন ও ইমেজ গড়ে তুলেন সহজেই। সুলতানের ক্লিন ক্যারিশম্যাটিক ইমেজের উপর ভর করে ছাত্রলীগ সহজেই ছাত্রদলের পাহাড় সমান বাধা ডিঙ্গিয়ে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কটা হলেই শুধু উঠেনি, সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ও জনপ্রিয়তা ফেলে দেয়-যার সিংহভাগ কারিগর এবং কৃতিত্বের দাবিদার সুলতান মনসুর।ডাকসু নির্বাচন যখন হয়, তখন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ক্যাম্পাসে একচ্ছত্র ক্ষমতা ও শক্তিধরের অধিকারি। সবকটা(তখন১১টা) হলেই ছাত্রদলের আধিপত্য।সেই ক্রান্তিকালিন সময়ে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে সুলতান-মোশতাক-নাসির প্যানেল বিপুল ভোটে জয়লাভ মূলতঃ তখনকার ছাত্রনেতাদের সন্ত্রাস ও পেশী শক্তির বিপরীতে ক্লিন এক ইমেজের ফলেই দারুণ সাড়া জাগিয়েছিলো।

 

 

০৪) এক সময়ে সুলতান মনসুর বাটার স্যান্ডেল আর সাদা পাঞ্জাবি পড়ে সিলেটের অলি গলি চষে বেড়াতেন- এখনো সুলতান সেই সাদা পাজামা পাঞ্জাবি পরিধান করেন, এবং বাটার স্যান্ডেল ব্যবহার করেন বলে জেনেছি। সেই সময়ের দেখা সুলতান মনসুর আর আজকের সুলতান মনসুরের মধ্যে প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু এবং তার কন্যার প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা খুব একটা যে কমতি সিকি পরিমাণ হয়েছে, এমন বোধ হয় তার শত্রুরাও বলতে পারবেনা। আপাদমস্তক বঙ্গবন্ধুর সৈনিক- সারাজীবন দেখে আসছি, সাদা পাজামা পাঞ্জাবির উপর মুজিব কোট পরিধান করতে। যখনি কোন আলোচনা হতো, সেটা সামাজিক, পারিবারিক, রাজনীতিক, অর্থনৈতিক-সুলতান ঘুরে ফিরে কোন না কোন চ্ছলে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করতেন, এখনো সেই একই অবস্থা।

 

০৫) আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সুলতানের কী মান অভিমান কিংবা নেত্রীর সাথে সুলতানের কী দুরত্ব-আমি সেদিকে যেতে চাইনা। সেটা আমার জানার কিংবা বুঝার আগ্রহুও নেই। সেটা সুলতান এবং আওয়ামীলীগের রাজনীতির বিষয়।তবে একজন পোড় খাওয়া জাত রাজনীতিবিদ কিংবা রাজনৈতিক নেতা অথবা রাজনৈতিক কর্মীকে দিনের পর দিন জনতার আড়ালে বা রাজনীতির মাঠ থেকে দূরে রাখলে সেই নেতা বা কর্মীর মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা, বেদনা, দুঃখ দানা বাধতেই পারে। সেই বেদনা, সেই ক্ষত, সেই দুঃখ লাঘবের দায়িত্ব দল ও নেতার(দায়িত্বশীল)।সুলতান মনসুর বিগত ১০ বছর ধরে রাজনীতি থেকে নির্বাসিত। এ নির্বাসন কোন স্বেচ্ছা নির্বাসন নয়, বরং বলা যায়, তাকে নির্বাসনে এক ধরনের জোর করেই পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। সুলতানও নির্বাসনে থেকে বেশ আয়েশে ছিলেন এমনটা এখনো জানিনি বরং ক্ষত ও দগ্ধ হয়ে বার বার সেটাই প্রকাশের ব্যর্থ চেষ্টা করছিলেন, অন্ততঃফেসবুক তার দেয়া বিভিন্ন ষ্ট্যাটাসে সেটাই মনে হয়।

 

০৬) রাজনীতি মানুষের সহজাত, জন্মগত এবং সাংবিধানিক অধিকার। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মতপ্রকাশের অধিকার আরো বেশী ও তীব্রভাবে রাষ্ট্র কর্তৃক সুরক্ষিত।এটাই নিয়ম। আবার একই দল করেও রাষ্ট্রীয় পলিসি কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্য পলিসি নিয়ে সুনির্দিষ্ট সমালোচনা অথবা ভুল ধরিয়ে দেয়া কিংবা নিজ আসনের জনতার বিপক্ষে কোন আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন সাংসদ বা দলীয় নেতা কর্মী-শৃংখলার সাথে। এটাই গণতন্ত্রের বিউটি। তাই বলে নেতার বিরোধীতা অথবা দলের বিরোধী হয়ে  গেলেন একজন-এমন ধারণা গণতান্ত্রিক রীতি নীতি সম্মত নয়। সময়, কাল, স্রোত এবং প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে সুলতান ভিন্নমত পোষণ করতেই পারেন। নিজের মতামত দেয়া ও প্রয়োগের অথবা চর্চার অধিকার তার রয়েছে। সেটা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক আজ জনগনের স্বার্থে অথবা ধরেই নিলাম নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে সুলতান ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছেন।ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়ে তিনি মুজিব কোট ছুড়ে ফেলে দেননি, বরং মুজিব কোটকে আকড়ে ধরে আছেন। ফ্রন্টের সিলেটের জনসমাবেশে সুলতান সিলেটের জেনারেল(অবঃ) ওসমানি থেকে শুরু করে সদ্য প্রয়াত মাও;হাবিবুর রহমানকেও স্মরণ করে বক্তৃতার শুরুতে বঙ্গবন্ধুরপ্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে হলেও সত্য, তার আগেরদিন সুলতান মনসুরের গা থেকে মুজিব কোট খুলে নেয়ার চেষ্টা করা আর খুলে নেয়া-এ কেমন রাজনৈতিক আদর্শ। মুজিব কোট এবং বঙ্গবন্ধু মুজিব শুধু মাত্র আওয়ামীলীগের নিজস্ব সম্পদ নয়- সেটা আওয়ামীলীগ নিজেরাই বলে থাকে। আর এই মুজিব কোট এবং বঙ্গবন্ধু সমগ্র বাঙালির-ইতিহাসের কষ্টিপাথরে সেটা প্রমাণিত, বাঙালি সেটা প্রমাণ করেছে ১৯৭১। সে সব এখানে উল্লেখ করতে চাইনি। আশ্চর্যের বিষয় ছিনতাইকারিরাও ছাত্রলীগে নাম লিখিয়ে নেতা হয়ে ছাত্রজীবনের সব কটা পরীক্ষায় কৃতিত্ব আর মেধার স্বাক্ষর ও প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে যে নেতা ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট হলো, ডাকসুর ভিপি হলো, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে গর্জে উঠলো, জানের মায়া তুচ্ছ করে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের প্রতিরোধে অস্র ধরলো বাঘা সিদ্দিকীর সাথে মিলে, যাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বড় আদর আর যত্নের সাথে দেশে ফিরিয়ে এনে ছাত্রলীগের দায়িত্ব তুলে দিলেন কাধে-সেই সুলতানকে মুজিব কোট পড়ার কারণে অপমাণিত হতে হলো।এ অপমাণ সুলতানকে নয়, বরং বঙ্গবন্ধুকে করা হয়েছে । কারণ মুজিব কোট সুলতানের নয়, বঙ্গবন্ধুর কোট।একধরনের ছিনতাইকারি, ঘাপটিমারা আওয়ামীলীগের ভিতরের কূটিল ষড়যন্ত্রকারি-যারা সিলেট ১ আসনে শেখ হাসিনার পছন্দের প্রার্থী ডঃ আবদুল মোমেনের জয় চায়না, তারাই সুলতানকে অপমাণ করার জন্য ছিনতাইকারিদের পাঠায়। তাদের ষড়যন্ত্র সফলও হয়েছে ভালোভাবেই। যে সুলতান বিগত ১০ বছরের রাজনৈতিক নির্বাসনের ফলে জনগনের চোখ ও মনের আড়ালে চলে গিয়েছিলেন, একটি মাত্র অপমান, সুলতানের জন্য সোনায় সোহাগা হয়ে ফিরে এসেছে। আজ সিলেটের আপামর জনগন, মা ছেলে মেয়ে বুড়ো শ্রমিক সবাই সুলতানের এই অপমান অপদস্থের ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত। ঐক্যফ্রন্টও এই অবস্থাকে লুফে নিচ্ছে দারুণভাবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর এক নম্বর ফেভারিট সিলেট ১ সুলতান। শমসের মবিন সেই খবর পেয়েই তাড়াহুড়ো করেই বিকল্পধারায় যোগদিয়েছেন সিলেট ১ আসনে প্রার্থী হওয়ার আসায়।

 

০৭) রাজনীতিতে বিরোধীতা থাকবেই, ভিন্নমত থাকবে- সেটাকে বিকশিত ও নির্বিগ্নভাবে চলতে দিতে হবে। আর মানুষকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিতে হবে।তানাহলে হিংসা ও অপরাজনীতির ডালা  পালার বিস্তার প্রসারিত হয়ে রাজনীতিকে কলঙ্কিত করবে।

 

 

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!