আপডেট ৪ ঘন্টা আগে ঢাকা, ১৮ই মার্চ, ২০১৯ ইং, ৪ঠা চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১০ই রজব, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ মুক্তমত

Share Button

বাংলাদেশ পলিটিক্সঃআফটারম্যাথ

| ২১:২৫, নভেম্বর ১, ২০১৮

কূটনৈতিক প্রতিবেদক । নয়াদিল্লি । ০১ নভেম্বর । ২০১৮।

 

 

বাংলাদেশের রাজনীতি আবারো বিশ্বের কাছে শিরোনাম। পরিস্থিতি আবারো সকটের দিকে মোড় নিচ্ছে। বার বার জাতিসংঘ সহ বিশ্ব মোড়লেরা বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে নাক গলিয়েছেন- নিকট অতীত এর রেকর্ড খুব একটা সুখকর নয়।

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগের সরকার বেশ দাপটের সাথে ক্ষমতার ছড়ি ঘুরাচ্ছিলো-বিগত দশ বছর ধরে। পাশের দেশ ভারতের একচ্ছত্র সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমা শক্তিধরদের তোড়াই কেয়ার করছিলেন। দেশের ভিতরে শক্তিশালী এবং বড় বিরোধীদল বিএনপিকেও বেশ দাপটের সাথে একে একে ঘায়েল করে চলছিলেন। শেখ হাসিনার দশ বছরের শাসনামলে বিরোধীদল নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দল গুছাতেই পারছিলেননা।বর্তমানে খালেদা জিয়া জেলে, তার ছেলে ব্রিটেনে নির্বাসনে। দুজনের উপর আবার জেল দন্ড জারি।

 

এমনি অবস্থায়, শেখ হাসিনা বেশ শক্তভাবেই দেশ চালাচ্ছিলেন।কিন্তু বাধ সাধে সাবেক বিচারপতি এস কে সিনহা বাবুকে সাক্ষাত দেশত্যাগে বাধ্য করা, ইত্তেফাকের কর্ণধার মানিক মিয়ার বড় ছেলে ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে গ্রেপ্তার, মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে হেনস্থা ও তার গণস্বাস্থ্যে হামলা- শেখ হাসিনার সরকারের জন্য বুমেরাং হয়ে যায়।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাবতেও পারেননি, তার এই খেলা তার জন্য কতো মারাত্মক সংকট নিয়ে আসবে। এমনিতে ডঃ  মোহাম্মদ  ইউনুছ ইস্যুতে  বিশ্ব পরিমন্ডলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বার বার বিব্রতকর অবস্থা থেকে ভারত তুলে আনলেও ভারতে বাণিজ্যিক এনভয় ও আন্তর্জাতিক লবিষ্ট নিয়োগের পর থেকে ইউনুছ প্রশ্নে ভারতের মনোভাবও পাল্টাতে শুরু করে ধীরে ধীরে।

 

০২) সম্প্রতি মায়ানমার এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত চীন ও বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন মাত্রিকতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্রভাবে প্রকাশ হয়ে পড়ে। সেন্টমার্টিন দ্বীপে মায়ানমারের মানচিত্রের অজুহাতে বাংলাদেশ সেবনাবাহিনীর ব্যারাকের সমস্ত অস্র গোলাবারুদ সেন্টমার্টিনে তিনটি শিপ ভর্তি করে নেয়াকে কেন্দ্র করে ভারত-চীন-মায়ানমার সহজ চোখে নেয়নি। যদিও পরবর্তীদিন মায়ানমার তার মানচিত্র থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ মুছে ফেলে অথবা ফেলে দেয়ার ব্যবস্থা করানো হয়।কিন্তু বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সমস্ত অস্র গোলাবারুদ যুদ্ধজান সবই সেন্টমার্টিনে অবস্থান এবং সেজন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অত্র এলাকায় সাধারণ জনগনের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা-মায়ানমার ভারত এবং চীনকে জানিয়ে দিলে ভারত সরকারও শেখ হাসিনার সরকারকে বিষয়টি অবহিত করলে এক ধরনের অস্থিরতা ও চাঞ্চল্য দেখা দেয়। বাংলাদেশে এখন নির্বাচনকালিন সময়। ধরে নেয়াই যায় অস্র গোলাবারুদ ভর্তি সেই শিপগুলো নির্বাচন সময় পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে থাকবে।

 

০৩) সম্প্রতি ঐক্যফ্রন্টের নেতা ডঃ কামাল হোসেন সিঙ্গাপুর সফর করেন-ফ্রন্ট ঘোষণার আগে। সেখানেই ইন্টারন্যাশনাল ষ্টেক হোল্ডারদের সাথে ডঃ কামালের বুঝা পড়া হয়। এরই এক পর্যায়ে ভারত পরিস্থিতি বুঝে ডঃ কামাল হোসেনকে সহযোগিতায় সম্মত হয়। ট্র্যাম্প প্রশাসন ভারতকে এড়িয়ে তাদের পরিকল্পণা বাস্তবায়ন করলে ভারতের জন্য সেটা হতো বিব্রতকর।

 

০৪) সংলাপের ঠিক আগ মুহুর্তে ভারতীয় দূতাবাস প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ডঃ কামাল হোসেনকে ফোন দেন। ভারতীয় দূত এবং শেখ হাসিনা ও ডঃ কামাল হোসেন শুধু জানেন ম্যাসেজ কী । সংলাপের পর ক্ষমতাসীন সরকারের সাধারণ সম্পাদকের টেলিভিশন ব্রিফিং আর ডঃ কামালের ব্রিফিং- দুজনের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ সহজেই সবার চোখ এড়িয়ে যায়নি। পরিস্থিতি যে কতো জটিল-দুজনের মেপে মেপে কথা বলা ও দুজনের মুখ, কন্ট ও চোয়ালে ভাজ-স্পষ্ঠভাবে ফুটে উঠেছে। বাংলাদেশ পরিস্থিতি এখন শুধুমাত্র ভারতের মর্জির উপর নির্ভরশীল নয়।সেই অবস্থান পেরিয়ে নতুন এক আঙ্গিকে এখন ঘটনাসমূহ গড়াচ্ছে।

 

০৫) শেখ হাসিনা এখন যেকোনভাবে নির্বাচন করতে চান।ডঃ কামাল তার ৭ দফা নিয়ে অনড়। ভারত চাইছিলো সংলাপের ভিতর দিয়ে একটা সমঝোতায় পৌছানোর। পশ্চিমাদের কাছ থেকে ভারত শুরুতে দুই বছর সময় নিয়েছিলো-পরিস্থিতির স্বাভাবিক উত্তরনের জন্য। কিন্তু ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের পদ্মার জল অনেকদুর গড়িয়েছে। শেখ হাসিনাও এখন আর ভারতের কথা খুব একটা আমলে নিচ্ছেননা।তিনি চান যেকোন ভাবেই হউক ক্ষমতায় থাকতে। যদিও ভারতের সাথে নির্বাচনের পর দুই বছরের সময়ের জন্য তিনি সম্মত ছিলেন। সৌদি প্রিন্স সালমানের আমন্ত্রণে সৌদি গেলে ভারত নাখোশ হয়ে পড়ে। ভারতের কাছে সিগন্যাল চলে আসে, ক্রাউন প্রিন্সের অভ্যন্তরীন সমস্যা হেতু ইসরাইল লবীর সাথে ঢাকার সম্পর্ক মজবুত করে দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  সফরের সময়ে মার্কিনীদের অনিহা ভারতকে কূটনৈতিক চ্যানেলে জানিয়ে দিলে ভারতও নড়ে চড়ে বসে। কিন্তু ফলাফল যা হবার, তাই হলো। গওহর রিজভীকে যেমন যুক্তরাষ্ট্র থেকে শূন্যহাতে ফিরতে হয়, একইভাবে ক্রাউন প্রিন্সের এবং মার্কিনীদের কাছ থেকেও শেখ হাসিনাকে শূন্যহাতে ফিরতে হয়। শেখ হাসিনার বিগত দশ বছরের শাসনামলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এতো বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি পড়তে হয়নি।  আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রভাবশালী আট গ্রুপ সহ ইউএন চ্যাপ্টার ৮, জাতিসংঘের আর্বিটরি সংস্থা সব এখন জড়িয়ে পড়েছে ঢাকার রাজনীতিতে। আর সেই সব কিছুর মধ্যমণি এখন ডঃ কামাল হোসেন।ডঃ কামাল প্রেস ব্রিফিং বলেছেন, তিনি বুঝতে গিয়েছিলেন। ব্যস এতোটুকু সিগন্যালই আন্তর্জাতিক অঙ্গনের জন্য যথেষ্ট।

 

০৬) গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইতোমধ্যেই রিপোর্ট করেছে, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে আওয়ামীলীগ জোট ১০% আসনও পাবেনা। যে রিপোর্ট এবং ভারতের ম্যাসেজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাতক্ষণিক সংলাপে উদবুদ্ধ করলেও পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে প্রধানমন্ত্রী এখনো পিছিয়ে রয়েছেন। ডঃ কামাল হোসেন বঙ্গবন্ধুর প্রতি দায়বদ্ধ হিসেবে শেখ হাসিনার নিরাপদ এক্সিট চান। শেখ হাসিনা অনড় থাকলে সেই নিরাপদ এক্সিটের পথও বন্ধ হয়ে যেতে পারে-ডঃ কামাল হোসেনকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। কিন্তু ডঃ কামাল হোসেন এবং শেখ হাসিনা এমন এক অবস্থানে এখন দাড়িয়েছেন-যেখান থেকে কেউই আর পেছনে ফিরে আসা অনেক অনেক সেক্রিফাইসের প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে, যা হিমালয়ের মতো বাধা হয়ে আছে।

 

০৭) সংলাপের আগে ক্ষমতাসীন সরকার ঐক্যজোটের নেতাদের কাছে উপঢৌকন পর্যন্ত পাঠিয়েছিলো বলে ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে কূটনৈতিক পাড়ায়। যারা উপঢৌকন গ্রহণ করেছেন, তারাও জানেন, পরিস্থিতি তাদের নাগালের বাইরে। সুতরাং উপঢৌকন তাদের দ্বারা গ্রহণ কিংবা বর্জন কোনটাই এখন আর অর্থবহ নয়।

 

০৮) কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অন্ধভাবে সমর্থন করছেন সোনিয়া গান্ধী। আর শেখ হাসিনাও পিতা বঙ্গবন্ধুর পোড় খাওয়া রাজনীতির সকল গলিপথ বেশ ভালো বলাযায় রাজনীতির পাঠ এবং রাজনৈতিক চাল খেলায় বিশ্বের শ্রেষ্ট নেতাদের সাথে অন্যতম এক আসনে উঠে এসেছেন। তার উপর তিনি ক্ষমতার শীর্ষে আরোহন করছেন। দেশের ভিতরে তার এখনো পুরো নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। হাতে আছে আওয়ামীলীগ এবং ছাত্রলীগ-যাদেরকে তিনি প্রয়োজনের মুহুর্তে মাঠে নামিয়ে মাঠ নিয়ন্ত্রনে নেয়ার ক্ষমতা রাখেন। শ্রমিক সংগঠণগুলোর একচ্ছত্র নেতা হিসেবে শেখ হাসিনার ডান হাত হিসেবে আছেন শাজাহান খান। দুর্দিনের সময়ে তাকে কাজে লাগিয়ে ডঃ কামাল হোসেনদের জন্য পরিবহণ ধর্মঘটের ও অবরোধের দ্বারা পরিস্থিতি কঠিণ করে তুলে রাজনৈতিক ফায়দা তুলে নিতে পারেন। তার উপর আছে দেশের প্রভাবশালী সকল প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ক্ষমতাসীন সরকার অনুদান এবং নানা সুযোগ সুবিধার মাধ্যমে নিজেদের করে নিয়েছেন, যা প্রয়োজনের সময়ে শেখ হাসিনার জন্য বিশাল এক ফোর্স হিসেবে কাজ করছে, যার নমুনা এখনি দৃশ্যমান।ডঃ কামাল হোসেনদের সামান্যতম রাজনৈতিক চালে ভুল- তাদের তৈরি সকল ছককে শুধু তছনছ নয়, ২০৪০ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকার লাইসেন্স যেমন দিয়ে দিবে, তেমনি বিরোধী নেতা কর্মীদের জন্য জেলের দরজা চিরদিনের জন্য খোলা হয়ে যাবে।

 

(বিশ্লেষনের সাথে লন্ডন টাইমস নিউজের সম্পাদকীয় নীতির সাথে কোন সম্পর্ক নেই এবং লন্ডন টাইমস নিউজ ইনফরমেশন ফ্রিডম টু অ্যাক্টের আওতায় মতামত আকারে তথ্য শেয়ারের সুযোগ শুধু দিচ্ছে, এর জন্য কোনভাবেই কোন দায়বদ্ধতা নেই, যেহেতু সকলের মতামতই সমানভাবে প্রকাশ করে থাকে)।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!