আপডেট ৩৫ min আগে ঢাকা, ২৬শে মে, ২০১৯ ইং, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে রমযান, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ জাতীয়

Share Button

ইজতেমা মাঠে হত্যার বিচার চান নিজামুদ্দীন অনুসারীরা

| ১৪:১৫, ডিসেম্বর ৩, ২০১৮

টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে ঘটে যাওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হতাহতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাবলিগের মূলধারার সাথীরা। সোমবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী হলে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তাবলিগের নিজামুদ্দীন অনুসারীরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কাকরাইল মসজিদের মুরব্বি মাওলানা আশরাফ আলী। তিনি বলেন, প্রতিক্রিয়াশীল একটি গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তাদের হস্তক্ষেপ গোটা জামাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। অরাজনৈতিক এ দ্বীনি মেহনতকে তারা রাজনীতির হাতিয়ার বানিয়েছে। গত দুই মাস ধরে তারাই পেশিশক্তির বলে টঙ্গী ইজতেমা ময়দান দখল করে রেখেছিল।

আশরাফ আলী বলেন, মাদ্রাসার নিরীহ ছাত্রদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তাবলিগের মূলধারার সাথীদের ময়দানে প্রবেশে বাধা দিয়েছে। আগামী ১১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমা সফলের লক্ষ্যে সাধারণ সাথীরা গত ৩০ নভেম্বর ময়দানে গেলে তারা প্রবেশে বাধা দেয়। ইজতেমা ময়দানের প্রতিটি গেটে তালা লাগিয়ে তারা মাদ্রাসার কোমলমতি ছাত্রদের দিয়ে পাহারা বসায়।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে হাজার হাজার সাথী ময়দানের বাইরে তালিমরত ছিল। এমতাবস্থায় ভেতর থেকে ইটপাথরের ঢিল নিক্ষেপ করে সংঘর্ষের সৃষ্টি করে। তাদের এলোপাতাড়ি ইটপাটকেলের আঘাতে অনেক সাথী আহত হয়। এরপরও সাথীরা কোনো আঘাত না করে তাদের নিবৃত্ত করার জন্য হ্যান্ডমাইকে আহ্বান জানায়। ভেতর থেকে মুহুর্মুহু আক্রমণের মুখে একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়।

আশরাফ আলী বলেন, বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে সাথীরা ভেতরে প্রবেশের পর তাদের আক্রমণ আরও তীব্র হয়। আমাদের সাথীরা তাদের বারবার থামতে আহ্বান জানানোর পরও তাদের নিবৃত্ত করা যায়নি। মাদ্রাসা ছাত্রদের নির্মম আঘাতে ইসমাইল মণ্ডল (৬২) নামে মুন্সিগঞ্জের এক সাথী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় দুই শতাধিক আহত হয়েছেন।

সংঘটিত ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে বলেন, এ ঘটনার মূল সূত্রপাত বিবেচনা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া তাবলিগে বহিরাগতশক্তির অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। গত দুই মাস ধরে কারা দখল করে রেখেছে, তা দেশবাসী ভালোভাবেই অবগত রয়েছেন।

এতে বলা হয়, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাসউদুল করিম, মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ ও মাওলানা কেফায়েতুল্লাহ আজহারীর নেতৃত্বে কয়েক হাজার মাদ্রাসাছাত্র গত এক মাস ধরে টঙ্গী ময়দান দখল করে রেখেছিল।

গত বিশ্ব ইজতেমার পর থেকে তাবলিগের বহিরাগত এ আলেমরা জেলায় জেলায় নিজামুদ্দীনের অনুসারীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ করে বলেন, প্রতিটি জেলা ইজতেমায় তারা আমাদের বাধা দিয়েছে। বিগত ৬ মাসে ১০০৪টি প্রোগ্রামে তারা সরাসরি বাধা দেয়। গত অক্টোবরে ঢাকা জেলার ইজতেমায় তারা দফায় দফায় বাধা দেয়। ডেমরা,সাভার ও মিরপুরে ইজতেমার নির্ধারিত জায়গায় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে। শুধুমাত্র দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য আমাদের সাথীগণ সর্বক্ষেত্রে ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে।

বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবরোধ করে হেফাজতপন্থীরা দেশবাসীকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে এমন অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিভিন্ন গাড়িতে তল্লাশি করে আমাদের সাথীদের বের করে মারধর করেছে। সামগ্রিক অবস্থার প্রেক্ষিতে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এসবের পূর্ণ দায়ভার তাদের ওপরই বর্তায়। লাঠিসোঁটা নিয়ে চরদখলের মতো ইজতেমায় পবিত্র ময়দান দখলসহ উসকানিমূলক বক্তৃতা, সড়ক অবরোধসহ যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তারা সৃষ্টি করেছে তাবলিগের ইতিহাসে তা এক কলঙ্কময় অধ্যায়।

টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমার ময়দান দখল করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিকারীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় এনে এর বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ কয়েক দফা দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।

দাবিগুলো হলো, নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ ও তাদের পরিবারের দায়দায়িত্ব নেয়া, টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান সরকারি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দখলদার মুক্ত রাখা, দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য ওয়াজাতী জোড়ের নামে সারা দেশে উসকানিমূলক সভা এবং প্রোপাগান্ডা বন্ধ করা, তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বহিরাগতদের অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করা ও আগামী ১১,১২,১৩ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমা যথাসময়ে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সহায়তা করা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কাকরাইলের মুরব্বি মাওলানা মুনির বিন ইউসুফ, মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ, মাওলানা আবদুল্লাহ , মাওলানা সাইফুল্লাহ প্রমুখ।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!