একটি পাসপোর্ট ও এম.ইলিয়াস আলীর স্মৃতি

প্রকাশিত: ১২:০১ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০১৮ | আপডেট: ১২:০১:পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০১৮
সিরাজুল ইসলাম সা’দ।
(একটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে)
দিনক্ষন মনে নেই । বিএনপি তখন দেশ শাসনে এবং এম.ইলিয়াস আলী বিশ্বনাথ- বালাগন্জের সংসদ সদস্য । তাজপুর নিবাসি আমার এক ভাগীনির পাসপোর্ট বানাতে যথাযথ নিয়মানুযায়ী সিলেট পাসপোর্ট অফিসে জমা দেই। নির্ধারিত তারিখে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে গেলে পাসপোর্ট অফিসার বলে দিলেন পুলিশ রিপোর্টে বলেছ এ নামে কাউকে খোঁজে পায়নি তাই পাসপোর্ট দেয়া যাবেনা । আমি অফিসারকে চ্যালেঞ্জ করলাম যে আমার ভাগীনি বাড়িতেই আছে। তিনি বললেন আমাদের কিছু করার নেই তবে পুলিশ যদি আবার আবেদন করে আমরা আবেদন আবার থানায় পাঠিয়ে দেব।
ওসমানী নগর পুলিশের কাছে গিয়ে অনুরোধ করলাম আবেদনটি আবার এনে সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য ।এস আই বলল আমি একবার রিপোর্ট দিয়েছি পাইনাই, এখন আবার ফিরতি চেয়ে আনতে পারবনা। যদি আপনি এটি পাসপোর্ট অফিস থেকে আনতে পারেন, তবে আমি সংশোধন করে দিব।এ ভাবে কয়েকবার ওসমানী নগর পুলিশে গিয়ে আর পাসপোর্ট অফিসে এসে কাকুতি মিনতি করে ব্যর্থ হলাম। পাসপোর্ট যেহেতু প্রয়োজন তাই বাদ্য হয়ে পুলিশ সুপারের নিকট গেলাম । সব বিষয় খুলে বললাম এবং কি ভাবে আমি পাসপোর্ট পাই তাঁর পরামর্শ ও সাহায্য চাইলাম।
ভদ্রলোক বললেন আমার কিছু করার নেই।আর পুলিশ তাদের কাছে আবার চাইতে ও পারবেনা ।বললাম আপনার পুলিশ ভুল রিপোর্ট দিল কেন? বললেন যখন সে গিয়েছিল, হয়তো আপনার ভাগীনি বাড়িতে ছিলনা ।বললাম আমি কি পাসপোর্ট পাবনা ? তিনি বললেন পাসপোর্ট অফিসের ডিজি আমার চেয়ে বড় অফিসার তাই আমি তাকে কিছু বলতে পারবনা । তবে আপনি ডিসি মহোদয়ের নিকট যান । তিনি তাকে বলতে পারেন ।
বহু কষ্ট করে কয়েকদিন পর ডিসি মহোদয়ের সাক্ষাত নসীব হল কিন্তু সব শুনে তিনি বললেন এটা পুলিশ সুপার সমাধান করার কথা, এটা আমার বিষয় নয়। আপনি তাকে গিয়ে বলুন না হয় বিভাগীয় কমিশনারের কাছে যান। হতাশ হয়ে ফিরে এলাম।এদিকে পাসপোর্টের জন্য  একজনের জীবন নষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে ,অনেক কাগজ পত্রের তারিখ চলে যাচ্ছে। এভাবে প্রায় দু মাস পার হয়ে গেল।অবশেষে বিশ্বনাথের সর্বজন শ্রদ্ধেয় মুরব্বী আমার শ্রদ্ধাভাজন মরহুম তজম্মুল আলীর স্যারের নিকট সব ঘটনা বলে তাঁর পরামর্শ চাইলাম । স্যার বললেন কাল সকালে সিলেটে এম.ইলিয়াস আলীর নিকট গিয়ে সব বল- এক মাত্র সে সমাধান করতে পারবে।
পরদিন ভোরে সিলেটের উপশহর বাসায় যাই।শত মানুষের সাথে অপেক্ষা করতে থাকি।যথারীতি একজন একজন করে কে কোন দরকারে এসেছেন তিনি জিজ্ঞেস করছেন এবং এক পর্যায় আমাকে জিজ্ঞেস করলেন এত সকাল কেন এলাম।তাঁর সাথে আমার ভাল পরিচয় ছিল । একটি হাইস্কুলের শিক্ষক হিসাবে স্কুলের বিভিন্ন কাজে ঘনঘন যাতায়াত ছিলো তখন। আমার ইতিহাস শুনার পর তিনি বললেন অনেক ঘাট শেষ করে ব্যর্থ হয়ে যখন এখানে এসেছো, তা হলে আমার কথামত কাজ করতে হবে।এতে পাসপোর্ট না পেলে আমি দেব।আমি রাজী হলাম ।তিনি বললেন এখন পাসপোর্ট অফিসে যাও- আমি এখানে আছি ,ভিতরে ঢুকে ডিজিকে বলো- আমি বলেছি পাসপোর্ট দেওয়ার জন্য । যদি না দেয় তা হলে লিখে দিতে কেন পারবেনা।বললাম আমাকে ঢুকতে না দিতে পারে ।তিনি বললেন যে বাধাঁ দিবে তাকে তোমার হাত প্রয়োগ করবে ।ভয় পেয়োনা আমার মোবাইল সামনে আসে- মিসকল দিও। আমি ১০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছব ইনশাআল্লাহ ।পরে দেখো পাসপোর্ট কি ভাবে হয়।
অনেক ভয়কে জয় করে গেলাম ।প্রথমে পুলিশ ভেতরে যেতে দিলনা ।বলল লাইনে দাঁড়ান ।বললাম এম ইলিয়াস আলী সাব আমাকে এক সংবাদ দিয়ে পাঠিয়েছেন ডিজির কাছে ।সাথে সাথে আমাকে ডিজির কাছে নিয়ে গেল। তিনি বারবার আমাকে দেখে চিনে বললেন কেন এসেছেন । আমি তো পাসর্পোট পুলিশ ভেরীকেশন ছাড়া কখনো দিতে পারবনা ।আমি বললাম জনাব এম.ইলিয়াস আলী সাহেবের নিকট থেকে এখন এসেছি । তিনি বলেছেন পাসপোর্ট দিবেন কিনা লিখে দেন। তার পর তিনি এসে পাসপোর্ট নিবেন।
বলতেই আমার কদর বেড়ে গেল ।আমাকে চেয়ারে বসাল,আমার ফাইল নিজে গিয়ে উঠে আনল ,লাল চা বিস্কুট দিয়ে খাওয়ালেন আর অপরাধীর মত কাতর হয়ে বলল আগামী কাল সকালে আপনি পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন।দয়া করে এমপি স্যারকে গিয়ে বলবেন আমি তিনির হুকুম পালন করেছি। সত্যি পরদিন পেয়েছিলাম ও।
আজ তাঁর পত্নী লুনা ম্যাডামের নির্বাচনী পোষ্টারে এম .ইলিয়াস আলীর ছবি দেখে সেই স্মৃতি ভেসে উঠল।
মানবের কল্যাণের তরে এম .ইলিয়াস আলী আবার ফিরে আসুক আমাদের মাঝে দয়াময়ের নিকট এই কামনা করি।