মজাদার চকলেটের ইতিহাস

প্রকাশিত: ২:৩৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯ | আপডেট: ২:৩৩:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯

নজরুল ইসলাম জহির, মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি, লন্ডন টাইমস নিউজঃ  কাকাউ গাছের বীজ থেকে চকলেট তৈরি করা হয়। গ্রিক শব্দ থিওব্রামার অর্থ হলো দেবতার খাদ্য। ৯০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে দক্ষিণ আমেরিকার প্রাচীন আজটেকস জাতি কাকাউ গাছকে গভীরভাবে ভক্তি করত এবং এর বীজ মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করত। তারা এ গাছকে ক্ষমতা ও সম্পদের উৎস বলে মনে করত। এরপর আজটেক জাতি আবিষ্কার করল যে কাকাউ বীজ গুঁড়ো করে তার সঙ্গে মশলা মিশিয়ে চমত্কার সতেজকারী ও সুস্বাদু পানীয় বানানো যায়। তবে এ পানীয় বর্তমান সময়ের চকলেটের তুলনায় অনেক বেশি তিতা স্বাদের ছিল। এর সঙ্গে মিষ্টি সুগন্ধ মিশিয়ে পান করতে হতো। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, পৃথিবীতে প্রথম চকলেটের প্রচলন শুরু হয় আজ থেকে প্রায় তিন হাজার একশত বছর আগে। তখন থেকেই কাকাউ পানীয় ব্যয়বহুল বিলাসী খাবারের মর্যাদা পায়। এর কয়েক বছর পরেই ১৮৩১ সালে ব্রিটেনে ক্যাডবেরি নামে একটি চকলেট ফার্ম চকলেট উত্পাদন শুরু করে।

 

চকলেট তৈরির মূল উপকরণ হলো কোকোয়া গাছের বীজ! দক্ষিণ আমেরিকার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকা আমাজন উপত্যকার উদ্ভিদ এটি। কোকোয়া গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Theobroma cacao। গ্রীক ভাষায় Theos মানে ঈশ্বর এবং broma  মানে খাদ্য। অর্থাৎ এটি ঈশ্বরের খাদ্য! কোকোয়া গাছ খুব বেশি বড় হয় না। বড়জোর ২০-২৫ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়। এটি চিরসবুজ বৃক্ষ এবং গাছের পাতা গাঢ় সবুজ রঙের। কাণ্ড ও ডালে সাদা ও গোলাপি রঙের ছোট ছোট থোকা থোকা ফুল ফোটে। কোকোয়া ফল দেখতে অনেকটা নাশপাতির মতো। পেকে গেলে মেটে লাল বা হলুদ রং ধারণ করে। ভেতরে ছোট ছোট বীজ থাকে। এই বীজ শুকানোর পর তা গুঁড়ো করা হয়। এই গুঁড়ো থেকেই তৈরি হয় চকলেট।

চকলেট নানা উপলক্ষে উপহার হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। নববর্ষ, ঈস্টার, বড়দিন, জন্মদিন, ভালবাসা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের চকলেট তৈরি করে থাকে চকলেট কোম্পানিগুলো। চকলেট নিয়ে গবেষণারও শেষ নেই! যাঁরা নিয়মিত চকলেট খান, তাঁদের স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায় এমনটা বলেছেন সুইজারল্যান্ডের কিছু গবেষক। তাঁরা প্রায় ৩৩ হাজারের বেশি নারীর ওপর একটা গভেষণা চালিয়ে এই তথ্য দেন। তবে চকলেট অধিক পরিমাণে খাওয়া যাবে না। চকলেটে চর্বি ও চিনি থাকায় এতে উচ্চ পরিমাণে ক্যালরিও আছে। ডার্কচকলেটে কোকোয়ার পরিমাণ বেশি থাকায় তা বেশি উপকারী। আরেকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, প্রতিদিন চকলেট খেলে বৃদ্ধদের স্মৃতিভ্রম প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ গবেষণাটি করেছেন ইতালির লেককুইল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। ৯০ জন বয়স্ক, স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া রোগীর ওপর এ পরীক্ষাটি করা হয়। বৃদ্ধদের টানা আট সপ্তাহ কোকো পানীয় পান করানো হয় বিভিন্ন মাত্রায়। গভেষণায় উচ্চ মাত্রার পানীয় যাঁদের দেয়া হয়েছিল তাঁদের স্মৃতিশক্তি বাড়তে দেখা যায়।

নানা কারনে পরিবেশ বিকৃতির কারনে কাকাউ গাছ বিলীন হতে চলছে। বর্তমান সময়ে কাকাউ গাছ রক্ষার জন্য পরিবেশ বিজ্ঞানীরা যথেষ্ট পরিমানে সচেতন হয়েছেন।