শেখ হাসিনা মিউনিখ পৌছেছেনঃশুক্রবার ভাষণ দিবেন,সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৮:৩৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯ | আপডেট: ১০:৪৩:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯

জার্মানি থেকে বিশেষ প্রতিনিধি। প্রধানপমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সন্ধ্যায় জার্মানি এসে পৌছেছেন। বিমানবন্দরে জার্মান দূতাবাসের কর্তারা সহ স্থানীয়রা প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হিসেবে আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সহ অন্যরা।

জার্মানির মিউনিখে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলন শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দু’দিনের এ সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ।

এ সম্মেলনে অংশ নিতে তিন দিনের সরকারি সফরে বৃহস্পতিবার  (বাংলাদেশে রাতে) মিউনিখে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম বিদেশ সফর।

আজ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। অংশ নেবেন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ওপর আলোচনায়। দু’দিনে বিভিন্ন সেশন এবং শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও হেলথ ক্যাম্পেইনারদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা। দেশে ফেরার পথে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করবেন।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফর সঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি দুপুর ১টা ১০ মিনিটে (মিউনিখ সময়) মিউনিখ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ। পরে প্রধানমন্ত্রীকে বর্ণাঢ্য মোটর শোভাযাত্রাসহ হোটেল শেরাটনে নিয়ে যাওয়া হয়, সফরকালে তিনি এখানে অবস্থান করবেন।

হোটেলে পৌঁছলে অল ইউরোপীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি অনিল দাস গুপ্ত ও সাধারণ সম্পাদক এমএ গণির নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। এসময় যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি সৈয়দ সাজিদুর রহমানের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপ আওয়ামীলীগ প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমানের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মিউনিখের উদ্দেশে যাত্রা করে। প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে মন্ত্রীবর্গ, প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টামণ্ডলী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনীতিক কোরের ডিন এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দেয়া ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ এবং ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (হু) আয়োজিত ‘হেলথ ইন ক্রাইসিস-হু কেয়ার্স’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেবেন। তিনি ২০১৭ সালের নোবেল বিজয়ী পরমাণু অস্ত্র ধ্বংস বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রচারণা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বিয়াট্রিস ফিন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) শীর্ষ প্রসিকিউটর ড. ফাতৌ বেনসৌদার সঙ্গে বৈঠক করবেন।

বিকালে প্রধানমন্ত্রী সিমেন্স এজির প্রেসিডেন্ট ও সিইও জোয়ে কায়িজার এবং ভারিদোসের সিইও হ্যান্স উল্ফগং কুঞ্জের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট বোর্জ ব্রেন্ডি এবং জিগসাওয়ের সিইও জারেড কোহেনের যৌথভাবে আয়োজিত এক নৈশভোজ সভায় অংশ নেবেন। কাল প্রধানমন্ত্রী ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাজ এ সিকিউরিটি থ্রেট’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনায় যোগ দেবেন।

রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী মিউনিখ থেকে আবুধাবিতে পৌঁছাবেন এবং আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে (এডিএনইসি) ইন্টারন্যাশনাল ডিফেন্স এক্সিবিশনের (আইডিইএক্স-২০১০) উদ্বোধনী সেশনে যোগ দেবেন। এ সফরকালে প্রধানমন্ত্রী আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ মোহাম্মাদ বিন জায়েদ বিন সুলতান আল-নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক এবং ইউএইর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং আমিরাত অব দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মাদ বিন রশিদ আল মাকতুম ও অন্যান্য নেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করতে পারেন।

শেখ হাসিনা আল বাহার প্যালেসে ইউএইর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম প্রেসিডেন্ট এবং আবুধাবির শাসক মরহুম শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের স্ত্রী শেখা ফাতিমা বিনতে মুবারক আল কেতবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। প্রধানমন্ত্রী সেন্ট রেগিস আবুধাবি হোটেলে অনুষ্ঠেয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এ সফর চলাকালে তিনি সেখানে অবস্থান করবেন। শেখ হাসিনা আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি সকালে দেশে ফিরবেন।