মিউনিখে প্রধানমন্ত্রীকে নাগরিক সম্বর্ধনাঃবিএনপি অসৎ উদ্দেশ্যে নির্বাচনে এসেছিলো

প্রকাশিত: ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৯ | আপডেট: ৯:১৫:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৯

বাসস । মিউনিখ থেকে ।টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম বিদেশ সফরে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী তাঁকে জার্মানির মিউনিখ শহরে নাগরিক সংবর্ধনা দিয়েছেন।

নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর একটার পর দক্ষিণ জার্মানির মিউনিখ শহরে এসে পৌঁছান। মিউনিখ বিমান বন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ। এরপর প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফর সঙ্গীদের নিয়ে মিউনিখের শেরাটন আরাবেলা হোটেলে যান।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শেরাটন হোটেলের বলরুম মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দিতে বুধবার থেকেই ইউরোপের নানা দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা মিউনিখে এসে পৌঁছান। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই শেরাটন হোটেলের বলরুমে প্রায় পাঁচশ প্রবাসী জমায়েত হন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচন ও বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং মধ্যআয়ের দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে কথা বলেন। জার্মানি তথা ইউরোপ প্রবাসী বাঙালিদের তিনি প্রবাসে বাংলাদেশের উন্নয়নের কথা তুলে ধরতে আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি একেবারে শুরু থেকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য একটি অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, যদিও বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল, কিন্তু তারা জানত, তাদের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছিল, নির্বাচনে জয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই, তাই তারা সব সময় নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছে।

গত সাধারণ নির্বাচনে বিএনপির পরাজয়ের কারণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে মাত্র ২৮টি আসনে জিতেছে। সেই নির্বাচনের স্বীকৃতি সম্পর্কে কেউ প্রশ্ন তোলেনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৮ সালের চেয়েও ভালো ফলাফলের আশা তারা (বিএনপি) কীভাবে করে? গত কয়েক বছরে, ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপি রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে সারা দেশজুড়ে যে সব সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালিয়েছিল, জনগণ তা ভুলে যায়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি পরাজয়ের বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছিল। তারা নির্বাচনে জয়লাভের জন্য আন্তরিক ছিল না। তাই হেরেছে, এটাই বাস্তবতা।

মিউনিখ শেরাটন হোটেলে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছেন বার্লিন প্রবাসী বাঙালিরা। ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া এতিমদের অর্থআত্মসাৎ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তারেক জিয়া ১০ ট্রাক অস্ত্র ও গোলাবারুদ চোরাচালান মামলার পাশাপাশি গ্রেনেড হামলা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। সুতরাং, বড় প্রশ্ন হচ্ছে, নির্বাচনে কেন মানুষ তাদের ভোট দেবে?

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বিএনপি তাদের দলীয় নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের প্রার্থী হিসেবে ভোট করতে দেওয়ায় জনসমর্থন হারিয়েছে। এটিও তাদের পরাজয়ের জন্য অন্যতম প্রধান কারণ।

প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি অনীল দাশ গুপ্ত, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরীফ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ।

ইতিপূর্বে ২০১৭ সালে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ দিয়েছিলেন। এবারের সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নিরাপত্তা হুমকি ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে দুটি সেশনে প্রধানমন্ত্রীকে আলোচনার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন।

শুক্রবার মিউনিখের ব্যাভেরিয়া হোফ হোটেলে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের বর্তমান সভাপতি ভলফগ্যাং ইসিঙ্গার জানিয়েছেন, ১৫ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি এবারের ৫৫তম সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় ৪০ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং ১০০ জন মন্ত্রীসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।