আপডেট ৭ ঘন্টা আগে ঢাকা, ২০শে জুলাই, ২০১৯ ইং, ৫ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ লিড নিউজ

Share Button

ইংল্যান্ডে যৌনশিক্ষায় ঋতুস্রাবের পাঠ প্রাথমিক পর্যায় থেকে বাধ্যতামূলক

| ০৯:১৮, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৯

লন্ডন- ২০২০ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডের বিদ্যালয়গুলোতে মেয়েদের ঋতুস্রাবের বিষয়টি শিক্ষা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধু মেয়েরা নয় সব শিক্ষার্থীই প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিষয়টি নিয়ে পড়ার ও জানার সুযোগ পাবে।

মেয়েদের মাসিকের বিষয়টিকে বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পেইন বা প্রচার কাজ চালিয়ে আসছিলেন এলিস স্মিথ। এই সিদ্ধান্তটিকে ভীষণ ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন ২৩ বছর বয়সী মিজ স্মিথ।

মাত্র ১৪ বছর বয়সে মিজ স্মিথের মাসিক সংক্রান্ত জটিলতা প্রথম ধরা পড়ে। আরও অনেক নারীর মতই তারও পিরিয়ড নিয়ে তৈরি হয় ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। আর খুব সহসা সেটি সেরে যাবারও কোনও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

তাই নিজের অসুখ ধরা পড়ার পর থেকেই এই বিষয়ে তিনি সোচ্চার হয়ে উঠেন এবং বিষয়টিকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির দাবি তোলেন।

তার মতে, পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির ফলে খুব শিশু বয়স থেকেই মেয়েরা জেনে যাবে কোন ধরণের মাসিক স্বাভাবিক আর কোনটি স্বাভাবিক নয়।

পিরিয়ডের সময় তীব্র ব্যথা হওয়া, ক্লান্ত অনুভব করা, তলপেটে ও মূত্রাশয়ে জটিলতা অনুভব করার ঘটনা অনেকের ক্ষেত্রেই ঘটে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে এটি ক্রনিক ও অত্যন্ত পীড়াদায়ক হয়ে উঠে।

যুক্তরাজ্যে প্রতি ১০ জন নারীর মধ্যে এক জন এই সমস্যায় ভুগছেন। ডাক্তারি ভাষায় এই পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘এন্ডোমেট্রিয়োসিস’।

মেয়েদের ওভারি ও তার আশপাশে অতিরিক্ত টিস্যু জন্মানোর ফলে এই সমস্যার জন্ম হয়।

এর ফলে এমনকি সারাজীবন ধরে শারীরিক কষ্ট বহন করতে হয়। আর কোনও কোনও ক্ষেত্রে এমনকি সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে সংকট তৈরি হয়।

নিজের এই ক্রনিক অসুস্থতা সম্পর্কে জানার পর এই বিষয়ে অনলাইনে ও ব্লগে প্রচুর পড়ালেখা করেছেন মিজ স্মিথ।

সেখানে বিভিন্ন ব্লগে তিনি এমন অনেক নারীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা জেনেছেন এই সমস্যার কারণে যাদের কেউ চাকরি ছেড়েছেন, কেউ বিবাহিত জীবনে টিকতে পারেননি এবং কেউ সন্তান জন্মদানে ব্যর্থ হয়েছেন।

এসব কারণে কোনও কোনও নারীর মধ্যে হতাশা ও আত্মহত্যার প্রবণতার কথাও জেনেছেন মিজ স্মিথ।

এসব বিষয়ে জানার পর থেকেই তিনি যৌন-স্বাস্থ্যের অংশ হিসেবে পিরিয়ড বা মাসিককে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার প্রচারে নামেন।

২০১৭ সাল থেকেই ইংল্যান্ডের বিদ্যালয়গুলোতে যৌন শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়।

তবে এই বিষয়ক পাঠ্যক্রমে ঠিক কী কী অন্তর্ভুক্ত হবে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বিভিন্ন মহলের মতামত নেওয়া হচ্ছিলো।

এখন মাসিককে পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করায় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই শিশুরা এই বিষয়ে জানার সুযোগ পাবে।

এছাড়া প্রাথমিকের পাঠ্যক্রমেই নারী ও পুরুষের সম্পর্ক নিয়ে একটি ধারণাও পাবে শিশুরা।

তবে নারী-পুরুষের সম্পর্ক ও তাদের যৌনতা নিয়ে শিক্ষার্থীরা জানবে সেকেন্ডারি বা মাধ্যমিক স্কুলের পাঠ্যক্রম থেকে।

যৌন-স্বাস্থ্য বিষয়ক পাঠ্যক্রমে এলজিবিটি বা সমকামিতা ও উভকামিতা প্রসঙ্গও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

স্কটল্যান্ডে ২০১৪ সাল থেকেই যৌন শিক্ষা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির নির্দেশাবলী দেয়া হয়।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!