আপডেট ৭ ঘন্টা আগে ঢাকা, ২০শে জুলাই, ২০১৯ ইং, ৫ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ এক্সক্লুসিভ

Share Button

দূতাবাসগুলোকে ডঃ মোমেনের জরুরী চিঠিঃদুই সপ্তাহের মধ্যে কর্মপরিকল্পণার তাগিদ

| ২০:০০, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৯

কূটনৈতিক রিপোর্টার । ঢাকা । একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পাওয়া এবং চতুর্থ মেয়াদে শেখ হাসিনা সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বিশ্বজুড়ে থাকা বাংলাদেশের ৭৭টি মিশনে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে কেবিনেট মিনিস্টার হিসেবে চমক দেয়া জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রাক্তন স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত ড. মোমেন বাংলায় লেখা দুই পৃষ্ঠার চিঠিতে কূটনৈতিক মিশনের প্রধানদের আগামীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণের প্রস্তুতির নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে তিনি চিঠি পাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে স্ব স্ব মিশনের কর্মপরিকল্পনা পাঠানোর তাগিদ দেন।

 

চিঠিতে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জকেই ফোকাস করা হয়। এটি মোকাবিলায় ‘অর্থনৈতিক কূটনীতি’ ও ‘মিশনসমূহের কার্যকর ভূমিকা’ প্রত্যাশা করা হয়। রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও মিশন প্রধানদের উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে মন্ত্রী বলেন, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’- এই পররাষ্ট্র নীতির সফল বাস্তবায়নে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন সুদৃঢ় এবং গভীর। এমন বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠার অন্যতম ক্রীড়নক এ দেশের কূটনীতিকগণ।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক কূটনীতি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী এ বিষয়ে বাংলার দূতদের স্বপ্রণোদিত এবং সুচিন্তিত পরামর্শ আশা করেন।

চিঠিতে মিশনের কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন ভাষা শিক্ষণ, কনস্যুলার সেবার মানোন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী পালন এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালনে এখনই পরিকল্পনা ও প্রস্তাব পাঠানোর তাগিদ দেন।

মন্ত্রীর চিঠিতে যা আছেঃ

দীর্ঘ চিঠিতে মন্ত্রী যা বললেন: মন্ত্রী তার চিঠিতে লিখেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও সুযোগ্য নেতৃত্বে বিগত এক দশকে বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঈর্ষণীয় অগ্রগতি ও সাফল্য অর্জন করেছে। সম্প্রতি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চতুর্থবারের মতো সরকার গঠনের ফলে সরকারের ওপর জনগণের প্রত্যাশা বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর অতি অল্প সময়ের মধ্যে ‘স্বল্পোন্নত দেশ’ হতে ‘উন্নয়নশীল দেশ’ উত্তরণের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সমুদ্রসীমা সম্প্রসারণ, দারিদ্র্য অর্ধেকের নীচে নিয়ে আসা এবং পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল ও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মতো বেশ কিছু মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজে আশাতীত অগ্রগতি জনগণের এই প্রত্যাশাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, চলমান বিশ্ব ব্যবস্থায় রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে প্রতিযোগিতার মাত্রা ও ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক কৌশলেও এসেছে অভাবনীয় পরিবর্তন। প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্প-২০২১ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাসমূহ এবং রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় রূপান্তরে সরকার কর্তৃক গৃহীত নির্বাচনী ইশতেহার অর্জনের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক কূটনীতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকারের তালিকায় শীর্ষে থাকা প্রয়োজন। লক্ষ্যসমূহ অর্জনের মধ্যে আমাদের যেমন অধিকতর বিনিয়োগ দরকার সেই সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তি আহরণ ও অধিকতর ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে আমাদের দূতাবাসসমূহের সক্রিয় উদ্যোগ নেয়াও দরকার। মন্ত্রী বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, মিশন প্রধান হিসেবে বাংলাদেশকে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে একটি উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ এর মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। আপনাদের নব উদ্যোগ এবং স্বপ্রণোদিত প্রচেষ্টাই হতে পারে এই শুভযাত্রার মূল চালিকাশক্তি।

মন্ত্রীর ভাষ্য মতে, বিগত এক দশকে সরকারের বাস্তবমুখী পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সরকার এখন বিভিন্ন মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে যার জন্য প্রয়োজন উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থনৈতিক ও কারিগরি অংশীদারিত্ব। এছাড়া সারা দেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিল্পায়ন ছড়িয়ে পড়েছে, যা ফলপ্রসূ করতে প্রয়োজন বিপুল বিনিয়োগ। বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান ও পর্যটন খাতের সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কার্যকর অবদান রাখা সম্ভব। এছাড়া স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের স্বীকৃতি প্রাপ্তির ফলে ২০২৪ সালের পর কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিদ্যমান সুযোগ সুবিধাসমূহ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা সঙ্কুচিত হতে পারে। ফার্মাসিউটিক্যাল সহ কয়েকটি শিল্পের ক্ষেত্রে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বর্তমানে প্রাপ্ত মেধাস্বত্ব আইনের শিথিলতা পরবর্তীকালে না-ও পাওয়া যেতে পারে। আবার পোশাক শিল্পের বর্তমান শক্তিশালী অবস্থান সুদৃঢ় করতে সম্ভাবনাময় নতুন বাজার অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিদেশস্থ সকল বাংলাদেশ মিশনসমূহকে অবতীর্ণ হতে হবে আরো কৌশলি ও উদ্যোগী ভূমিকায়।

কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির আধুনিকায়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সম্প্রসারণ, দক্ষ ও বিপুলসংখ্যক জনবলের কর্মসংস্থান, নতুন নতুন রপ্তানির বাজার সম্প্রসারণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ মিশনসমূহকে অধিকতর উদ্যোগ নিতে হবে। কূটনীতিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত দেশগুলোতে আগামী তিন বছরে কী পরিমাণ বাণিজ্য বাড়তে পারে, কী পরিমাণ বিনিয়োগ অর্জন সম্ভব তার একটি রূপরেখা আমাদের জানালে খুশি হবো।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ প্রবাসো কর্মরত। এদের অনেকেই স্ব স্ব ক্ষেত্রে যথেষ্ঠ সাফল্য অর্জন করেছেন। পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি অবলম্বনের মাধ্যমে এদেরকে সহায়কের ভূমিকায় রাখা জরুরি। প্রবাসীদের কনস্যুলার ও অন্যান্য প্রদেয় সেবার মান উন্নত করার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় তাদের সম্পৃক্ত করতে পারলে রেমিট্যান্স যেমন বাড়বে, তেমনি বিনিয়োগও বাড়তে পারে এবং একই সময়ে বিভিন্ন কারিগরি ক্ষেত্রে বিদেশিদের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতাও কমতে পারে। এসব ক্ষেত্রে সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন এবং যথার্থ সেবা প্রদানের ওপর।

সার্বক্ষণিক কনস্যুলার সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ: চিঠিতে মন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক কূটনীতিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রাধান্য দিয়ে স্বাগতিক সরকারের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের পাশাপাশি অভিবাসী বাংলাদেশিদেরকে স্বদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। স্বাগতিক দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর যোগাযোগ কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে হবে। বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন প্রজন্মের বাংলাদেশি অভিবাসীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ উপযোগটুকু আদায়ে  কৌশলি হওয়া দরকার।

মন্ত্রী বলেন, শুধু বাংলা বা ইংরেজি ভাষায় সীমাবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন ভাষায় বাংলাদেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সাফল্যকে উপস্থাপন করা সম্ভব বলে আমি মনে করি। আগামী বছরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপিত হবে এবং ২০২১ সালে বাংলাদেশের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হবে। এগুলো বিবেচনায় রেখে রাষ্ট্রীয় দিবসসমূহ প্রথাগতভাবে পালনের পাশাপাশি উদ্ভাবনীমূলক এবং আরো বেশি অংশগ্রহণমূলক করে তোলার পরিকল্পনা করতে হবে।

মিশনে অনতিবিলম্বে একটি সার্বক্ষণিক কনস্যুলার সেবা কক্ষের চালুর মাধ্যমে সপ্তাহের প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা দরকার। অভ্যর্থনা কক্ষ তথা কনস্যুলার সেবা কক্ষের আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে একে পূর্বের চেয়ে সেবাবান্ধব করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা অতীব প্রয়োজন। তাছাড়া পেশা অনুযায়ী প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি ডাটাবেজ তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। এর মাধ্যমে আপনারা অনেক বেশি সফলতা অর্জন সক্ষম হবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।

মন্ত্রী প্রথাগত কূটনীতির পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থসংরক্ষণ বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে সারা বিশ্বের সামনে উপস্থাপনের মাধ্যমে ‘ব্র্যান্ডিং’ করা। দ্বিপক্ষীয় ও উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনা ও চুক্তি সম্পাদনে যথাযথ সমন্বয়কে ভূমিকা পালন, রপ্তানি ও আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের বিদেশে প্রয়োজনীয় আইনি ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান, বৈদেশিক বিনিয়োগের উৎস অনুসন্ধান ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ কার্যক্রমের সফল সম্পাদনের জন্য রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও মিশন প্রধানদের দৃশ্যমান ভূমিকা আশা করেন। বলেন, এ লক্ষ্যে দুই বছরব্যাপী পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!