মেনন কাদিয়ানীদের প্রতিনিধিত্ব করছেন: জমিয়ত

প্রকাশিত: ২:২১ অপরাহ্ণ, মার্চ ৬, ২০১৯ | আপডেট: ২:২১:অপরাহ্ণ, মার্চ ৬, ২০১৯

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপির ৩ মার্চ জাতীয় সংসদে দেয়া বক্তব্যের কঠোর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।

২০ দলীয় জোটের শরিক দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাশেদ খান মেনন ইসলাম, আলেম-উলামা, ইসলামি শিক্ষা ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে গভীর বিদ্বেষ ও ষড়যন্ত্র থেকেই এমন বক্তব্য দিয়েছেন এবং অমুসলিম কাদিয়ানীদের প্রতারণার পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছেন।তার এই ঘৃণাব্যঞ্জক বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করতে হবে এবং তাকে অনতিবিলম্বে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

বুধবার দুপুর ২টায় মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে রাশেদ খান মেননের বিতর্কিত বক্তব্যের ওপর জমিয়ত কেন্দ্রীয় নেতারা এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন- দলের সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, অর্থসম্পাদক মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী, প্রচার সম্পাদক মাওলানা জয়নুল আবেদীন, মাওলানা মুনির আহমদ, মাওলানা আব্দুল্লাহ মাসঊদ প্রমুখ।

বৈঠকে জমিয়ত নেতারা বলেন, কওমি মাদ্রাসাগুলো সরাসরি দেশের জনগণের সাহায্য-সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। কওমি মাদ্রাসায় পবিত্র কোরআন-হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা ও পূর্ণ ইসলামি শিক্ষাদানের পাশাপাশি সৎ জীবনযাপন, সামাজিক সহাবস্থান এবং আদর্শ দেশ ও জাতি গঠনের শিক্ষা দেয়া হয়। সৎ, যোগ্য ও ধর্মপ্রাণ নাগরিক তৈরির কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে রাশেদ খান মেনন ‘বিষবৃক্ষ’ বলে আলেম-উলামা, ছাত্র সমাজ ও কোটি কোটি মানুষের মনে আঘাত দিয়েছেন।

মূলত, তিনি এমন উসকানিমূলক ঘৃণাব্যঞ্জক বক্তব্য দিয়ে দেশবিরোধী কোনো চক্রের হয়ে গোলযোগ তৈরির ষড়যন্ত্র করছেন।

জমিয়ত নেতারা বলেন, মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী খতমে নবুওয়াত অস্বীকার করে নিজেকে মিথ্যা নবীর দাবি করে। তাই তার অনুসারীদের পক্ষে নিজেদেরকে মুসলিম দাবি করার কোনোই সুযোগ নেই। কারণ, খতমে নবুওয়াতের ওপর দৃঢ় বিশ্বাসস্থাপন করা মুসলিম হিসেবে পরিচিত হওয়ার জন্য আবশ্যক কর্তব্য। হজরত মুহাম্মদ (সা.)কে ‘শেষ নবী’ হিসেবে বিশ্বাস করা তথা খতমে নবুওয়াতের ওপর ঈমান আনা মুসলিম হওয়ার জন্য ‘ট্রেড মার্ক’ স্বরূপ।

জমিয়ত নেতারা আরও বলেন, কাদিয়ানীরা অমুসলিম পরিচিতি নিয়ে অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মতো নাগরিক অধিকার ভোগ করায় আমাদের কোনো আপত্তি নেই। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের মতো তারাও অমুসলিম ঘোষিত হয়ে সব নাগরিক অধিকার ভোগ করুক। কিন্তু তারা অমুসলিম হওয়া সত্ত্বেও মুসলিম পরিচিতি ও ইসলামি পরিভাষা ব্যবহার করে স্বল্পশিক্ষিত ও সরলমনা সাধারণ মুসলমানদেরকে ধোঁকা দিয়ে ঈমানহারা করে যাবে, এটা মেনে নেয়ার সুযোগ নেই। অথচ রাশেদ খান মেনন প্রকাশ্যে কাদিয়ানীদের মিথ্যা দাবির পক্ষে ওকালতিতে মাঠে নেমেছেন।

জমিয়ত নেতারা বলেন, হেফাজতে ইসলাম একটি বৃহৎ অরাজনৈতিক সংগঠন। দেশের শীর্ষ আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে এই সংগঠনটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ঈমান-আকিদা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে আসছে। এই সংগঠনের ব্যানারে দেশের আলেম সমাজ ও কোটি কোটি তৌহিদি জনতা ঐক্যবদ্ধ। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নেও এই সংগঠনটির সরব ভূমিকা সর্বমহলে অত্যন্ত প্রশংসিত। অথচ রাশেদ খান মেনন সংসদে দাঁড়িয়ে জনপ্রিয় এই বৃহৎ সংগঠন এবং এর আমির সর্বজনমান্য প্রবীণ আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বিরুদ্ধেও জঘন্য কটূক্তি করেছেন। তিনি আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অবমাননা করেছেন। তিনি সাধারণ শিক্ষায় নাস্তিক্যবাদী পাঠ চালুর পক্ষে ওকালতি করে গণমানুষের আদর্শিক চিন্তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

জমিয়ত নেতারা বলেন, রাশেদ খান মেননকে অনতিবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহারপূর্বক জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং সংসদের কার্যবিবরণী থেকে তার বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করতে হবে। অন্যথায় তৌহিদি জনতা এসব কট‚ক্তি, অপপ্রচার ও ধর্মবিদ্বেষী বক্তব্যের সমুচিত জবাব দেবে।

বৈঠকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জমিয়তের পল্টনের দলীয় কার্যালয়ে রাশেদ খান মেননের ঘৃণাব্যঞ্জক বক্তব্যের প্রতিবাদে সমমনা ইসলামী রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এক বৈঠক আহ্বান করেছেন।