ঢাবিতে সাবেক শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী-আবেগ উচ্ছ্বাসের এক মিলনমেলা

প্রকাশিত: ১১:৫১ অপরাহ্ণ, মার্চ ৯, ২০১৯ | আপডেট: ১১:৫১:অপরাহ্ণ, মার্চ ৯, ২০১৯

ঢাঃবিঃ-শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা। অনেকটাই ‘যান্ত্রিক’ এ শহরকে সদ্যই বিদায় বলে দেওয়া শীতও হালকা কুয়াশার চাদর বিছিয়ে দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে। গত কয়েক দিনে বড্ড বেমানান আবহাওয়াটাও গতকাল ছিল বাধ্যগত ছাত্রের মতো। যেন বহু বছরের পুরনো সঙ্গীকে তার স্মৃতির পাতায় ভাসিয়ে দেওয়ার সব বন্দোবস্ত করে রেখেছে প্রকৃতি। গেট পেরিয়ে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রবেশ করতেই দেখা গেল সহস্র মানুষ একে-অন্যকে জড়িয়ে ধরছে, কুশল বিনিময় করছে; আবার অনেকে ব্যস্ত বন্ধুদের সঙ্গে সেলফি তুলতে। তাদের আবেগ-উচ্ছ্বাস দেখে কে বলবে শুধু তারা তাদের পড়াশোনার পাঠ চুকিয়েছে কয়েক দশক-যুগ আগে! মাঠজুড়ে জম্পেশ আড্ডা। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, প্রবাসী, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিল্পী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকসহ আগত সবার সেকি উচ্ছ্বাস! আর সেই উচ্ছ্বাসের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের মনোরম ও মনোমুগ্ধকর সাজ। বলা হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের কথা।

‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ প্রাঙ্গণ। ‘শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক স্লোগানে আয়োজিত এ পুনর্মিলনীতে প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণে মুখরিত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। বয়স, পদ ও সামাজিক অবস্থান ভুলে তারা যেন ফিরে যায় নিজেদের যৌবনে। ক্যাম্পাসের ফেলে আসা সেই রঙিন জীবনকে খুঁজে ফেরে তারা। টিএসসির আড্ডা, দুরন্তপনা অথবা আন্দোলন-সংগ্রামের উত্তাল দিনগুলো তাদের স্মৃতিতে ভেসে ওঠে। দিনভর আনন্দ-উল্লাস, ছবি তোলা, বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা, হৈচৈ ও কোলাহলে মেতে থাকে সবাই।

মাঠের এক কোণে মিরপুর থেকে আসা মুস্তারী আহমেদকে বেশ ব্যস্ত দেখা গেল তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে সেলফি তুলতে। এগিয়ে গিয়ে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে না যে আমি ৩০ বছর (১৯৮৯ সালে শিক্ষাজীবন সমাপ্ত) আগে এখান থেকে শিক্ষার পাঠ চুকিয়েছি। সবাইকে দেখে মনে হচ্ছে, আমি এখনো এখানে পড়ি। অনেক দিন পর অনেকের সঙ্গে দেখা হলো, তাই স্মৃতিগুলো (ছবিতে) ধরে রাখছি। সবাইকে দেখে খুবই ভালো লাগছে।’

আহমেদ আল ফারুক পড়াশোনা শেষ করেছেন ১৯৬৫ সালে, তাঁর স্ত্রী প্রফেসর রেহানা বেগম ১৯৭০ সালে। এ দম্পতির দুজনই পড়াশোনা শেষ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। নিজেদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে তাঁরা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেক পুরনো মুখের দেখা পেলাম আজ (গতকাল শনিবার)। বন্ধুদের সঙ্গে অনেক কথা হলো, আড্ডা হলো; কেমন লাগছে তা আসলে বলে বোঝানো যাচ্ছে না।’

সকালে জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মিলনমেলার বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা শেষে শুরু হয় আলোচনাসভা। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সংক্ষিপ্ত ভাষণে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধারণ করে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য বর্তমান শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কৃতী শিক্ষার্থী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ‘মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতাসংগ্রামসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনন্য অবদান রেখেছেন। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও তাঁরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য তিনি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

ডাকসুর সাবেক ভিপি ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ছাত্রজীবনের বর্ণাঢ্য জীবন ও স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্নিঝরা দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করেন। দীর্ঘদিন পর ডাকসু নির্বাচন আয়োজন করায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।