বাসের হেলপারকে জনপ্রতিনিধি বানিয়েছিলাম : জানিয়া অজানিয়া ভোয়া কথা বলেছি

প্রকাশিত: ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০১৯ | আপডেট: ৪:২৮:অপরাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০১৯

নাজমুল ইসলাম মকবুল, সিলেট অফিস: উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটের বিশ্বনাথে ইলিয়াস আলীর দুর্গে ফাটল ধরার খবর পাওয়া গেছে। বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নানান নাটকীয়তার মধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ইলিয়াসপত্মী তাহসিনা রুশদীর লুনা ও ছেলে আবরার ইলিয়াস দুজনেই মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে আবরার ইলিয়াসের নমিনেশন প্রত্যাহার করা হয়। শেষ মুহুর্তে আদালতের রায়ে লুনার নমিনেশন বাতিল হয়। গণফোরাম থেকে নমিনেশন জমা দিয়ে নির্বাচনী মাঠ থেকে পিছু হটে যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়া মুকাব্বির খানকে অন্তিম মূহুর্তে যুক্তরাজ্য থেকে নিয়ে আসা হয় নির্বাচনী মাঠে। মাত্র দুই দিনের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় বিএনপি ও ইলিয়াস পরিবারের সমর্থনে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। সারাদেশে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভরাডুবি ঘটলেও ইলিয়াস আলীর ইমেজকে কাজে লাগিয়ে সিলেট-২ আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থি মোকাব্বির গণফোরামের উদীয়মান সূর্য প্রতিক নিয়ে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্ধন্ধিতা করে বিজয়ী হয়ে সৃষ্টি করেন চমক।

সারাদেশে বর্তমান উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করছেনা। বিএনপির পদবীধারী যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন তাদেরকেও বহিস্কার করা হয়েছে দল থেকে। কিন্তু এরপরও স্বতন্ত্রভাবে বিভিন্ন উপজেলায় নির্বাচন করছেন বিএনপির অনেক নেতা। নিখোজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর নিজ উপজেলা ও গ্রামের বাড়ী বিশ্বনাথ। এজন্য ইলিয়াস আলীর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে মোকাব্বির স্টাইলে বিজয়ী হওয়ার স্বপ্নও দেখছেন অনেকেই। আর তাই বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা (সম্প্রতি বহিস্কৃত) সুহেল আহমদ চৌধুরী কাপ পিরিছ প্রতিক নিয়ে এবং যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা (সম্প্রতি বহিস্কৃত) মিছবাহ উদ্দিন আনারস প্রতিক নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন এবং চালাচ্ছেন ব্যাপক প্রচার প্রচারণা। একই দলের দুই নেতা একই উপজেলা বিশ্বনাথে প্রার্থী হওয়ায় মাঠ পর্যায়ের নেতা কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ফাটল। নেতা কর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়েছেন দুইভাগে। দল নির্বাচনে না আসায় প্রথমে আড়ালে আবডালে থেকে প্রচার প্রচারণা চালালেও শেষ মুহুর্তে নেতারাও কর্মীদের সাথে প্রচার প্রচারণায় নেমে পড়েছেন প্রকাশ্যেই। বিশেষ করে মিছবাহ উদ্দিনের পক্ষে উপজেলার পদ পদবীধারী বেশিরভাগ নেতাকর্মীদেরই দেখা যাচ্ছে। একে অপরের প্রতি চলছে ব্যাপক কাদাছুড়াছুড়িও।

সম্প্রতি বিশ্বনাথের শাহাজিরগাও গ্রামে মিছবাহ উদ্দিনের আনারস প্রতিকের সমর্থনে এক নির্বাচনী সভায় বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক লিলু মিয়া প্রতিপক্ষ বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান সুহেল চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমি কইছি বিশ্বনাথ সিলেট বালাগঞ্জ লাগাইয়া আমরা মুরব্বীহখল আনিয়া বালতি দিয়া পানি ঢালার চেষ্টা করমু। তাইন আমারে কইছইন ভাই আমার এলাকা। আফনে বুঝতানায়। আমার কাজ চলের। বাদে এমন কাজ চলল, লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করলো। কিন্তু মানুষকে এইভাবে ধাবিত রাখা যায়না। সোহেল আহমদ চৌধুরী সাব, আপনে আজকে দেখেন। আপনার সেন্টারো একই সেন্টারর আওতায় আজকের জনসভা। আপনার কলংক। কালকেই আপনার নমিনেশন প্রত্যাহার করা দরকার।

তিনি আরও বলেন, আমরা মাইক মঞ্চে দাড়িয়ে বলেছিলাম, বিশ্বনাথ যখন পুরুষশূণ্য ছিল সুহেল চৌধুরী সাহেব আমাদের হাল ধরেছে। জানিয়া অজানিয়া উনাকে নির্বাচিত করার জন্য ভোয়া কথা বলেছি। কেন বলেছি, মনে করেছি উনি যদি নির্বাচিত হয়ে যায় হয়তো ভালো কোন কাজ করবে। সুফল বয়ে আনতে পারে নাই। কুফল বয়ে এনেছে।

যদি আমাদের কর্মীর গায়ে কারো মনে করে কোন ফুল দিয়া ঢিল মারা হয়, পাথর দিয়া তার জবাব দেয়া হবে। জনগন হচ্ছে ক্ষমতার উৎস। জনগন যদি চায় নামাতে, পারেই নামাতে। উঠাতে চাইলে উঠাতে। সেই কলকাটি আমাদের জানা আছে।

আমরা তখন নেতৃত্বে দিয়ে বাসের হ্যালপারকে জনপ্রতিনিধি বানিয়েছিলাম বিশ্বনাথের মানুষ। আজ বিশ্বনাথবাসী উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত।

অপরদিকে আওয়ামীলীগের একক চেয়ারম্যান প্রাUPOZILA LILU-2_1র্থী এস এম নুনু মিয়া নৌকা প্রতিক নিয়ে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিরামহীনভাবে। এস এম নুনু মিয়ার সাথে উপজেলা ও জেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরাও নেমেছেন ব্যাপকভাবে। শেষ পর্যন্ত বিজয়ের হাসি কে হাসেন তা দেখার অপেক্ষায় ১৮ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বিশ্বনাথবাসীকে।