আপডেট ৭ ঘন্টা আগে ঢাকা, ২০শে জুলাই, ২০১৯ ইং, ৫ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ অগ্রযাত্রা

Share Button

মোদী-হাসিনা যৌথ ভিডিও কনফারেন্সে ৪ প্রকল্প উদ্বোধন:বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিশ্বে রোল মডেল : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

| ১৯:৫৮, মার্চ ১১, ২০১৯

বাসস-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বে একটি রোল মডেল আখ্যায়িত করে আগামীতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব বহুমুখী এবং বহুমাত্রিক সহযোগিতার ফলে আমাদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিশ্ববাসীর সম্মুখে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের দৃষ্টান্তরূপে পরিগণিত হচ্ছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’ সোমবার বিকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বিগত এক দশকে উভয় দেশের মধ্যে বিভিন্ন প্রথাগত খাত যেমন নিরাপত্তা, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, যোগাযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জলবায়ু ও পরিবেশ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, জনযোগাযোগ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য প্রভৃতি খাতে সহযোগিতা প্রভূত পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নতুন ও অপ্রচলিত খাত যেমন ব্লু ইকোনমি এবং মেরিটাইম, পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, মহাকাশ গবেষণা, ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ রফতানি এবং সাইবার সিকিউরিটি প্রভৃতি খাতে উভয় দেশ সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করেছে।’

প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- ভারত থেকে দোতলা বাস, একতলা এসি ও নন-এসি বাস এবং ট্রাক আমদানি, ভারতীয় আর্থিক অনুদানে পাঁচ জেলায় (জামালপুর, শেরপুর, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন, ভারতীয় অনুদানে বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়ায় ১১টি পানি শোধনাগার স্থাপন এবং সার্কভুক্ত দেশে ভারতের ন্যাশনাল নলেজ নেটওয়ার্ক (এনকেএন) সম্প্রসারণের আওতায় বাংলাদেশে এ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নয়াদিল্লিতে তার কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন। ভারত ও বাংলাদেশের দুই প্রধানমন্ত্রী একত্রে সুইচ চেপে প্রকল্পের ফলক উন্মেচন করেন। পরে ৪টি প্রকল্পের ওপরই অনুষ্ঠানে ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়। শেখ হাসিনা তার ভাষণে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ উচ্ছেদে তার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের প্রতি শূন্য সহনশীলতার নীতি পোষণ করে এবং কোনো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে কখনই বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয় প্রদান করা হবে না।’

তিনি বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের এ অঞ্চল এবং এর বাইরে সন্ত্রাসবাদ দূর করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় গত মাসে কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, ‘আমি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এই ঘৃণ্য সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করছি।’ টানা তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তার ও নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রথম ভিডিও কনফারেন্স উল্লেখ করে শেখ হাসিনা তার বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানানোয় মোদিকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে আমাদের বিজয় ঘোষণার পরপরই আমাকে এবং আমার দলকে অভিনন্দন জানানোর জন্য আপনাকে আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা অত্যন্ত পরিতৃপ্তির বিষয় যে, আজ দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতাভুক্ত কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, এলওসির আওতায় ৬০০ বাস (৩০০ দোতলা বাস, ২০০ একতলা এসি বাস ও ১০০ একতলা নন-এসি বাস) ও ৫০০ ট্রাক (৩৫০টি ১৬ টন ট্রাক ও ১৫০টি ১০ টন ট্রাক) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে। আমি আশা করি, এর ফলে বাংলাদেশের যাত্রীসাধারণের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হবে এবং আমাদের মহাসড়কগুলোর যানজট খানিকটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

তিনি বাংলাদেশে ভারতের ন্যাশনাল নলেজ নেটওয়ার্কের (এনকেএন) সম্প্রসারণকে সাধুবাদ জানান। বলেন, ‘আমি আশা করছি এর মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, গ্রন্থাগার, পরীক্ষাগার এবং স্বাস্থ্য ও কৃষি গবেষণাবিষয়ক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের গবেষকদের সক্ষমতা বাড়বে।’

তিনি ভবিষ্যতে দু’দেশের যৌথ সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের আরও বহু প্রকল্পের সাফল্যজনক সমাপ্তি উদযাপনের আশাও প্রকাশ করেন।

শেখ হাসিনা এ সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার এবং জনগণের সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে বলেন, ‘আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তা এক চিরন্তন মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

বাংলাদেশের উন্নতি সব সময়ই ভারতের জন্য আনন্দের- মোদি : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করে ভিডিও কনফারেন্সে তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের উন্নতি সব সময়ই ভারতের জন্য আনন্দের বিষয় এবং প্রেরণার উৎস।

ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য মহত্ত্বপূর্ণ লক্ষ্য স্থির করেছেন। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে তৈরি করা এবং ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলায় তার রূপকল্পকে বাস্তব রূপ দিতে সহায়তা করা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একসঙ্গে মিলে গত ৫ বছরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সোনালি অধ্যায়ের জন্য কাজ করতে পারাকে অত্যন্ত সৌভাগ্যজনক আখ্যায়িত করে মোদি বলেন, ‘আমার পুরো বিশ্বাস রয়েছে গত ৫ বছর আমাদের জন্য যতটা গৌরবজনক ছিল, তার চেয়ে আগামী ৫ বছরে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও অধিক উচ্চতায় আসীন হবে।’

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এ সময় ভারত সফররত বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল নরেন্দ্র মোদির দিল্লি কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন।

ভাষণের শুরুতেই মোদি বাংলায় বলেন, ‘আশা করি যে, বাংলাদেশের সবাই ভালো আছেন।’ পুলাওয়ামায় শহীদদের প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সমবেদনা জানানোয় এ সময় তার (শেখ হাসিনা) প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মোদি শেখ হাসিনা ও নৌকার বিপুল বিজয়ে তাকে পুনরায় অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, ‘সর্বপ্রথমে আমি সাধারণ নির্বাচনে আপনাকে বিপুল সমর্থন প্রদান করায় বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। সঙ্গে বিপুল ভোট নিয়ে বিজয় অর্জন করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমি আন্তরিক মোবারকবাদ জানাচ্ছি।’ মোদি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার এটি ৬ষ্ঠ ভিডিও কনফারেন্স। এতটা সরলতার সঙ্গে এতবার দু’দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে যোগাযোগ সাধন নিজে থেকেই বলে দিচ্ছে আমাদের দু’দেশের সম্পর্ক কতটা গভীর এবং মজবুত।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম ও ড. মশিউর রহমান, এলজিআরডি ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাস এ সময় গণভবনে উপস্থিত ছিলেন।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!