আপডেট ৬ min আগে ঢাকা, ২২শে মে, ২০১৯ ইং, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রমযান, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ জাতীয়

Share Button

ছাত্রলীগের হামলায় ডাকসু ভিপি সহ আন্দোলনকারী ছাত্ররা আহত

| ০৯:১৯, মার্চ ১২, ২০১৯

ঢাবি প্রতিনিধি-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনে নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। একইসঙ্গে হামলা চালানো হয়েছে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে আন্দোলন করা ছাত্রদল, প্রগতিশীল ছাত্রজোট সহ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ওপর। আজ বেলা পৌনে দুইটার কিছু সময় পরে এ হামলা চালায় ভিপি পদে পুননির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসা ছাত্রলীগ।

জানা যায়, দুপুর দেড়টার দিকে নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর তার সমর্থকদের নিয়ে শাহবাগ থেকে মিছিল দিতে দিতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। এ সময় জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলে স্লোগান দেয় তারা।  শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন -কারুচুপিতেও হারে নাই, ছাত্রবন্ধু নুরু ভাই। এছাড়া নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে এবং পুন:তফসিল  ঘোষণার দাবিতে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মিছিল করে।

অন্যদিকে একই দাবিতে টিএসি তে আনেন্দালনরত প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জোটের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেয়ার সময় লাঠিসোটা নিয়ে তারা হামলা করে।

এ সময় নূর ও রাশেদরা মিলে টিএসসির ভেতের প্রবেশ করে আত্মগোপনে চলে যায়। এ সময় ছাত্রদলের এক কর্মী আহত হয়।

টিএসসিতে সকাল থেকেই অবস্থান করছিলেন ডাকসু ভোট বর্জন করে পুনঃতফসিল দাবিতে আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করতে গিয়েছিলেন ডাকসু নির্বাচনে নবনির্বাচিত ভিপি নুর।

নুর ব্রিফ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় একদল যুবক লাঠিসোটা নিয়ে টিএসসিতে ঢুকে নুরের দিকে তেড়ে যায়। নুরকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন ছাত্রদল, বামজোটসহ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীরা।

এ সময় হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে আহত হন ছাত্রদল নেতা তৌহিদুর রহমান।

পরে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে ভিসি কার্যালয়ের দিকে যায়। মিছিলে প্রহসনের ডাকসু নির্বাচন বাতিল করে পুনঃতফসিল ঘোষণার দাবি জানানো হয়।

মিছিলে অংশ নিচ্ছেন ডাকসু নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর, বামজোটের নেতা লিটন নন্দী প্রমুখ। ছাত্রদল নেতারাও মিছিলে রয়েছেন।

প্রসঙ্গত ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক পদ ছাড়া সব পদে ছাত্রলীগের প্যানেল নিরঙ্কুশ জয় পায়। সর্বোচ্চ পদে চমক দেখিয়েছেন নুরুল হক নুর। চাকরিতে কোটাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্যানেল থেকে নির্বাচন করা এ নেতা জয়ী হয়েছেন বিপুল ভোটে।

ডাকসু নির্বাচনে নুরের প্রাপ্ত ভোট ছিল ১১ হাজার ৬২টি । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হেভিওয়েট প্রার্থী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন পেয়েছেন ৯ হাজার ১২৯ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ১৯৩৩ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হন নুর। শিক্ষার্থীরা বলছেন ভিপি পদে নীরব ভোট বিপ্লব হয়েছে।

হাসপাতালের বেডে শুয়েই ভিপি পদে জয়ের খবর পান নুর। ‘প্রহসনের ভোটে’ প্যানেলের সব প্রার্থীর পরাজয়ের মাঝে ভিপি পদে এ জয় যে তাকে খুব একটা খুশি করতে পারেনি সেটি বোঝা গেল তার কথায়।

সোমবার রাত ৩টার পর তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় নুর বলেন, এ রকম নির্বাচন আমাদের কারোরই প্রত্যাশা ছিল না। প্রায় তিন যুগ পর এই নির্বাচন হলো। সারা দেশের মানুষ তাকিয়ে ছিল এই ভোটে। কিন্তু প্রত্যাশিত ভোট হয়নি। ডাকসু নির্বাচন কলংকের ইতিহাস সৃষ্টি করল।

‘জাতীয় নির্বাচনের পর নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর মানুষের যে অনাস্থার সৃষ্টি হয়েছিল— আমরা ভেবেছিলাম সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সেখানে আশার আলোর সঞ্চার করা হবে’-যোগ করেন নুর।

কারচুরি অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, প্রশাসনের সহায়তায় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ যে কারচুপি করেছে তা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয় পুরো দেশকে হতাশ করেছে। আমরা মনে করি, ১১ মার্চের নির্বাচন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়।

ডাকসু নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি, জালভোট, ব্যালটবাক্স ছিনতাই ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোটের দিন দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বর্জনের ঘোষণা দেয় নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন প্যানেল। বর্জন করা ভোটেই জয় পান নুর।

রাতে ঘোষিত ফলে দেখা গেল প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগ প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে প্রায় দুই হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে ডাকসুর সহসভাপতি হয়েছেন নুর। ভোট বর্জনকারী নুর শেষ পর্যন্ত ভিপি পদে শপথ নেবেন? এই প্রশ্ন এখন শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে।

শিক্ষার্থীরা যাকে এত আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নেতা নির্বাচিত করলেন, তিনি শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব নেবেন কিনা সেটি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ তিনি আগেই ভোট বর্জন করেছেন। বর্জন করা ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি নুর ডাকসুর ভিপি হিসেবে শপথ নেবেন কিনা সেই প্রশ্নের উত্তর জানতে অপেক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শপথ নেবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নুরুল হক নুর বলেন, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন বাদে বাকি সব সংগঠন এই নির্বাচন বর্জন করেছে। তাই তাদের সঙ্গে কথা বলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এদিকে ভিপি পদে জয়ী কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নেতা নুরুল হক নুরকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে ছাত্রলীগ।

সোমবার দিবাগত রাতে নুরকে ভিপি ঘোষণার পর উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের কাছে এ দাবি জানান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

ডাকসুর ভিপি হিসেবে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুরের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ‘ভুয়া’, ‘ভুয়া’ বলে চিৎকার করতে থাকেন তারা।

ছাত্রলীগকর্মীদের বিক্ষোভ, হইচই-এ ফল ঘোষণায় বিরতি দিতে বাধ্য হন উপাচার্য।

একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত ছাত্রলীগ সভাপতি ও সংগঠনটির প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের ইশারায় বিক্ষোভে বিরতি দেন সংগঠনটির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

এর পর সাধারণ সম্পাদকসহ বাকি পদগুলোতে ভোটের ফল ঘোষণা করেন উপাচার্য। সাধারণ সম্পাদকসহ বাকি ২৪টি পদের একটি বাদে অন্যগুলোতে ছাত্রলীগের প্যানেলের (সম্মিলিত শিক্ষার্থী পরিষদ) প্রার্থীরাই জয়ী হয়েছেন।

ফল ঘোষণা শেষ হলে আবারও বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রলীগকর্মীরা। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ‘এ ফলাফল মানি না, মানব না’ ‘নুরের চামড়া, তুলে নেব আমরা’, ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দেন। এতে অডিটরিয়ামে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

প্রায় আধা ঘণ্টা বিক্ষোভের পর ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী উপাচার্যের পাশে যান। এ সময় উপাচার্যের কাছে নুরকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি করেন রাব্বানী।

তিনি বলেন, একটি প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ও কোটা আন্দোলনের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা হয়েছে।

দিনে ডাকসুর ভোটগ্রহণ চলার সময় রোকেয়া হলে ‘ব্যালট উদ্ধার’র নামে নাটক সংঘটিত করে প্রাধ্যক্ষকে আক্রমণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রাব্বানী।

ওই ঘটনায় একজন সাধারণ শিক্ষার্থী নুরসহ কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছে জানিয়ে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি করেন।

গোলাম রাব্বানী বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ইমোশনকে ব্যবহার করে রোকেয়া হলের প্রভোস্টের ওপর হামলা চালিয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা মামলা করেছে। আমরা ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই।

উপাচার্যকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী নিষিদ্ধ। আমরা এই ভোট পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছি।

এ সময় উপস্থিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ‘বহিষ্কার চাই’, ‘বহিষ্কার চাই’ স্লোগান দেন।

এ বিষয়ে কিছু না বলে কিছু সময় পর সিনেট ভবন থেকে বেরিয়ে যান উপাচার্য। তার পেছন পেছন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও স্লোগান দিতে দিতে বেরিয়ে যান।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!