আপডেট ১০ ঘন্টা আগে ঢাকা, ২৫শে মার্চ, ২০১৯ ইং, ১১ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৭ই রজব, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ অগ্রযাত্রা

Share Button

ক্রমেই শাসক হয়ে উঠছেন শেখ হাসিনাঃদলবাজদের জন্য অ্যাক্সেস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে

| ০২:২৭, মার্চ ১৪, ২০১৯

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ । লন্ডন । ১৪ মার্চ । ২০১৯ । বিগত ১০ বছর ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত দুর্দন্ড প্রতাপে নাম, সুনাম, দুর্নাম উভয়ের ভাগীদার হয়ে দেশ পরিচালনা করে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশী বিদেশী পাহাড় সমান বিরোধীতা আর অর্থ ও পেশী শক্তির বিপরীতে যুদ্ধাপরাধ এবং আইসিটি আইনকে যুগোপযোগী করে অত্যন্ত কঠোরভাবে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের বিরুদ্ধে অনমনীয় এক দৃঢ় ভুমিকা পালন করেছেন। এতে করে দেশে বিদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেমন সুনাম কুড়িয়েছেন, একইভাবে দুর্নামেরও ভাগীদার হয়েছেন। একই সময়ে যোগাযোগ, বিশেষ করে তথ্য ও প্রযুক্তিখাতে অভাবনীয় উন্নয়ন, খাদ্যে ও কৃষিতে ব্যাপক সাফল্য, নারী উন্নয়ন ও নারী সক্ষমতায় যুগান্তকারি অগ্রগতি আর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশেষ সাফল্য তার সরকারকে যেমন এনে দেয় এক স্থিতিশীল অবস্থানে, তেমনি সন্ত্রাস ও জঙ্গী বিরোধী অভিযানে জিরো টলারেন্স এর সাথে দেশে বিদেশে এবং আন্তর্জাতিক মহলে সুনাম কুড়ালেও দলীয় সন্ত্রাস, চাদাবাজ, আন্তঃদলীয় ক্যাডার ও সন্ত্রাসীদের দৌরাত্মে শেখ হাসিনার উন্নয়ন সাফল্য গাথা ম্লান হয়ে যায়। কতিপয় দলীয় সন্ত্রাসীদের দাপুটে সরকারের বিশাল সাফল্য জনগনের আড়ালে অনেকটা চলে যায়, যা শেখ হাসিনার সরকারের বিরোধীরা বেশ দক্ষতার সাথে হাসিনা বিরোধী এক পরিকল্পিত  এবং কল্প কাহিনী নির্ভর এক অজানা ইমেজ তুলে ধরে প্রচার মাধ্যম বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক ঝড় তুলেন। অবশ্য এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর অফিস এবং টিম- এর নমনীয় ও রাজনৈতিক অদুরদর্শী আর দলীয় কৌশল অনেকটাই দায়ী।

০২) বিগত ১০ বছরের শাসনামলে শেখ হাসিনার সরকারের সব চাইতে বড় সাফল্য, বাংলাদেশের প্রান্তিক খেটে খাওয়া জনগনের হাতে এখন বেশ স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে অর্থনৈতিক স্থিতাবস্থা এবং তার আর্থিক উন্নতির সাফল্য বলা যায় এক বিরাট ট্র্যাক রেকর্ড, যা অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে যায়। এখনকার সময়ে একজন রিক্সাওয়ালা, একজন চাষী, কৃষক, মজুর, গার্মেন্ট কর্মী যেকোন মুহুর্তেই তার আয় থেকে সহজেই ২ থেকে ৪ লক্ষ টাকা ক্যাশ ইনজেকশনের  সক্ষমতা রাখেন, যা বিগত ৪৭ বছরেও সম্ভব হয়নি (যদিও এই অংক এখনকার প্রেক্ষিতে নিতান্তই নেহায়েত, এবং জীবন মান উন্নয়নে খুব ভুমিকা রাখতে এখনো কষ্টের পাহাড় বাইতে হয়)।

 

০৩) শেখ হাসিনার সরকারের সব চাইতে বড় সমালোচনা হচ্ছে মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার করতে দেয়া হচ্ছেনা। কিন্তু প্রতিনিয়ত কোন না কোন মাধ্যমে, রেডিও টিভি টক শোতে প্রতিরাতেই সরকারের প্রচন্ড সমালোচনা যেমন হচ্ছে, সরকারের গুণগান হচ্ছে সমানভাবে। সংবাদ পত্রেও সরকার বিরোধী নিবন্ধও প্রকাশিত হচ্ছে। সেজন্য অতি উতসাহী আওয়ামীলীগ সেজে দলীয় লোকজন ছাড়া সরকার প্রধানের পক্ষ থেকে খুব একটা বাধা হয়ে দাড়িয়েছে, এমন অকাট্য তথ্য লক্ষণীয় নয়।

 

০৪) সম্প্রতি সিলেটের মেয়র নির্বাচন, আর হালের ডাকসুর নির্বাচনে সকলের অজান্তে নাটকীয় দৃশ্যের অবতারনা হয়ে গেছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চের দৃশ্যায়নে নতুন ছক এবং খেলা অনেকটাই পরিষ্কার এক নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে বা সেদিকেই যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই আওয়ামীলীগ দলীয় সন্ত্রাসী, দলীয় মেধাহীন নেতৃত্ব, অপেশাদারী মনোভাবাসম্পন্ন রাজনৈতিক নেতা কর্মী, এমনকি কখনো কখনো জাদরেল ডাকসাইটে নেতৃত্বও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নির্বাচনের পর থেকে প্রধানমন্ত্রীর দেখা আর আগের মতো শত চেষ্টা করেও পাচ্ছেননা। প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, সচিবালয়ে সহ সর্বত্র ধীরে ধীরে অত্যন্ত যত্নের সাথে এবং সঙ্গোপনে যে সিগন্যাল পৌছে যাচ্ছে, দলীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাত এখন আর আগের মতো সহজ যেমন নয়, বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এখন আর দলীয় মাস্তান, সন্ত্রাসী, যে দলেরই হউক, যে পর্যায়ের হউক, তিনি যতো বড় শক্তিশালি এবং ক্ষমতার লাইম লাইটে থাকুন না কেন, অতীতের সব কিছুকে ভুলে যেতে হবে। শেখ হাসিনা এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। দলীয় এবং মহাজোটের প্রধানমন্ত্রী থেকে তিনি দেশের শাসক প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠছেন। মহাজোটের অনেক দাপুটে নেতারাও হতাশ। শত চেষ্টা করেও সাক্ষাত মিলছেনা। শেখ হাসিনা ক্রমেই কঠিণ হয়ে উঠছেন। সর্বত্র তিনি ধীর লয়ে এই ম্যাসেজই পৌছে দিচ্ছন- দলীয় প্রধানমন্ত্রীর শাসন বিগত ৯ বছর দেখেছেন। এবার শাসক শেখ হাসিনার পালা। ধীরে ধীরে শেখ হাসিনা সন্ত্রাস, চাদাবাজ, আধিপত্যবাদ, দলবাজ, দখলবাজদের জন্য কঠোর হয়ে উঠবেন। শাসক শেখ হাসিনা এখন নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতিচ্ছবিতে আবর্ত হতে চলেছেন। এবং যদি তাই হয়, তা হলে তা হবে বাংলাদেশের আপামর জনগনের জন্য এক সুখময় এবং কল্যাণময় শাসনের সূচনা ও শুভ সংবাদ। শেখ হাসিনা যদি সেদিকেই অগ্রসর হন, তাহলে তা হবে আওয়ামীলীগ দলকে আগামীর প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা ও টিকিয়ে রাখার, সেই সাথে বঙ্গবন্ধু পরিবারের ইমেজকে নতুন এক বিমুর্ত আবহে ফিরিয়ে এনে শাসক শেখ হাসিনাকে আগামী দশকে জনপ্রিয় এক শাসকের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার নতুন সূচনা হবে।সাধারণ জনগন এমনটাই আশা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!