আপডেট ২৮ min আগে ঢাকা, ১৯শে জুন, ২০১৯ ইং, ৫ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ই শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ জাতীয়

Share Button

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ব্যাতিক্রমী আয়োজন মুক্তিযুদ্ধে হারানো বাবাকে “ফিরে পাওয়ার” কাহিনী

| ২৩:৪০, মার্চ ৩১, ২০১৯
সৈয়দ আব্দুল কাদির : গত ২৫ মার্চ লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব অফিসে প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জুবায়েরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে ২৫ শে মার্চের কালো রাত্রীতে ও একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যুবনেতা ও সংস্কৃতিকর্মী জামাল খান।
এতে তিনি উল্লেখ করেন- ১৯৭১ সালে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে তৎকালীন ” ইপিআর” সদস্য তাঁর বাবা  নায়েক মোঃ নুরুল হক খান পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান এবং স্বাধীনতার লক্ষ্যে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য নিজ এলাকার লোকদের সংগঠিত করার কাজে নিয়োজিত হন।
এ খবর পাক হানাদার বাহিনী জানতে পেরে তাঁর গ্রামের নেতৃস্থানীয় লোকদের কাছে সংবাদ পাঠায় যে মোঃ নুরুল হক খান যদি এ গ্রামে থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করেন তা হলে এ পুরো গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হবে। এ খবর জানার পর বালাগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুরে তাঁর বাড়িতে ছূটিতে থাকাকালীন সময়ে ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে মোঃ নুরুল হক খান তাঁর ৬ জন অবুঝ সন্তান ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ফেলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা ঘরে ফিরে আসলেও মোঃ নুরুল হক খান আর ফিরে আসেননি। যুদ্ধ  চলাকালীন সময়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে বিভিন্নভাবে খবর এসেছে- কেউ বলেছেন পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে তিনি নিহত হয়েছেন, আবার কেউ বলেছেন পাক হানাদার বাহিনী ধরে নিয়ে তাঁকে হত্যা করেছে।  তাঁর ছোট ছেলে যুবনেতা ও সংস্কৃতিকর্মী জামাল খান  যার জন্ম হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বাবার মৃত্যুর পর ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে। দীর্ঘ ৪৮ বছর পর অক্লান্ত চেষ্টা ও বহু কষ্টের বিনিময়ে গত মাসে বিডিআর হেড কোয়ার্টার পিলখানা থেকে তাঁর পিতা মোঃ নুরুল হক খানের ছবি সম্বলিত তথ্যাবলীর সঠিক সন্ধান পান। এতে উল্লেখ করেন- ১৯৭১ সালের ৫ মে মোঃ নুরুল হক খান শহীদ হন এবং সিলেট ক্যাডেট কলেজের সন্নিকটে একটি গণকবরে তাকে মাটি চাপা দেয়া হয়।
১৯৭২ সাল থেকে সরকারীভাবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেয়ে আসছিলেন তাদের পরিবার। ‌এ সকল প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী উক্ত অনুষ্ঠানে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে তুলে দেন জামাল খান ও তাঁর আরো ৪ ভাই।  এ ধরনের একটি ব্যাতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা জানানোর জন্য লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবকে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় উপস্থিতির মধ্য থেকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক রাজনীতিক সুলতান শরীফ, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাসন, সাংবাদিক বুলবুল হাসান, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সহ সভাপতি সাংবাদিক তারেক চৌধুরী, সাংবাদিক সৈয়দ আনাস পাশা, সাংবাদিক সৈয়দ আব্দুল কাদির, সাংবাদিক রায়হান আহমেদ, সাংবাদিক আব্দুল কাদির চৌধুরী মুরাদ, কাউন্সিলার আহবাব হোসেন, কাউন্সিলার শাহ্ সুহেল আমিন প্রমুখ।
সাংবাদিকের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুল হক খানের দ্বিতীয় ছেলে কাউন্সিলার সদরুজজামান খান। এ সময় তিনি তাঁর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পিতার সঠিক তথ্যাবলী প্রাপ্তিতে বর্তমান সরকারের সার্বিক সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। আর আজকের এই ব্যাতিক্রমী একটা মহতি আনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবকেও তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
২য় পর্বে ইভেন্ট সেক্রেটারী রেজাউল করিম মৃধার সার্বিক তত্ত্বাবধানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ইসি মেম্বার কবি শাহনাজ সুলতানা। এতে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন ইসি মেম্বার শিল্পী রুপি আমিন, শিল্পী হীরা কাঞ্চন। কবিতা আবৃত্তি করেন ইসি মেম্বার আবৃত্তিকার নাজমুল হোসাইন, জিয়াউর রহমান প্রমুখ।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!