আপডেট ১ ঘন্টা আগে ঢাকা, ২৬শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং, ১৩ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে শাবান, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ অর্থ-বণিজ্য

Share Button

বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ বৈঠক শুরু:গুরুত্ব পাচ্ছে রোহিঙ্গা ইস্যু ও বিনিয়োগ

| ২২:১৫, এপ্রিল ১১, ২০১৯

মিজান চৌধুরী, ওয়াশিংটন ডিসি থেকে -বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ইস্যু ও এসডিজি বাস্তবায়ন, বেসরকারি বিনিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

সাইবার ঝুঁকি, জলবায়ু পরিবর্তন ও মাইগ্রেশন মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজের কৌশল নির্ধারণই এ বৈঠকের লক্ষ্য। ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ বিশ্ব নীতিনির্ধারকদের কাছে এসব ইস্যু তুলে ধরবে।

এ বৈঠক থেকে বিভিন্ন দেশের প্রবৃদ্ধি আরও টেকসই, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য-যুদ্ধের উদ্বেগ কমিয়ে আনার কৌশলও খুঁজে বের করা হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালসহ ১৮৯টি দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, ৩৫০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং ৮০০ সাংবাদিক ও ৫৫০ জন সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি।

অতিথিদের বরণ করতে নতুনরূপে সাজানো হয়েছে ১৭৭ কিলোমিটার আয়তনের যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিকে। বুধবার সকালে বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক প্রসঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মনোয়ার আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরা হবে শুক্রবারের (আজ) বৈঠকে। আগামী বর্ষায় অনেক রোহিঙ্গার ঘর নষ্ট হবে। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে তাদের ঘর তৈরি করে দিয়েছে। নতুন করে ঘরবাড়ি নষ্ট হলে তা তৈরি করতে অর্থের প্রয়োজন। এ বিষয়টি দাতা সংস্থার কাছে তুলে ধরা হবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সমস্যাসহ পাঁচটি ইস্যু তুলে ধরা হবে বসন্তকালীন বৈঠকে। বর্তমানে রোহিঙ্গা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা। তাদের ফেরতের বিষয়টি জাতিসংঘসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সমর্থন আদায় করা হবে অন্য দেশের। এ জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এর আগে গত অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরেছিল। ওই সময় বিশ্বব্যাপী সহায়তার আশ্বাসও পাওয়া গেছে। এবার বসন্তকালীন বৈঠকে সমস্যাগুলো তুলে ধরা হবে যাতে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর সমর্থন পাওয়া যায়। এ জন্য রোহিঙ্গাদের বর্তমান অবস্থার ওপর বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে; যা অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে থাকবে। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের মোট সংখ্যা, পূর্বের সংখ্যা, বর্তমানে দফায় দফায় আগত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা, পুরুষ-মহিলা ও শিশুর তথ্য, প্রয়োজনীয় মৌলিক চাহিদা (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য) এবং রোহিঙ্গাদের আগমনের ফলে স্থানীয় জনগণ ও অবকাঠামোর ওপর বিরূপ প্রভাব ব্যাখ্যা করা হবে। এসব তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি আগামীতে তাদের প্রতিপালনের জন্য চাওয়া হবে প্রয়োজনীয় সহায়তাও। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে টেকসই উন্নয়নের ঝুঁকি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা এবং গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের অর্থায়ন নিয়েও আলোচনা হবে।

বৈঠক প্রসঙ্গে অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার যুগান্তরকে বলেন, অর্থমন্ত্রীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সংস্থা দুটির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় এসব বিষয় তুলে ধরা হবে।

এদিকে বসন্তকালীন বৈঠকে বিশ্বব্যাপী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধ, সাইভার ঝুঁকি, জলবায়ু পরিবর্তন ও ভৌগোলিক মাইগ্রেশন। এখন বিভিন্ন দেশে সাইবার অপরাধ হচ্ছে। হ্যাকিং হচ্ছে। এক দেশ থেকে অন্য দেশে প্রবেশ করে সার্ভার হ্যাকিং করছে। বাংলাদেশও এমন ঘটনার শিকার হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশ মনে করছে, এসব ঝুঁকি মোকাবেলায় একটি দেশ একা কাজ করতে পারবে না। সম্মলিতভাবে এসব ঝুঁকি মোকাবেলা করতে হবে। কারণ আর্থিক খাতে এসব ঝুঁকি ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।

জানা গেছে, প্রতিবছর বিশ্বে অবৈধভাবে দেড় লাখ কোটি ডলার পাচার বা ব্যয় করা হচ্ছে। এটি বিশ্ব জিডিপির ২ শতাংশ। পাশাপাশি দুর্নীতিও ক্ষতি করছে অর্থনীতিকে। এ ছাড়া প্রতিটি দেশের জন্য তিনটি নীতির প্রয়োজনীয়তা আলোচনায় আনা হবে। এগুলো হচ্ছে- ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অভ্যন্তরীণ নীতিই বড় সহায়ক হবে,’ ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য দু’দেশের সীমান্ত নীতি এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যৌথ উদ্যোগ।

এদিকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে বেসরকারি বিনিয়োগ খোঁজা হবে এ বৈঠকে। বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ যৌথ উদ্যোগে একটি বৈঠকের আয়োজন করেছে। সেখানে বাংলাদেশসহ এ ধরনের দেশগুলো কীভাবে এসডিজি বাস্তবায়ন করবে, বেসরকারি খাতে কারা বিনিয়োগ করবে, এর পরিমাণ কী হবে এসব বিষয় বড় বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সিইও এবং উদ্যেক্তাদের কাছে তুলে ধরা হবে। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে একটি পেপার উপস্থাপন করা হবে।

জানা গেছে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বৈঠকে বিশ্ব অর্থনীতি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহিবল (আইএমএফ) সম্প্রতি তাদের পূর্বাভাসে বলেছে বিগত বছরগুলোর তুলনায় ২০১৯ এবং ২০২০ সালে কমপক্ষে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কমবে। সংস্থাটি বলেছে গত দু’বছর আগেও বিশ্ব অর্থনীতি ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। কিন্তু চলতি বছর আশা করা হচ্ছে, ৭৫ থেকে ৭০ শতাংশে নেমে আসবে। এ মুহূর্তে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নিচের দিকে যাচ্ছে।

নেতারা একমত হয়েছেন ২০১৮ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যে বাণিজ্য-যুদ্ধ শুরু হয়েছে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। এই বাণিজ্য উদ্বেগ কীভাবে কমানো যায় তা আগামীর বৈঠকে তুলে ধরা হবে।

বসন্তকালীন বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিনিয়োগ, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ, উন্নয়নের জন্য অর্থায়ন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশের অবস্থান, বেসরকারি অর্থায়নে বিনিয়োগের ইস্যুগুলো তুলে ধরা হবে। এ সময় বাংলাদেশের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হবে। এ বৈঠকে অংশ নিতে ইতিমধ্যে অর্থমন্ত্রীসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার ও আইআরডি সচিবসহ ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনে পৌঁছেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!