আপডেট ২ ঘন্টা আগে ঢাকা, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ অর্থ-বণিজ্য

Share Button

তারপরেও বিমান লন্ডন অফিস জেএমজিকে ৫০ লাখ টাকার চেক পেমেন্ট করে

| ১৩:৪৩, এপ্রিল ১৫, ২০১৯

রফিক মজুমদার। ঢাকা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের লন্ডন স্টেশনের আর্থিক দুর্নীতি যেন থামছেই না। উদঘাটন হচ্ছে নতুন নতুন দুর্নীতির তথ্য। ফ্রি-টিকিট কেলেঙ্কারির রেশ কাটতে না কাটতেই কার্গো কমিশন খাতে ৫০ লাখ টাকার নতুন দুর্নীতির তথ্য ধরা পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কার্গো কমিশন খাতের সাব-এজেন্ট জেএমজি কার্গো অ্যান্ড ট্রাভেলস লিমিটেডকে ৫০টি বিজনেস ক্লাসের টিকিট প্রদান করেন সদ্য বিদায়ী লন্ডনের বিতর্কিত কান্ট্রি ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম। যার মূল্য ৬০ লাখ টাকার ওপরে। ডাবল কমিশন ও ৫০টি ফ্রি টিকিট বাবদ ৬০ লাখ টাকাসহ দুর্নীতির পরিমাণ এক কোটি ১০ লাখ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।

অভিযোগ রয়েছে, সংস্থাটির অর্থ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রশিদ ও আইন বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক আজরা নাসরিনের বিধিবহির্ভূত সুপারিশে এ অপকর্ম সংঘটিত হয়েছে।

জেনারেল সেলস এজেন্ট-জিএসএ ছাড়া সাব-এজেন্টের সঙ্গে বিমানের কোনো আর্থিক লেনদেন বা কমিশন প্রদানের নিয়ম না থাকলেও মার্কেটিং বিভাগের তৎকালীন পরিচালক আলী আহসান বাবু এবং লন্ডনের কান্ট্রি ম্যানেজার শফিকুল ইসলামের সহযোগিতার এ অর্থছাড় করিয়ে নেয় জেএমজি।

দুর্নীতির এ বিষয়ে জানতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অর্থ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রশিদের মোবাইল ফোনে কল দেয়া হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জেএমজি’র পেমেন্টের দায়ভার লন্ডন স্টেশনের। এছাড়া বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এটির অনুমোদন দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, অডিট ও লিগ্যাল শাখার মতামত জানার পর আমি সেটিতে স্বাক্ষর করি। তবে নিয়মানুযায়ী রাজস্ব জেনারেল শাখায় ফাইলটি কেন পাঠানো হয়নি বা মতামত নেয়া হয়নি এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারব না।

যাচাই-বাছাই কিংবা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সাব-এজেন্টকে কেন ৫০ লাখ টাকা পরিশোধের আইনি সুপারিশ করেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে আইন বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক আজরা নাসরিন বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি নই।’

Related image

জানা গেছে, লন্ডন স্টেশনের কার্গো ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিমান ২০১৩ সালে যথাযথ নিয়ম মেনে কার্গো চার্জ বাবদ চার শতাংশ হারে কমিশন প্রদানের চুক্তিতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কার্গো জিএসএ ইসিএস গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব এয়ার কার্গোকে নিয়োগ দেয়। নির্ধারিত চার শতাংশ কমিশনের মধ্যে দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ জিএসএ আন্ডার রাইটিং কমিশন এবং এক দশমিক পাঁচ শতাংশ টোটাল কার্গো ব্যবসার ওপর ইনসেনটিভ/কমিশন দেয়া হয়। প্রতি ১৫ দিন পরপর জিএসএ (জেনারেল সেলস এজেন্ট) মোট বিক্রির চার শতাংশ কমিশন কেটে রেখে এবং অবশিষ্ট ৯৬ শতাংশ অর্থ বিমানের তহবিলে জমা করে।

বিমানের লন্ডন স্টেশন সূত্রে জানা যায়, চুক্তি অনুযায়ী জিএসএ গ্লোব এয়ার কার্গোকে এড়িয়ে সাব-এজেন্ট জেএমজিকে সরাসরি কমিশন ও ফ্রি টিকিট প্রদান করা হয়েছে, যা চুক্তি বহির্ভূত। একই কাজের কমিশন একবার নিয়েছে জিএসএ আবার নিল সাব-এজেন্ট। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিমান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৮ সালের জুনে ইউরোপ ও আমেরিকার ৪৭টি দেশে ব্যবসা পরিচালনায় অভিজ্ঞ কোম্পানিকে বাদ দিয়ে কথিত সাব-এজেন্ট জেএমজি’র হাতে বিমানের কার্গো ব্যবসা তুলে দেয়া হয়। পরে গোপন চুক্তি অনুযায়ী বিমানের মার্কেটিং বিভাগের মহাব্যবস্থাপকের মতো সম্মানজনক চাকরি হতে পদত্যাগ করে আতিক রহমান চিশতি জেএমজি’র পার্টনার হিসেবে যোগ দেন।

সদ্য অবসরে যাওয়া মার্কেটিং বিভাগের পরিচালক আলী আহসান বাবু এবং আইন ও অর্থ বিভাগের দুই কর্মকর্তা আজরা নাসরিন ও মিজানুর রশিদ বিধিবহির্ভূত সুপারিশ করেন। জালিয়াতির নথিপত্রে আপনি কী কারণে স্বাক্ষর করলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এ এম মোসাদ্দিক আহমেদ  বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানি না। এ বিষয়ে অফিস খুললে বিস্তারিত জেনে জানানো সম্ভব হবে।’

বিমানে ৮ খাতে দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে দুদক

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আটটি খাতে মোটা অংকের দুর্নীতি হয় বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান। রোববার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীর কাছে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন কমিশনার।

এ সময় মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘সরকারি সেবা প্রদানের প্রক্রিয়াকে পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে ঘুষ-দুর্নীতি, দীর্ঘসূত্রিতা এবং জনহয়রানি বন্ধে দুর্নীতি কমিশন গঠিত টিম এ প্রতিবেদন তৈরি করে।’

তিনি বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানিক টিম আটটি দুর্নীতির উৎস খুঁজে পেয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- বিমান ক্রয় ও বিমান লিজ খাতে দুর্নীতি, রক্ষণাবেক্ষণ ও ওভারহোলিং খাতে দুর্নীতি, গ্রাউন্ড সার্ভিস খাতে দুর্নীতি, কার্গো আমদানি রফতানি খাতে দুর্নীতি, বিমান ফুড ক্যাটারিং খাতে দুর্নীতি ইত্যাদি।’

এসব দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিশন ৮ দফা সুপারিশ পেশ করেছেন বলেও জানান তিনি।

মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘কমিশন ২০১৭ সালে ২৫টি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে ২৫টি প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠন করে। প্রতিটি টিমকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান আইন, বিধি, পরিচালনা পদ্ধতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ অপচয়ের দিকসমূহ ও বিশ্লেষণ করে এসব প্রতিষ্ঠানের জনসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সফলতা ও সীমাবদ্ধতা, আইনি জটিলতা, সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি ও দুর্নীতির কারণসমূহ চিহ্নিত করে তা বন্ধে সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিশনে প্রস্তাব পেশ করতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার আলোকে ২০১৮ সালে কাস্টমস, ভ্যাট অ্যান্ড এক্সাইজ ও আয়কর বিভাগ এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর সংশ্লিষ্ট টিমসমূহ এসব ক্ষেত্রে দুর্নীতির উৎসমূহ চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে সুপারিশমালা প্রণয়ন পূর্বক কমিশনে প্রতিবেদন পেশ করে। কমিশন আলোচনা-পর্যালোচনা করে বাস্তবসম্মত কয়েকটি সুপারিশ সরকারের কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে।’

কমিশন বিশ্বাস করে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নযোগ্য, যা অবশ্যই এসব দফতরে সরকারি পরিষেবা প্রদানে ঘুষ, দুর্নীতি, হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রিতা হ্রাস করতে পারে। অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক টিমের প্রতিবেদন কমিশনের বিচার-বিশ্লেষণ পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ফ্রি টিকিটে কোটি টাকার মালিক শফিকুল

টাকার বিনিময়ে ফ্রি টিকিট বিক্রি, টিকিটে অনিয়ম ও কার্গো জালিয়াতির মাধ্যমে চার বছরে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা! এমন অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের লন্ডন স্টেশনের কান্ট্রি ম্যানেজার শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বুধবার তাকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করেছে বিমান।

বিমানের লন্ডন স্টেশন সূত্র জানায়, গত চার বছরে অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। এই টাকা দিয়ে লন্ডনে কিনেছেন বাড়ি-গাড়ি। শুরু করেছেন ব্যবসা।

শফিকুল ইসলামের টিকিট-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে জাগো নিউজের কাছে বেশকিছু তথ্য এসেছে। তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, শফিকুল ইসলাম ২০১৬-১৭ সালে বিমানের লন্ডন অফিস থেকে মোট ৬৮৩টি ফ্রি টিকিট ইস্যু করেন। এর মধ্যে বিজনেস ক্লাসের ২৭৪ এবং ইকোনমি ক্লাসের ৮০৯টি। ২০১৭-১৮ সালে বিজনেস ক্লাসের ১৫১টি এবং ইকোনমি ক্লাসের ২০৯টি, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৯৩টি বিজনেস ক্লাস এবং ৩৭৫টি ইকোনমি ক্লাসের টিকিট বিক্রি করেন।

২০১৯ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য আগেই ৫১৫টি ফ্রি টিকিট ইস্যু করে রেখেছিলেন শফিকুল ইসলাম। যার ২৮৫টি বিজনেস ক্লাসের।

 

সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশের ১১টি খাতে দুর্নীতি হয়েছে বলে জানান দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান। তিনি বলেন, ‘সরকারি সেবা প্রদানের প্রক্রিয়াকে পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে ঘুষ-দুর্নীতি, দীর্ঘসূত্রিতা এবং জনহয়রানি বন্ধে দুর্নীতি কমিশন গঠিত প্রাতিষ্ঠানিক টিম এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশে দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক টিম ১১টি দুর্নীতির উৎস খুঁজে পেয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- ক্রয় খাতে দুর্নীতি, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি, নির্মাণ ও উন্নয়নমূলক কাজে দুর্নীতি, বিমানবন্দরের স্পেস/স্টল ও বিলবোর্ড ভাড়ায় দুর্নীতি, কনসালটেন্ট নিয়োগে দুর্নীতি, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে দুর্নীতি ইত্যাদি।

মোজাম্মেল হক বলেন, কেনাকাটার খাতেই বেশি দুর্নীতি হয়। তাই কেনাকাটার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ লোকজন নিয়োগ দেয়ারও সুপারিশ করে তারা।’ প্রয়োজনের এক্ষেত্রে বুয়েটের অভিজ্ঞ শিক্ষদের কাজে লাগানো যায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নত দেশে রূপান্তরিত করতে দুর্নীতিকে বিদায় জানাতে হবে। সরকারও এবার ক্ষমতা নেয়ার সময় দুর্নীতিকে বিদায় জানাতে চেয়েছে। কাজেই দুর্নীতি দমনের বিষয়টি এখন অগ্রাধিকারে রয়েছে।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, ‘দুদকের রিপোর্ট আমরা খতিয়ে দেখবো। দুদক যেসব সুপারিশ দিয়েছে সেগুলো পর্যালোচনা করে কি কি পদক্ষেপ নেয়া যায় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেব।

এয়ারলাইন্স এমনি অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

যাত্রীদের যে মানের খাদ্য ও পরিষেবা দেয়ার কথা বিমান বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তাতে ঘাটতি রয়েছে। যে মানের সেবা পাওয়ার কথা সেটা যাত্রীরা পায় না বলেও জানান ড. মো. মোজাম্মেল হক খান।

দুদক কমিশনার বলেন, ‘গ্রাউন্ড সার্ভিসের অবস্থা ভালো না। বিমানে টিকিটের জন্য যাওয়া হলে বলা হয় টিকিট নেই। কিন্তু পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ চাইলেই আবার টিকিট পাওয়া যায়। এসব অসঙ্গতিসহ বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে এ ধরনের নানাবিধ অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে যদি মনিটর করা হয়। তাহলে নিঃসন্দেহে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক দেশে গিয়ে দেখেছি টার্মিনাল ঘুরে লাগেজের নিকট যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে মালপত্র চলে আসে। কিন্তু নিজের দেশে লাগেজের জন্য আমাদের এক দেড় ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। এসব আমরা চায় না। এক্ষেত্রে নজরদারি বাড়াতে হবে।’

‘তাছাড়া ট্রেনিং নেয়ার জন্য সিভিল এভিয়েশনে অল্প সময়ের জন্য বদলি হয়। এমন অভিযোগও দুদকের কাছে রয়েছে।’

http://www.londontimesnews.com/archives/44052?fbclid=IwAR2xY6ryxOHzj1RajyZXEUZmJtFBoPqOGn9f5E1wn9ei-mhIpSDn8dyENL8

মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বর্তমানে আগের চেয়ে বিমানের সেবা কিছুটা বেড়েছে। তবে আমরা এটাকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে চায়। তাহলে দেশের সুনাম বাড়বে। বিদেশে দেশের ভাবমুর্তি বাড়বে। আমি আশা করি রিপোর্টটি মন্ত্রণালয় গুরুত্বসহকারে দেখবেন তাতলেই বেশকিছু সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে অনেক ধরনের সুন্দর সুন্দর ইকুইপ থাকে। ওই দেশে নামলেই সে দেশটার একটা প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এতে ঘাটতি রয়েছে। আমরা মনে করি এ কাজগুলো সঠিকভাবে হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে মো. মাহবুব আলী বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই বিমানে যাত্রীদের সেবা প্রদানে মান ও দ্রুত লাগেজ প্রদানের জন্য কাজ শুরু করেছি। বিমানে টিকিট বিক্রি না করার সঙ্গে কারা জড়িত সে বিষয়েও আমরা অনুসন্ধান চালাচ্ছি। বিমানের ভাবমুর্তি নষ্টের সঙ্গে যারাই জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

এক বছরে বিমানের লোকসান ২০১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী জানিয়েছেন, গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড ২০১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছে। এ সময়ে বিমানের মোট আয় ছিল ৪ হাজর ৯৩১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। পক্ষান্তরে ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ১৩৩ কোটি ১১ লাখ টাকা।

রোববার জাতীয় সংসদে গাজী শাহনেওয়াজের (হবিগঞ্জ-১) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এই তথ্য জানান। বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের এই বৈঠক শুরু হয়।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এর আগের তিন অর্থবছর লাভে ছিল রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি। তার মধ্যে ২০১৬-১৭ সালে ৪৬ কোটি ৭৬টাকা, ২০১৫-১৬ সালে ২৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং২০১৪-১৫ সালে ২৭৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা লাভ করেছে বিমান।

তিনি জানান, গত অর্থবছরে উড়োজাহাজের জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, বৈদেশিক মূদ্রার বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন ও এয়ারক্রাফট ক্রু মেইনটেনেন্স ইনস্যুরেন্স (এসিএমআই) ভিত্তিতে উড়োজাহাজ ব্যবহারের কারণে বিমানকে ২০১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা লোকসান দিতে হয়েছে।

Comments are closed.

পাঠক

Flag Counter

UserOnline

Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!