আপডেট ৩ ঘন্টা আগে ঢাকা, ১৭ই জুলাই, ২০১৯ ইং, ২রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ অগ্রযাত্রা

Share Button

মোমেনের ১০০দিনঃজার্মানি, আমিরাতের সঙ্গে ৫টি চুক্তি সহ অর্থনৈতিক কূটনীতিতে বৈশ্বিক হাওয়া তুঙ্গে

| ২১:২৫, এপ্রিল ১৭, ২০১৯

লন্ডন টাইমস নিউজ । ঢাকা ও লন্ডন অফিস । জীবনে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য হয়ে সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্তির ১০০ দিন পূরণ করলেন ঝানু কূটনীতিবিদ, অর্থনীতির খ্যাতিমান অধ্যাপক ডঃ আবদুল মোমেন। সামনে এগিয়ে চলার অনেক বাধা বিপত্তি আর সীমাবদ্ধতা সত্যেও অল্প সময়ের মধ্যে জার্মানি ও আরব আমিরাতের সাথে ৫টি চুক্তি ছাড়াও ৬ বছর পরে বন্ধ থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে শ্রমবাজারের ১৯ ক্যাটাগরিতে শ্রমবাজার উম্মুক্ত হওয়া, সৌদি আরবের মতো দেশের প্রথমবারের মতো মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে বিনিয়োগের আগ্রহ-যার প্রেক্ষিতে বড় ধরনের বিনিয়োগের আশা করছে ঢাকা; সব কিছু মিলিয়ে এই অল্প সময়ে নানা দিক দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ডঃ মোমেন এর ১০০দিন যথেষ্ট সফল এমনটাই অভিজ্ঞদের অভিমত।   যদি ডঃ মোমেন বলছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে এখনো দৃশ্যমান সফলতা আসেনি, কথা বার্তা চলছে। তবে আশাবাদী, সফলতা আসতে সময় লাগবে।

 

আর খোদ পশ্চিমাদের বিশেষ করে মার্কিনীদের সাথে আলোচনা ইতিবাচক এবং বেশ পজিটিভ, এর সফলতা আসবে ধীরে ধীরে। ইতোমধ্যেই মার্কিন ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছরের ৭ই জানুয়ারি যাত্রা শুরু করা সরকারের মূল প্রাধিকার নির্ধারিত হয়েছিল ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি বা অর্থনৈতিক কূটনীতি। যার ফোকাসে ছিল ৪টি বিষয়। বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ, শ্রমবাজারের উন্নয়ন এবং কনস্যুলার সেবার মান বৃদ্ধি।

বিনিয়োগ বাণিজ্য সম্প্রসারণে সাফল্যঃ

বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে জার্মানী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে অন্তত ৫টি করে চুক্তি সই হয়েছে। সৌদি আরবের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেছে। দেশটির বড় বিনিয়োগ আশা করছে ঢাকা।

শ্রমবাজারের দরজা খুললোঃ
৬ বছর ধরে বাংলাদেশীদের জন্য বন্ধ আমিরাতের শ্রমবাজার পুরোপুরি উন্মুক্ত না হলেও ১৯ ক্যাটাগরিতে তারা কর্মী নিতে নতুন করে আগ্রহ দেখিয়েছে। এ সংক্রান্ত ঘোষণাও এসেছে। ভূটান বাংলাদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সদ্য সমাপ্ত সফরে। বিষয় দুটিকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসাবে দেখছেন মন্ত্রীসহ অন্যরা। কনস্যুলার সেবায় খানিক পরিবর্তন এসেছে।

২৪ ঘন্টা হটলাইন চালু সহ প্রবাসি হয়রানি বন্ধে ব্যবস্থাঃ

বিদেশস্থ মিশনগুলোতে সপ্তাহ জুড়ে ২৪ ঘন্টা হট লাইন চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রবাসী হয়রানী বন্ধে সিসিটিভি লাগানো এবং মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। সেবায় গতি আনতে অ্যাপস চালু হয়েছে। ডকুমেন্ট সত্যায়নে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

 

রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন রাশিয়াকে বুঝাতে ব্যস্তঃ

তবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে এখনও চীন ও রাশিয়ার অবস্থানে কোন পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়নি ঢাকাইয়া কূটনীতি। তবে পূর্বের দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও জোরদারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ‘লুক ইস্ট’ পলিসি বাস্তবায়নে সরকারের পূর্ণ মনোযোগ রয়েছে। এর অংশ হিসাবে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বেইজিং সফর এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মস্কো সফরের আমন্ত্রণ এবং প্রস্তাব আলোচনায় আছে।

পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্কের উন্নতিঃ 
পশ্চিমা দুনিয়ার সঙ্গে সরকারের সম্পর্কে ‘শীতল ভাব’ বিরাজ করছে নানা কারণে। যদিও বাণিজ্য এবং অন্য রুটিন কার্যক্রমে বেশ গতি রয়েছে। কার্যকর গণতন্ত্র, নির্বাচন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালীকরণ, মানবাধিকার পরিস্থিতি, মুক্তমতের চর্চা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে পশ্চিমা দুনিয়ার চাওয়া এবং বাংলাদেশের অবস্থান প্রশ্নে ভিন্নতা রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের উদ্বেগও আছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা দুনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে কূটনৈতিক চেষ্টার কোন কমতিই ছিল না গত ১০০ দিনে।

ভোট প্রশ্নে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বিদেশী উদ্বেগ নিরসনের চেষ্টা হয়েছে।চলতি মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও’র আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন। হোস্ট মাইক পম্পেও’র সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপ-প্রধান, সিনেটর এবং আমেরিকান দাতব্য সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠক হয় তার। ওই সব বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য মতে বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলা, বঙ্গবন্ধুর খুনিকে ফেরত আনাসহ ইস্যু ভিত্তিক অত্যন্ত কার্যকর এবং ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। যার ফল বাংলাদেশ পাবে ধীরে ধীরে। কিন্তু ওই সফরে যে ৩ টি বিষয় ফোকাস ছিল-

প্রথমত: বাংলাদেশ প্রশ্নে মার্কিনীদের মনোভাবে পরিবর্তন। বিশেষতঃ ভোট এবং নতুন সরকারের কার্যক্রম বিষয়ে  ইতিবাচক ধারণা দেয়ার পাশাপাশি সম্পর্কের মতভিন্নতা দূর করে দেশটির বাজারে বাংলাদেশী পণ্যে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের সূযোগ সৃষ্টি, বড় বিনিয়োগ আকর্ষণসহ বাংলাদেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মার্কিনীদের সমর্থন এবং সহযোগিতা নিশ্চিত করা।

 

দ্বিতীয়ত: বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরানো এবং তার বিরুদ্ধে আদালতের দেয়া দণ্ড কার্যকরে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা পাওয়া।

 

তৃতীয়ত: বাংলাদেশ যে মার্কিন নগরিকসহ সব বিদেশীদের জন্য নিরাপদ এবং এখানে যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে সেটি বুঝানো। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ড. মোমেন এ নিয়ে আলোচনা করেন এবং মার্কিনীদের তরফে অনেক ক্ষেত্রে ইতিবাচক রেসপন্স বা জবাব রয়েছে বলে দাবি করেন।

কিন্তু তিনি ওয়াশিংটনে থাকা অবস্থায় মার্কিন নাগরিকদের জন্য অতি ঝুকিপূর্ণ ৩৫টি দেশকে ‘কে’ ক্যাটাগরিভুক্ত করে স্টেট ডিপার্টমেন্ট নতুন করে যে ভ্রমণ সতর্কবার্তা জারি করে সেটাতে বাংলাদেশের নাম ওঠে যাওয়া এবং বঙ্গবন্ধুর খুনিকে ফেরাতে প্রশাসনিক চেষ্টা না করে আইনী লড়াই শুরু করতে মার্কিনমন্ত্রীর নতুন পরামর্শ মন্ত্রীর সফরের অর্জনকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেয়। অবশ্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপত্তা সতর্কতাকে সামান্য বিষয় হিসবেই দেখছেন। গতকাল সিলেটের টাটার মোটর উদবোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, এতে উদবিগ্ন হওয়ার মতো কিছু নেই- এটা কিছু না। আমাদের মধ্যে ভাল আলোচনা হয়েছে।

এবং সবশেষেঃ

মোমেনের  দাবি কেবল পূর্ব নয়, পশ্চিমা দুনিয়া, কাছের এবং দূরের সবার সঙ্গেই বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে চলেছে।

One response to “মোমেনের ১০০দিনঃজার্মানি, আমিরাতের সঙ্গে ৫টি চুক্তি সহ অর্থনৈতিক কূটনীতিতে বৈশ্বিক হাওয়া তুঙ্গে”







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!