আপডেট ৪৯ min আগে ঢাকা, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ মুক্তমত

Share Button

নাওয়ারের স্মৃতি শুধু কাঁদায়:চাচা ইরফান সাগর

| ১৫:২৭, মে ১, ২০১৯

কান্না ভরা চোখ,আবেগ ভরা মন নিয়ে লিখতে বসলাম কিছু স্মৃতি মরণের আগ পর্যন্ত ভুলা যায়না।যেমন চার বছরের আমার আদরের পাখি যাকে সবসময় পিঠে নিয়ে দিন কাটাতাম।সে নাওয়ার,,,সবসময় নাওয়ারকে পাপ্পা বলে ডাকতাম!

আমি কোথাও থেকে আসলে বাড়িতে ঢুকার আগে মার কণ্ঠ শুনার সাথে সাথে কেও আর রাখতে পারতনা দৌড়ে চলে আসে আমার কোলে!শুধু এইটা না, নাওয়ারের মত শিশুদের সাথে যখন উঠানে খেলে আমাকে দেখলে খেলা ফেলে চলে আসতো আমার কোলে।তখন অন্য শিশুদের খেলা ভেঙ্গে যেত অন্য শিশুরা কষ্ট পেত।তখন নাওয়ারকে বলতাম পাপ্পা তুমি চলে আসতেছ এই জন্য তোমার বন্ধুরা কষ্ট পাচ্ছে দেখনা,যাওনা খেল ওদের সাথে,,না না না বলে চিৎকার দিত।সেই কত স্মৃতি আমাকে তিলে তিলে কষ্ট দিচ্ছে।বিদেশে যাওয়ার আগে আমার নানী যখন অসুস্থ হয়ে কক্সবাজার আলফুয়াদে ভর্তি ছিল,আজিজা ভাবী নানীকে অনেক সেবা করছিল,প্রায় নানীর পাশে থাকতো।তখন নাওয়ারকে তেমন নিয়ে যেতনা হাসপাতালে।আমি হঠাৎ একদিন নানীকে দেখতে গেলাম হাসপাতালে, ঐদিন নানীর কাছ থেকে আমি যাওয়ার একটু আগে ভাবী বাসায় চলে গেছে ভাত নিয়ে আসার জন্য।আমি পৌঁছার পর দেখতেছি ভাবী নাই ।তখন ভাবীকে ফোন দিলাম ভাবী বললো আমি এইমাত্র চলে আসলাম তুমি থাক আমি এখন আসতেছি,আমি মোবাইলে কথা বলতেছি সেটা শুনে নাওয়ার, পাপ্পার কাছে যাব পাপ্পার কাছে যাব,বলে বলে চিল্লাচ্ছে।তখন ভাবী আমাকে ফোন দিয়ে নাওয়ারকে ধরা দিল, নাওয়ার আমাকে বললো পাপ্পা তুমি কক্সবাজার আসছো?আমি বল্লাম হে পাপ্পা,নাওয়ার বল্লো আমি আসতেছি,আমি বল্লাম ঠিক আছে আস!
যখন বসল আমাকে পেয়ে আর কুল থেকে নামেনা।এইটা হচ্ছে আমার নাওয়ারের শেষ সাক্ষাত।আমি নাওয়ারের পাশে থাকলে এমনে এমনে কোলে নিয়ে বসে থাকতে হতো,,,এই সময় বিদেশে নাওয়ারের সাথে আমি পাশে থাকলে হয়তো এই এক্সিডেন্ট টা হতনা। এইসব এখন শুধু কষ্ট  স্মৃতি।

সোহাগ করে কেউ ডাকতো আদর,কেউ,ডাকত গুড্ডু,কেউ ডাকতো সোনামনি,কেউ ডাকতো পাপ্পা। আমার এই আদর ছিল আমার জন্য বেচে থাকার অস্তিত্ব। আমাকে কাছে পেলে সে,আর কাউকে খোঁজতনা।ওকে ছাড়া আমি কোথাও যেতে পারতামনা,ইভেন কি ভাতরুমে ঢুকার সময় আদরকে সাথে ঢুকাতে হত,আমি কোথাও চলে যাব বলে।যেখানে যাইনা কেন তাকে নিয়ে যেতে হত।আমার প্রায় বন্ধুরা এবং যে মানুষের সাথে আমার পরিচয় আছে তারা বলতো, তুর ভাতিজা তুর কাছে তাকে দেখতেছি সব সময়,আমি বলতাম হুম। আমি বলতাম, আমার ভাই ওকে ছাড়া কোথাও গেলে ভাল লাগেনা।থাকে সবাই এত আদর করতো যা বলার বাহীরে।আমার নাওয়ার কলিজাকে নিয়ে চুল চাট্টে গিয়েছিলাম টেকনাফের নাম করা সেলুনে।নাওয়ারের চুল কাটার সময় সেলুনের মালিক তার কথা শুনে টাকা নেয় নাই জোর করার পরও নেয় নাই উল্টা আরও চিপ নিয়ে দিয়েছে অনেক আদর করছে।সেইদিন চুল ছাটা শেষ করে টেকনাফের একটা ফার্মেসীতে গেছি। সেখানে দুইটা হুজুর বসা, নাওয়ার যখন আমার সাথে কথা বলতেছে, তখন হুজুরেরা থাকিয়ে আছে, আমাকে হুজুরেরা বলতেছে,বাবা এইটা কি অাপনার বাচ্ছা আমি বল্লাম অামার ভাতিজা।তারপরে হুজুর বললো দেখেন এই বাচ্ছাটাকে কারো সামনে কথা বলা দিওনা,আমি বল্লাম কেন হুজুর??হুজুর বললো বাচ্ছাটার সকল নিয়ে কথা নিয়ে অনেক ডিপারেন্স হয়ে যাই।অামার নাওয়ার এইরকম ছিলো।প্রতিদিন একবার হলেও বাইক নিয়ে ঘুরাই আনতে হতো,আমি যেদিন একটু বেজি থাকতাম আমাকে বলতো পাপ্পা চলোনা একটু ঘুরে আসি,আমি বলতাম পাপ্পা দোকানে বসার জন্য কেউ নায়। যাও দাদুমনীকে ডেকে নিয়ে আস।এইটা বলার সাথে সাথে দৌড়ে গিয়ে তার দাদুর হাত দরে টেনে টেনে নিয়ে আসে বলে দাদু তুমি একটু বস আমি আর পাপ্পা ঘুরতে যাব।নাওয়ারের কথা গুলিতে এত মিষ্টি ছিল তা ভুলবো কি করে বুঝতে পারতেছিনা।অ পাপ্পা তুমি মরার আগে মরণটা অামার কেন হল না??অ বাপ তুর এই চার বছরের কাহিনী গুলি লিখতে গিয়ে আবেগ কান্নায় পুরা মোবাইলটা বেজে যাচ্ছে!এই অল্প দিনের জন্য কেন আমাদেরকে এত মায়া ভালবাসা দিয়ে,তাও শেষ পর্যন্ত বিদেশের মাঠিতে তুর মরণ হল??তুর মরণের সময় অন্তত একটু পাশে থাকলে মনকে বুঝাইতে পারতাম।অ বাপ আমাদেরকে জিন্দা লাশ বানায় চলে গেলি।পাপ্পা তোমার জন্মদাতা পিতাও একবার তোমাকে দেখতে পেলনা,এই কেমন নিয়তি আল্লাহ।এমন কেন হলো আমার কলিজার টুকরাটার কি দোষ করছিল নিষ্পাপ শিশুটির আল্লাহ।কি পাপ করছিল শেই।এমন ভাবে সাজানো গুছানো দিয়ে হঠাৎ আবার নিয়ে গেলে কেন??এই শোক কিভাবে কাটিয়ে উঠবে জানিনা।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter

UserOnline



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!