আপডেট ৩৬ min আগে ঢাকা, ২৬শে মে, ২০১৯ ইং, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০শে রমযান, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ ইমিগ্রেশন

Share Button

যেভাবে মাল্টার ভিসা জালিয়াতি হচ্ছে

| ১৭:০৪, মে ৫, ২০১৯

বিশেষ রিপোর্ট । মাল্টার ভিসা একশোভাগ নিশ্চিতের গ্যারান্টি দিয়ে প্রতারক চক্র হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। আপনাকে ওরা মাল্টা অ্যাঁম্বেসিতে ভিএফএস এর মাধ্যমে ফিঙ্গার প্রিন্ট সহ সব ব্যবস্থা আপনি নিজে জমা দিবেন। এমনকি ভিসাও যথারীতি অ্যাম্বাসির ভিএফএস থেকে নিজে গিয়ে নিয়ম মোতাবেক টুকেন দেখিয়ে কালেক্ট করবেন। অথচ সেই ভিসা জাল, যা আপনি বুঝতেও পারবেননা। বুঝতে পারবেম যখন ফ্লাই করার জন্য ইমিগ্রেশনের কাউন্টারে যাবেন, তখন। কিন্তু ততোক্ষনে আপনার পকেট থেকে ১২ লক্ষ টাকা চলে গেছে প্রতারকদের পকেটে।

ঘটনাঃ
আমার এক পরিচিত ছেলে। শুনলাম সে মাল্টায় যাচ্ছে। খুব ভাল খবর। কিন্তু আমার বিশ্বাস হলো না। যোগ্যতা অনুযায়ী ম্যাচ করাতে পাড়লাম না তাকে। তবে পরে জানতে পাড়লাম টাকার বিনিময়ে সে যাচ্ছে। টাকা দিলে যেখানে সবই সম্ভব সেখানে ভিসা হয়ত হতেও পারে!!

তবে যেই মাল্টায় মানুষ গুলো এত সভ্য দেখলাম এখন তারাও আমাদের মত হয়ে গেল, টাকা খেয়ে ভিসা দেয় !!

যাইহোক ছেলেটি চলে গেল দিল্লি। কারন ভিসা নাকি সেখান থেকেই করতে হবে। সেখানে তার সকল কাগজপত্র আছে। তারমধ্যে উল্লেখ্য মাল্টায় থেকে তার জন্য ওয়ার্ক পারমিট ডকুমেন্ট এসেছে। এই সকল ডকুমেন্ট একত্রিত করে সে সয়ং নিজে দিল্লি ভিএফএস এ পাসপোর্ট জমা দিয়েছে। ফিঙ্গার প্রিন্ট, ছবি তোলা থেকে শুরু করে সকল কার্যক্রম দিল্লির vfs করেছে। জমা শেষে তাকে প্রিন্ট দিয়ে ভিসা ট্রাকিং নম্বর পর্যন্ত প্রদান করেছিল। এই সকল কার্যক্রমে কোন প্রকার ভুয়া আপনি মোটেও বলতে পারবেন না। ছেলেটি একমাস দিল্লি হোটেলে থাকলো। কত আশা কত স্বপ্ন। একমাস পর ম্যাসেজ আসলো vfs থেকে, তার পাসপোর্ট ডেলিভারি নেওয়ার জন্য।

নিজে vfs যেয়ে ইন্ট্যেক্ট খাম খুলে দেখলো পাসপোর্ট এ এক বছরের ওয়ার্ক পারনিট ভিসা লাগানো। মহা খুশি সে। আমাকে বলে- ভিসা পেয়ে গেছি ভাই। আমার বিশ্বাস কিছুটা বাড়তে থাকলো। ইমোতে ভিডিও কলে ভিএফএস জমা দেওয়ার দৃশ্য আমাকে দেখিয়েছিল সে আর এখন সেখান থেকেই ভিসা। যাইহোক সব টাকা পেমেন্ট করে দেশে এসেছেন। তাকে সেখান থেকে ওয়ার্ক পারমিট কাগজ দিয়ে দিয়েছে যা নাকি এয়ারপোর্টে লাগবে।

ছেলেটি দেশে খুশির সাথে শপিং শুরু করলো, ডলার কিনলো, টিকিট কাটলো। দিল্লিতে একমাস হোটেলে থাকা, প্লেন টিকিট ও অন্যান্য খরচে তার বহু লাখ টাকা আরও লাগলো। সংসারের কষ্টের টাকা খরচ করে শেষ পর্যন্ত একটা উপায় হলো।

পরিবার থেকে বিদায় নিয়ে এয়ারপোর্ট গেলো। এয়ারলাইন্সে পাসপোর্ট জমা দিতেই তারা বলে উঠলো এই ভিসা কোথা থেকে পেয়েছেন? এটিতো ভুয়া ভিসা।

ছেলেটির খুব আত্মবিশ্বাস। সে মানতে রাজি না। তর্ক শুরু করে চ্যালেঞ্জ করলো। এয়ারলাইন্স পাসপোর্ট নিয়ে ইমেগ্রেশনে গেলেন। সেখান থেকেও একই নিউজ আসলো। তারা তাকে এয়ারপোর্ট থেকে বেড় হয়ে যাওয়ার অনুরোধ করলো কিন্তু তিনি রাজি না হওয়াতে তাকে পুলিশ দ্বারা ধরে দেওয়া হলো।

যাইহোক সে জামিনে ফিরে আসলো। সে এখনো কনফিডেন্ট যে তার ভিসা জেনুইন এবং দালাল বলেছে সে যেতে পারবে।

সেই এখন তার পাসপোট চেক করার জন্য দিল্লী মাল্টা এ্যাম্বেসীতে গেল তারা বলল এই ভিসা তারা ইস্যু করে নি

এভাবে প্রতিনিয়ত মানুষ প্রতারিত হচ্ছে এই ভিসা করতে যেয়ে। আমার ফেবুতে অনেকেই আছে যাদের পরিচিত জন অনেকে টাকা হারিয়েছে। আমার আজ লেখার একটাই উদ্দেশ্য মানুষ যেন প্রতারিত আর না হয় এবং আর যেন কোন বাবার কষ্টের টাকা পানিতে না ডুবে। জনকল্যাণে আশাকরি শেয়ার করবেন।

পরামর্শঃ

কেউ যদি ১০০% ভিসা করে দিতে পারবে বলে তাদের থেকে দুরে থাকুন এবং ভিএফএস থেকে ভিসা গ্রহণের পর এ্যাম্বেসী থেকে এপয়ন্টম্যান্টের তারিখ নিয়ে ঐ ভিসা ইস্যু করা হয়েছে কিনা তার সত্যতা নিশ্চিত করুন তারপর অর্থ লেনদেন করুন । কেননা ভিএফএস এর অসৎ কর্মকতাকে হাত করে দালালরা এসব ভূয়া ভিসা গুলো করতেছে। অাপনার ওয়াক পারমিট কোম্পানিতে ইমেইল করে চেক করুন এবং সত্যতা নিশ্চিত করুন।
এই প্রতারক ১৮ জন বাঙালির সাথে প্রতারণা করেছে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে

দালাল নামঃ- ফারুক মন্ডল।
বাড়িঃ-মুর্শিদাবাদ জলঙ্গী।
এখন পলাতক আছে

 

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!