আপডেট ২ ঘন্টা আগে ঢাকা, ২০শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ জাতীয়

Share Button

সাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা শুরু আজ

| ০৬:১৮, মে ২০, ২০১৯

আজ ২০ মে থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। আগামি ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। ইলিশের জাটকা নিধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সফলতাকে অনুসরণ করে বঙ্গোপসাগরে মৎস্যসহ মূল্যবান প্রাণিজ সম্পদের ভান্ডারের সুরক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি চিংড়ি, কাঁকড়ার মতো ক্রাস্টেশান (কঠিন খোলসযুক্ত সামুদ্রিক প্রাণী) আহরণ ও থাকবে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায়।
ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়। শুধু বঙ্গোপসাগর নয় বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া এবং মহেশখালী, ইনানীর রেজু খালের মোহনাও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। ফলে উল্লিখিত এলাকাগুলোতে কোন ট্রলার কিংবা দাঁড়বাহী নৌকা মাছ ধরতে গেলেই আইনি সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।
আজ নিষেধাজ্ঞা শুরু হলেও শুরুতেই কঠোর অবস্থানে যাবে না প্রশাসন। জেলার বিভিন্ন ঘাটে গিয়ে মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারা চালাবেন সচেতনতামূলক অভিযান। এতে সফলতা না এলে নেয়া হবে কঠোর পদক্ষেপ। নৌ-বাহিনী এবং কোস্টগার্ড সদস্যদের সহায়তায় মাঝ সাগরেও পরিচালনা করা হবে অভিযান। পাশাপাশি পরিচালনা করা হবে ভ্রাম্যমাণ আদালত। যার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞাকালে বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণে যাওয়া ট্রলারগুলো জব্দ করা ছাড়াও মাঝি-মাল্লাদের প্রেরণ করা হবে কারাগারে।
কক্সবাজার মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত মে মাসের শেষের দিক থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে বিচরণরত মাছসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণির প্রজননকাল। ইতঃপূর্বে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিচালিত গবেষণায় বিষয়টি উঠে আসে। এই কারণেই সাগরের মৎস্যসহ বিভিন্ন মূল্যবান প্রাণিজ সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি ভা-ার বৃদ্ধিতে দীর্ঘসময় মাছ আহরণের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।
অদূর ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণের উপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদকাল ৬ মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণের পেশায় নিয়োজিত মাঝি-মাল্লারা বছরে ৬ মাস মাছ ধরতে পারবেন। তবে মাঝি-মাল্লারা নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
মৎস্য সম্পদের ভা-ার রক্ষায় সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও বিপরীত অবস্থানে রয়েছেন মাছ ব্যবসার সাথে সম্পৃক্তরা। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এতে করে দেশের সামুদ্রিক সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশের ট্রলার সাগরে যেতে না পারলেও মৎস্য সম্পদ রক্ষা করা যাবে না। কারণ, পাশর্^বর্তী রাষ্ট্র মায়ানমার, ভারত, থাইল্যান্ড এবং শ্রীলংকার ট্রলারগুলো বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করে এদেশের মৎস্য সম্পদ লুট করে নিয়ে যাবে। যা সরকারের পক্ষে রোধ করা সম্ভব হবে না। এ কারণে এই নিষেধাজ্ঞা শুধু বাংলাদেশের মৎস্য ব্যবসায়ীসহ এর সাথে সম্পৃক্ত মাঝি-মাল্লা থেকে শুরু করে অন্যদের ক্ষতির কারণ হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস.এম. খালেকুজ্জামান বলেন, ইলিশের জাটকা নিধনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর যেভাবে সফলতা এসেছে। এই ৬৫ দিনের অভিযানেও সেভাবেই সফলতা আসবে। প্রয়োজনে নৌ-বাহিনী এবং কোস্টগার্ডের সহায়তায় মাঝ সাগরে অভিযান পরিচালনা করে সফলতা নিশ্চিত করা হবে।
কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ বলেন, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দুটি দিকই রয়েছে। সাধারণত এই সময়ে সাগরে ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা থাকে। যাতে মাছ আহরণরত ট্রলারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু এই পেশার সাথে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জেলার ১০ লাখ মানুষ সম্পৃক্ত। দীর্ঘদিন মাছ আহরণ বন্ধ থাকলে তাঁদের বিকল্প পেশা বেছে নিতে হবে। হঠাৎ করে যা সম্ভব নয়। ইতঃপূর্বে বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণ করা অবস্থায় শ্রীলঙ্কা, ভারত, মায়ানমার এবং থাইল্যান্ডের ট্রলার জব্দ করা হয়েছিলো। ফলে দেশগুলোর মাছ ব্যবসায়ীরা যে আমাদের মৎস্য ভা-ারে হানা দেবে না তার কোন নিশ্চয়তা নেই। এটি প্রতিরোধ করা না গেলে এই নিষেধাজ্ঞার কোন মূল্য নেই। এদিকে, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানিয়ে দিতে জেলাব্যাপী ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে জেলা মৎস্য অফিস। গত দুই দিন ধরে চালানো হচ্ছে মাইকিং। পাশাপাশি বিলি করা হচ্ছে গেজেটের ফটোস্ট্যাট কপি। যাতে মাঝি-মাল্লাসহ বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণে নিয়োজিতরা নিষেধাজ্ঞার খবর জানতে পারেন।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে গত ১২ মে জরুরী বৈঠক করে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা ছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় যে কোন ভাবে বঙ্গোপসাগরে মৎস্যসহ প্রাণিজ সম্পদ রক্ষায় সরকারের সিদ্ধান্ত কার্যকরে পদক্ষেপ গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার ফলে মাঝি-মাল্লারা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন সে ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হচ্ছে পদক্ষেপ। বর্তমানে কক্সবাজার জেলার প্রায় সাড়ে ৪৮ হাজার জেলে মৎস্য অফিস কর্তৃক নিবন্ধিত। ইতোমধ্যে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে তাদের তালিকা পাঠানো হয়েছে। যাতে তাদের সরকার প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়। শীঘ্রই জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনাক্রমে উল্লিখিতদের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার জেলেকে দেয়া হবে ভিজিএফ কার্ড। যে কার্ডের সাহায্যে বিনামূল্যে রেশনিং সুবিধা পাবেন তারা।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!