আপডেট ৩১ min আগে ঢাকা, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ জাতীয়

Share Button

লন্ডন নিউজ রাউন্ডঃফারাজের বাজিমাত, ইইউ পার্লামেন্ট আর ব্রেক্সিট ড্রামা,ক্রাইসিস

| ০৩:১৭, মে ২৯, ২০১৯

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ। লন্ডন নিউজ রাউন্ড।চ্যানেল এইট।লন্ডন টাইমস। সম্প্রতি অনুষ্টিত হয়ে গেলো  ইউরোপিয় পার্লামেন্ট নির্বাচন। ব্রেক্সিট ইস্যুতে এই নির্বাচন ব্রিটেন এবং ইউরোপের জন্য ছিলো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তার উপর নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার ঠিক আগ মুহুর্তে কনজারভেটিভ নেতা টেরেজা মে দলনেতা এবং প্রধান মন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেয়ার ঘোষণা দেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠিত নাইজেল ফারাজের ব্রেক্সিট পার্টি নির্বাচনে ভুমিকম্প ঘটিয়ে দেয় বিশেষ করে লেবার এবং ক্ষমতাসীণ কনজারভেটিভ দলের জন্য।

নাইজেল ফারাজ ব্রেক্সিটের নায়ক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিলেন ব্রিটেনে। তার সাথে ভিন্ন রাজনৈতিক পলিসির মাধ্যমে কনজারভেটিভ দলের বরিস জনসন সহ বেশ কয়েকজন তারকা নেতা মিলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্রেক্সিটের জন্য ক্যাম্পেইন করেছিলেন। এমনকি ২০১৬ সালের গণভোটের সময়ে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের ক্যারিশম্যাটিক লিডারশিপের বিপরীতে ব্রেক্সিট ইস্যুতে সত্য মিথ্যার মিথ মিশিয়ে ব্রিটেনে সমুদ্রের ফেনার ন্যায়  বুদ বুদের মতো জনমতকে প্রভাবিত করে ৫২% এর অধিক জনগনকে ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট টানতে সক্ষম হয়েছিলেন। গণভোটের ফলে ক্যামেরন পদত্যাগ করলে ক্ষমতায় আসেন টেরেজা মে। টেরেজা যখন ক্ষমতায় আসেন তখন জনপ্রিয়তায় টেরেজা এবং টোরি তুঙ্গে।

This diagram shows where the Brexit Party had their strongest results and where Labour and the Tories struggled the most

কিন্তু ব্রেক্সিট ইস্যুতে টেরেজা মে টোরি পার্টি, বিরোধীদল লেবার ব্রিটিশ জনগনকে পরিষ্কার দিক নির্দেশনা দিতে অথবা গণভোটের ফলাফলের প্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট সময়ে ব্রেক্সিট ডেলিভারি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ইতোমধ্যে টেরেজা মে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু ব্রেক্সিট নায়ক নাইজেল ফারাজ মাত্র দুই মাসের কম বয়সী ব্রেক্সিত পার্টিকে ইউরোপিয় পার্লামেন্টের  ইলেকশনে ল্যান্ডসলাইড ভিক্টোরি দিয়ে তাক লাঘিয়ে দিয়েছেন। ফারাজের ব্রেক্সিট পার্টি টোরি ও লেবার দলকে পেছনে ফেলে প্রায় ৩২% ভোট পেয়েছেন। ইইউ পার্লামেন্ট নির্বাচনে সব চাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দল তারা মাত্র ৯.১% ভোট লাভ করেছে। আর লেবার পেয়েছে ১৪.১% এই উভয় দলকে পেছনে ফেলে লিবডেম লাভ করেছে ২০.৩% ভোট। গ্রিন পার্টি কনজারভেটিভদের টপকিয়ে ১২.১% ভোট লাভ করেছে।

ইইউ পার্লামেন্ট নির্বাচনে ফারাজ তার বিজয়ী ২৯ এমইপিকে নিয়ে ব্রেক্সিট করার জন্য এখন আগের চেয়ে আরো মারমুখি। ফারাজ চান যেকোনভাবেই ইইউ থেকে বেরিয়ে যেতে। ইইউ পার্লামেন্ট নির্বাচনের ফলাফল লেবার এবং টোরিদের জন্য এক নেতিবাচক সিগন্যাল দিয়েছে।তবে ফারাজ তার ২৯ এমইপিদের নিয়ে কোন বাজিমাত করতে চাইলে সেক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে দ্বিতীয় স্থানে থাকা লিবডেম। লিবডেম চায় দ্বিতীয় গণভোটের মাধ্যমে জনগনের ক্লিয়ার মতামত নিতে। ইইউ পার্লামেন্ট নির্বাচনের ফলাফলের ভরাডুবির পর জেরেমি করবিনও এখন পিপলস ভোটের সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। সাবেক প্রাইম মিনিস্টার টনি ব্লেয়ারও করবিনকে দ্বিতীয় রেফারেন্ডামের সমর্থনের জন্য বলেছেন।

এদিকে টোরি পার্টির লিডারশিপ দৌড়ে এ পর্যন্ত যারা প্রার্থীতার কথা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যেও রয়েছে বিস্তর ব্যবধান। জনসন যেকোনভাবেই চান ব্রেক্সিট এমনকি প্রয়োজনে চুক্তি ছাড়াই। যা অন্যান্য সকল প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে জনসনের এই নীতির প্রচন্ড বিরোধীতা। র‍্যাব চান ডব্লিঊ টি ও স্টাইলে নিউ ডাইরেকশন। সাজিদ ও হান্ট এখনো নেগোসিয়েশনের পক্ষে।

নাইজেল ফারাজ তার ব্রেক্সিট পার্টি নিয়ে বাজিমাত করে ফেলেছেন। টোরি আর লেবারের চেয়েও ভোট বেশী পেয়ে ইইউ পার্লামেন্ট ইলেকশনে প্রথম কাতারে চলে এসেছেন। তারপরেই আছে লিবডেম। ফারাজের ব্রেক্সিট পার্টির জন্য চেক এন্ড ব্যালেন্স হিসেবে লিবডেম থাকলেও ভোটারদের বার্তা হ্নদয়ঙ্গম করতে টোরি আর লেবার এখনো হিমিশিম খাচ্ছে। তারউ্রপর টোরি লিডারশিপ দৌড়ে তারকা নেতারাও ব্রেক্সিট ইস্যুতে এখন পর্যন্ত নেই কোন ক্লিয়ার ভিশন। জনসন চুক্তি ছাড়া হলেও ব্রেক্সিট চাইলেও অন্যরা এর প্রচন্ড বিরোধী। এ নিয়ে আমাদের আয়োজন লন্ডন নিউজ রাউন্ড-গ্রন্থনা, পরিকল্পনা ও উপস্থাপনায়ঃ সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদএকটি চ্যানেল এইটের যৌথ প্রয়াস

Posted by London Times-Salim Ahmed on Tuesday, 28 May 2019

ইউরোপিয় পার্লামেন্ট ইলেকশনের ফলাফলে দলগুলোর কাছে জনগনের যে বার্তা সেই বার্তা দলগুলো আত্মস্থ করতে এখন হিমিশিম খাচ্ছে। ব্রেক্সিট কোন পথে হবে, কেমন করে হবে, কিভাবে হবে-তা এখনো কোন দলের কোন নেতৃত্বের কাছে নেই কোন ক্লিয়ার ভিশন, নেই কোন ক্লিয়ার পরিকল্পনা। ব্রেক্সিট অনেকেই চান, আবার অনেকে আবার ইইউ মধ্যে থাকতে চান। এ নিয়ে রয়েছে নানা মত, নানা গবেষণার ফলাফল, যা  গণভোটের আগে তেমনটা সামনে আসেনি। ব্রেক্সিট নিয়ে জাতি এখন পরিষ্কারভাবে বিভক্ত। ৩২% ব্রেক্সিটের বিপরীতে এখন ৪০% রিমেইনের পক্ষে। এই আনুপাতিকহার আর পারদের মাত্রার ন্যায় প্রতিনিয়ত উঠা নামা করে। এনএইচএস, মেডিসিন, আম্বুল্যান্স সেবা, ইমিগ্রেশন, ইউরোপিয় কোর্ট অব জাস্টিস,সন্ত্রাস দমন ও নিরাপত্তা এসব ইস্যু যখন সামনে আসে, গবেষণার পর গবেষণার রিপোর্ত যখনই প্রকাশিত হয়, তখনই জনমত তাতক্ষনিকভাবে উঠা নামা করে। সেজন্যে রাজনীতিবিদেরাও পারদের মাত্রার ন্যায় এদিক সেদিক উঠা নামা করছেন।এই অবস্থা হয়তো আরো কিছুকাল ব্রিটেনের রাজনীতিতে সমুদ্রের ফেনার ন্যায় বুদ বুদ আকারে থাকবে, এমনকি ব্রেক্সিট ডেলিভারি হউক বা না হউক।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter

UserOnline



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!