আপডেট ২ ঘন্টা আগে ঢাকা, ২২শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৭ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ খেলা স্লাইড

Share Button

ইংল্যান্ডের রানের কাছে বিধ্বস্ত বাংলাদেশঃভরসা সাকিবের সেঞ্চুরি

| ২২:৩৬, জুন ৮, ২০১৯

ইশতিয়াক পারভেজ, কার্ডিক থেকে | ৯ জুন ২০১৯, রোববার |কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনের সৌভাগ্য কি তাহলে আড়ি নিলো বাংলাদেশের সঙ্গে! প্রশ্নটা আসতেই পারে। ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে হার দিয়ে এই মাঠে অপরাজিত থাকার রেকর্ডটা ছিন্ন হয় টাইগারদের। আর গতকাল ইংল্যান্ডের কাছে টাইগাররা করেছে ব্যাটে বলে অসহায় আত্মসমর্পণ। আগে ব্যাটিংয়ে টাইগার বোলারদের হাতুড়িপেটা করে ৩৮৭ রানে টার্গেট ছুড়ে দেয় ইংল্যান্ড। জবাবে ২৮০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ফল ১০৬ রানের বড় ব্যবধানে হার। আগের দিন কার্ডিফের আকাশে বৃষ্টির আনাগোনা দেখে ধারণাই করা যায়নি মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচ। কিন্তু গতকাল ম্যাচের দিন সকালে সূর্যের সে কি হাসি! যেন সোফিয়া গার্ডেনের ঘাসে সূর্যের আলো গড়াগড়ি খাচ্ছে।

তবে সেই আলোর কিরণ যে শুধু ইংলিশদের জন্যই শেষ পর্যন্ত ঝলমল করলো। করবে না কেন? উইকেট পড়তে যে ভুল করেছেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি! একদিন উইকেট ঢাকা ছিল বৃষ্টির কারণে। সেই সঙ্গে ঘাসের সবুজ আভা বলে দিচ্ছিল দিনটি পেসারদের জন্য। তাই আগেই সুবিধা নিতে ইংলিশদের ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানালেন তিনি। হলো কিন্তু বুমেরাং তা স্কোর বোর্ডে তাকালেই ষ্পষ্ট। কিন্তু ব্যাটিং করতে নেমে টাইগারদের কঙ্কালটাই যেন বেড়িয়ে এল। গোটা ম্যাচে প্রাপ্তি খুঁজতে হয়। কারণ আরো ৬টি ম্যাচের জন্য অন্তত সান্ত¡না তো প্রয়োজন। সেটি আর কি হবে সাকিব আল হাসানের প্রথম বিশ্বকাপ সেঞ্চুরি ছাড়া !

টস সিদ্ধান্তের ভুলের খেসারত, ছন্দহীন বোলিং আর বাজে ফিল্ডিং সব ইংল্যান্ডের উপহার দেয়া ৩৮৭ রানের লক্ষ্যে। আতাহার আলী খানের মতে রানের বোঝা। আর সৌরভ গাঙ্গুলী বললেন, ‘রান বেশি হয়ে গেছেরে! তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সাকিব আছে তো, আজ যেভাবে লড়াই করলো। দারুণ সেঞ্চুরি।’ হ্যাঁ, সাকিবই মান বাঁচিয়েছেন। তার আগে ০ তেই বিদায় নিয়েছেন আয়ারল্যান্ড সিরিজ থেকে দারুণ খেলতে থাকা সৌম্য সরকার। তামিমও যেন ছন্দে নেই, তাই এদিনও মাত্র ১৯ রান। তবে সৌম্যের বিদায়ের পর থেকে দলকে টানা শুরু করলেন সাকিব। কিছুটা সঙ্গ দিলেন মুশফিকুর রহীম। কিন্তু এদিনও দারুণ শুরুটা শেষ হল বাজেভাবে। মুশফিকুর রহীম আউট হলেন ফিফটি থেকে মাত্র ৬ রান দূরে। ৫০ বলে করেছেন ৪৪ রান। সেই সঙ্গে ভাঙে তৃতীয় উইকেটে ১০৬ রানের জুটি। এরপরতো শুধু আসা যাওয়ার মিছিল। সঙ্গ দিতে এসে মোহাম্মদ মিঠুন টানা তৃতীয় ম্যাচেও ব্যর্থ। এদিনতো নিজের নামের পাশে কোনো রানই যোগ করতে পারলেন না। তবে সাকিব তখনো ক্রিজে অবিচল। হয়তো বুঝতে পারছিলেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ সেঞ্চুরি পেতে হলে ব্যাট হাতে ঝড় তুলতে হবে। হ্যাঁ, সাকিব ঝড়ের বেগেই সেঞ্চুরি করলেন। ৯৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সাকিব। বিশ্বকাপে দ্বিতীয় বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরির কৃতিত্ব দেখালেন সাকিব। ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশের এটি দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ২০১ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সাকিবের এটি অষ্টম সেঞ্চুরি। তার বিদায়ের পর ক্রিজে সংগ্রাম করতে দেখা গেছে বাকিদের। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ ২৮ আর মোসাদ্দেক করেন ২৬ রান। ব্যক্তিগত ১২ রানে বিদায় নেন মিরাজ। আর এগারো নম্বর ব্যাটসম্যান মোস্তাফিজ ইংলিশ পেসার বেন স্টোকসের ডেলিভারিতে পরিষ্কার বোল্ড হলে ৭ বল বাকি থাকতেই মুখ থুবড়ে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস।

চলতি বিশ্বকাপে সর্বাধিক রান সংগ্রাহকের তালিকায় শীর্ষে সাকিব আল হাসান। তিন ম্যাচে ৮৬.৬৬ গড়ে সাকিবের সংগ্রহ ২৬০ রান। আসরে তিন ম্যাচে ৭১.৬৬ গড়ে ২১৫ রান নিয়ে সাকিবের পেছনে রয়েছেন ইংলিশ ওপেনার জেসন রয়।

বাংলাদেশ দল যখন হেরে মাঠ ছেড়ে বের হচ্ছিল তখনো মাথার উপর সূর্যের হাসি। সেই সঙ্গে টাইগার দর্শকরা একরাশ হতাশা নিয়ে গ্যালারি ছেড়ে যাওয়ার পর সোফিয়া গার্ডেন স্টেডিয়াম ফের দখল করে নেয় কার্ডিফ বে থেকে উড়ে আসা সাদা সিগালের দল। সৌভাগ্যের ভেন্যুকে বিদায় জানিয়ে আজই ব্রিস্টলের পথ ধরবে টাইগাররা। তবে টাইগারদের জন্য ভরসার বাণী দিয়েছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক বাঙালি দাদা সৌরভ গাঙ্গুলী। আবার করেছেন সতর্কও। তিনি বলেন, ‘ভেঙে পড়ার কিছুই নেই, এটাই ক্রিকেট। তবে সামনের ম্যাচগুলো বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে জিততে হলে এমন খেলা চলবে না।’

টাইগারদের নখদন্তহীন বোলিং
ইংলিশ দর্শকদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশের সমর্থকরা মাঠে এসেছিলেন দারুণ আশা নিয়ে। সোফিয়া গার্ডেন ভেন্যুতে প্রবেশের সময় থেকে ম্যাচ শুরুর আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ-বাংলাদেশ স্লোগানে গলা ফাটিয়েছেন টাইগারভক্তরা । কিন্তু টসে জিতে ফিল্ডিং নেয়া টাইগারদের হতাশ করা বোলিংয়ে অনেকেই গ্যালারি ছেড়ে বাইরে চলে যান। বার বার দর্শকরা বলছিলেন, ইশ! চারশ করবে আজ ইংল্যান্ড। কেউ বলছিলেন এমন বাজে ফিল্ডিং হচ্ছে! কেউ বলছিলেন, টসে জিতে ওদের ব্যাটিংয়ে পাঠানোই ভুল। আবার কারো কারো মন্তব্য বোলিংটাও হচ্ছে যাচ্ছে তাই! যদিও শেষ পর্যন্ত চারশ ছুঁতে পারেনি ইংল্যান্ডের ইনিংস।। তবে রেকর্ড রানের বোঝা টাইগারদের ঘাড়ে ঠিকই চাপিয়েছেন ইংলিশরা। ৬ উইকেট হারালেও স্কোর বোর্ডে জমা পড়ে ৩৮৬ রান। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এটিই। আর বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষেও এটি দলীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এর আগে ২০১১ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ৩৩৮ রান করেছিল ইংল্যান্ড। এখন বেশ পিছনেই। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। এর আগে ২০০৫এ তারা করেছিলো ৩৯১ রান। বোলারদের বিবর্ণ বোলিংয়ের সুযোগে জেসন রয় একাই করেছেন ১৫৩ রান। সেই সঙ্গে বেয়ারস্টো ও জস বাটলার ছুঁয়েছেন ফিফটি।

কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন স্টেডিয়ামে প্রবেশের পথেই বেশ কয়েকজন ইংলিশ দর্শক বললেন, ‘ইউরস লাকি গ্রাউন্ড।’ কেন সৌভাগ্যের মাঠ বলবে না তারা? এ মাঠেইতো প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল টাইগাররা। শুধু কি তাই? চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও এখানে বাংলাদেশের শিকার হয় নিউজিল্যান্ড। এমন মাঠে নামার আগে ইংলিশ অধিনায়ক এউইন মরগানের মধ্যেও ছিল ভয়-শঙ্কা। তাই ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশকে হুমকিই মনে করেছিলেন তিনি। তবে মনে মনে হয়তো অপেক্ষায় ছিলেন নিজেদের মাঠে সুযোগ পেলেই ২০১১, ২০১৫ বিশ্বকাপে হারের প্রতিশোধ নেয়ার। তার সেই সুযোগটা বেশ ভালভাবেই করে দেয় টাইগারদের নখদন্তহীন বোলিং। আর নিজ দেশের মাটিতে একেবারে হাতুড়িপেটা দেয়া বাংলাদেশ দলকে। মাঠে বাজে ফিল্ডিংও ছিল চোখে পড়ার মতো। যা সুযোগ করে দেয় ইংলিশ ব্যাটম্যানদের অবাদে রানের চাকা ঘুরিয়ে নেয়ার। বল হাতে পেয়ে সাকিব এদিন ছিলেন একেবারেই বিবর্ণ। ১০ ওভারে খরচ করেছেন ৭১ রান। ১০ ওভারে মাশরাফির শিকার এক উইকেট তাও ৬৮ রান খরচ করে। ৯ ওভারে ২ উইকেট পেলেও সাইফুদ্দিনও বেশ খরুচে ছিলেন। তিনি দিয়েছেন ৭৮ রান। সমান ওভারে একই রান খরচ করে এদিন একেবারেই ব্যর্থ দলের ‘তুরুপের তাস’ মোস্তাফিজুর রহমান। মিরাজ দুই উইকেট নিলেও খরচ করেন ৬৭ রান। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ বল করা মোসাদ্দেক বল হাতে নিয়ে মাত্র ২ ওভারে দেন ২৪ রান। এমন বোলিংয়ের সুযোগটা ভালভাবেই নিয়েছে ইংল্যান্ড।

যদিও টসে হেরেও ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পেয়ে ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল সাবধানী। বাংলাদেশের সঙ্গে যেন ঝুঁকি নিতেই চাইছিলেন না তারা। অধিনায়ক মাশরাফি শুরুতেই বল তুলে দিয়েছিলেন দলের অন্যতম অস্ত্র সাকিবের হাতে। প্রথম ওভার করেছেন তিনি। শুরুতে রয়কে খানিকটা ভুগিয়েছেন সাকিব। আরেক পাশে মাশরাফির শুরুটাও ভালো ছিল। দুই ওপেনার শুরুর সময়টা কাটিয়েছেন কোন রকম তাড়াহুড়ো না করে। যার ফলও পেয়েছেন তারা। তাদের দারুণ ব্যাটিংয়ে ১৫ ওভারে ইংল্যান্ড পেরিয়ে যায় ১০০ রানের কোঠা। ১৯ ওভারে ১২৮ রানের জুটি গড়েন তারা। তবে সেই জুটি ভাঙেন দ্বিতীয় স্পেলে বল হাতে ফেরা টাইগার অধিনায়ক। তার বলে ৫০ রান করা বেয়ারস্টো, শর্ট কাভারে ক্যাচ দিলে তা দারুণ ক্ষিপ্রতায় লুফে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে অন্য পাশে তখন তা-ব চালাতে শুরু করেছেন জেসন রয়। তার সঙ্গে দলের রানের সুরটা ভালভাবেই ধরেছিলেন জো রুট। কিন্তু ২৯ বলে ২১ রান করা রুটকে ফিরিয়ে দলে স্বস্তি ফেরান দারুণ বোলিং করতে থাকা সাইফউদ্দিন। তবে ততক্ষণে ২ উইকেট হারালেও ৩১.৩ ওভারেই ইংল্যান্ড স্কোর বোর্ডে ২০৫ রান তুলে ফেলেছে। এরপর থেকেই শুরু হয় ৪’শ’ ৪’শ রব। সেই দাবি আরো দিগুণ হয় যখন ৯২ বলে রয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ৭৯ ওয়ানডেতে তার নবম সেঞ্চুরি। এরপর হয়ে উঠেন আরো ভয়ঙ্কর। সাকিবকে টানা তিন বলে মারেন দুই চার এক ছক্কা। মিরাজকে টানা তিন ছক্কায় দেড়শ পেরিয়ে যান ১২০ বলে। টানা চতুর্থ ছক্কার চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত মিরাজকেই উইকেট দিয়ে আসেন রয়। তবে ইংল্যান্ডের রানের গতি ধরে রাখেন বাটলার। ব্যাটে ঝড় তুলে চতুর্থ উইকেটে বাটলার ও মরগান জুটিতে আসে ৬৫ বলে ৯৫ রান। তবে বাটলারকে ৬৪ রানে সাইফুদ্দিন ও ৩৫ রানে মরগানকে থামান মিরাজ। আশা ছিল কিছু কমেই থামানো। কিন্তু ওকস ৮ বলে ১৮ ও প্লাংকেট ৯ বলে ২৭ রানের ঝড় তুলে পৌঁছে যায় ৪’শর কাছাকাছি।

Comments are closed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!