আপডেট ৫ ঘন্টা আগে ঢাকা, ১৬ই জুন, ২০১৯ ইং, ২রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১২ই শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ গণমাধ্যম

Share Button

`প্লট অফ টেরর এ্যাক্ট ইন বাংলাদেশ এন্ড ইন্ডিয়া’-কে এই বহিস্কৃত সেনা অফিসার!

| ২১:৪৮, জুন ১১, ২০১৯

মতিয়ার চৌধুরীঃ জঙ্গি অর্থায়ন অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা ও অপকর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বৃটেনের জাতীয় দৈনিক সানডে টাইমস বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বহিস্কৃত সাবেক কর্নেল সহিদ উদ্দিন খানকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ‘‘টরি ডনার চার্য উইথ আর্মস ডিলিং এন্ড ফান্ডিং টেররিজম’’ শিরোনামে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে তার অর্থের উৎস এবং বৃটেনে অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

https://www.thetimes.co.uk/article/tory-donor-charged-with-arms-dealing-and-funding-terrorism-mqc5bt2td

প্রখ্যাত সাংবাদিক টম হ্যারপার তার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তুলে ধরেছেন মাত্র কয়েক বছর আগে ব্যবসায়িক ভিসায় বৃটেনে আসা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বহিস্কৃত এই কর্ণেল কিভাবে একটি রাজনৈতিক দলকে ২০হাজার পাউন্ড দান করে আর কেমন করে সাউথ ওয়েষ্ট লন্ডনের মতো জায়গায় মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে বাড়ী কিনে, এছাড়া কর্নেল সহিদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বেপরোয়া চলাফেরা নিয়েও আলোকপাত করেছেন। এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকুরিচ্যুত এই কর্ণেল সহিদের অবৈধ অস্ত্রব্যবসা ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি কানেকশনের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর কর্নেল সহিদ ও তার চালচলন নিয়ে চলছে নজরদারী। শুধূ সানডে টাইমসই নয় এই কর্নেল সহিদকে নিয়ে আরো কয়েকটি ব্রিটিশ গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ ও প্রতিবেদন প্রকাশের পর বৃটেনের ম্যালটি ক্যালচারাল সোসাইটিতে চলছে আলোচনা সমালোচনা। কে এই কর্ণেল সহিদ?

 


ব্রিটিশ সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী সংবাদ ও প্রতিবেদনে উঠে এসছে তার সম্পর্কে ভয়ংকর তথ্য। ব্রিটিশ মেইনষ্টীম পত্রিকার তথ্যমতে জানা যায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বহিস্কৃত এই সেনাকর্মকর্তার নাম মোহাম্মদ সহিদ উদ্দিন খান বাংলাদেশের ঠিকানা ঝালকাটি জেলায়, পরিবার পরিজন নিয়ে ব্যবসায়িক ভিসায় বৃটেনে অবস্থান করছেন। এই ব্যবসার অন্তরালে লন্ডনে বসে দেশের বিশিষ্টজনদের নামে চালাচ্ছেন অপপ্রচার সেই সাথে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাকিত একাধিক সন্ত্রসী গোষ্টীর সাথে রয়েছে তার ঘনিষ্ট যোগাযোগ। জানা যায় ২০০৫ সালের ৩১মার্চ কোর্টমার্শালের মাধ্যমে (এফজিসিএম) সেনা বাহিনী থেকে ২১টি অভিযোগে বহিস্কৃত হন। আর্মি এ্যাক্ট(বিএএ) তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত অনৈতিক চালচলন , মানি লন্ডারিং, রাষ্টের গোপনীয় তথ্য পাচার সন্ত্রাসবাদ সহ ২১টি অভিযোগে তাকে চাকুরী চ্যুত করে। ২০১৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তাকে একজন ভয়ংকর ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে আর্মি হেডকোয়াটার থেকে (পিএনজি করা হয়।) এবং কেন্টনমেন্ট এলাকায় তার প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। যেমনটি সচরাচর কোন অফিসারের ক্ষেত্রে হয়না। এছাড়া বাংলাদেশের সিভিল আদালতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর পর সবার চোঁখ ফাঁকি দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে পাড়ি জমান বৃটেনে, এদেশে ব্যবসায়িক ভিসা নিয়ে বসবাস করলেও তার চলাফেরা নিয়ে অনেকেই শংতিক। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বহিস্কৃত এই কর্মকর্তাকে নিয়ে বিশ্বের কয়েকটি দেশ থেকে একযোগে প্রকাশিত ব্লিজ ম্যাগাজিনে ‘‘টেরর পেট্রন বাংলাদেশী ম্যান অপারেইটিং ফরম বৃটেন শিরোনামে সাংবাদিক বিজেয়া লাস্কমী ত্রিপুরার একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সমগ্র বৃটেন জুড়ে তোলপাড় তাঁকে নিয়ে হেচৈ শুরু হয়। ২৬মে ২০১৯ সানডে টাইমসের ১২নং পৃষ্টায় প্রখাত বিটিশ সাংবাদিক টম হ্যারপারের অনুষন্ধানী প্রতিবেদ প্রকাশের পর নড়ে চরে বসেছে ব্রিটিশ প্রশাসন।

ব্লিজ ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে তাকে তাকে একজন ভয়ংকর ব্যাক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয় পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর চর বৃটেনে অবস্থান করে বাংলাদেশ ও ভারতে একটি ভয়ংকর হামলার পরিকল্পনা করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সন্ত্রাসীদের সাথে রয়েছে তার সম্পর্ক এবং লন্ডন থেকে বাংলাদেশের উগ্রগোষ্টী গুলোকে মদদ দিচ্ছে। এছাড়া এসব প্রতিবেদনে তাকে একজন আন্তর্জাতিক মুদ্রা পাচারকারী হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে। বৃটেনে তাকে নিয়ে অনেকই প্রশ্ন তুলেছেন একজন বহিস্কৃত সেনাকর্মকর্তা কিভাবে মিলিয়ন মিলিয় পাউন্ড অর্থের মালিক রয়েছে কযেক মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের একাধিক দামী বাড়ি। বাংলাদেশের সিভিল আদালতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়। যা এই প্রতিবেদনের সাথে সংযুক্ত করে দেয়া হলো। বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ, অর্থ আত্মসাত, জালিয়াতি সহ দেশের বিভিন্ন থানা ও আদালতে কয়েকটি মামলা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি মামলার বিবরন তুলে ধরা হলো সিআর কেইস নাম্বার ৪৪৬৬/২০০৯ তারিখ ৩০ডিসেম্বর ২০০৯ আন্ডার সেকশন ৪১৬,৪৬৭, ৪৭১ এবং ১০৯ এই মামলাটি চীফ মেট্রপলিটান ম্যজিষ্টেট কোর্টে চলমান, এছাড়া কেইস নং-১০ তারিখ ১৭ জানুয়ারী ২০১৯ এন্টি টেররিজম এক্টের অধীন ৬(২),৭১১,এবং ১২ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং ১১, ১৭জানুয়ারী ২০১৯, ২৫/এ ধারায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা হয়। এছাড়া ১৭ জানুয়ারী ২০১৯ মামলা নাং-১২ ধারা ১৯/এ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনে দায়ের করা হয়। এই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ পুলিশ খুঁজছে বলে জানা যায়। ব্লিজ পত্রিকায় ‘‘ প্লট অফ টেরর এ্যাক্ট ইন বাংলাদেশ এন্ড ইন্ডিয়া সাব হেডিং দিয়ে বলা হয় সহিদ উদ্দিন খান ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারী থেকে পাকিস্তানের একটি ইসলামিক জঙ্গি গোষ্টীর সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছেন, এই গ্রুপের সদস্যরা যে কোন সময় ভারত এবং বাংলাদেশে বড় ধরনের নাশকতা চালাতে পারে। পাকিস্থানী এই জঙ্গি গোষ্টীর বিপুল সংখ্যক সদস্য রয়েছে বাংলাদেশে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!