আপডেট ১ ঘন্টা আগে ঢাকা, ১৭ই জুলাই, ২০১৯ ইং, ২রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১২ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ জাতীয়

Share Button

“পশ্চিমবঙ্গে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনির প্রেক্ষিতে পিটুনিতে আতঙ্কে সংখ্যালঘুরা”(অডিও)

| ০০:০৯, জুলাই ৬, ২০১৯

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার নিতুড়িয়ায় ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি না দেয়ার অপরাধে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয়েছে। গত (বুধবার) বিকেলে চার যুবক পথ আটকে তাকে ‘জয় শ্রীরাম’ বলার জন্য চাপ দেয়। ওই ছাত্র তা বলতে অস্বীকার করলে তাকে লাথি ও ঘুষি মারা হয় বলে অভিযোগ।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) ওই ছাত্রের বাবা নিতুড়িয়া থানায় এ ব্যাপারে অভিযোগ জানালেও ২৪ ঘণ্টা পরেও কেউ গ্রেফতার হয়নি। ওই ঘটনায় ভীত হয়ে ছাত্রটির বাবা ছেলেকে মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন। তিনি বলেন,  ‘কোন ভরসায় মাদ্রাসায় ছেলেকে রাখব? যদি আরও খারাপ কিছু হয়! বাড়ি ফিরেও ছেলে ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছে।’

মাসখানেক আগে কুচবিহার জেলার তুফানগঞ্জে এক ব্যক্তিকে এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বাসন্তীর এক মাদ্রাসা শিক্ষককেও ‘জয় শ্রীরাম’ না বলায় নিগ্রহ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে।

এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মফিকুল ইসলাম আজ (শুক্রবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘জয় শ্রীরাম’ বললে যে, কাউকে ছেড়ে দেবে বিষয়টি এমন নয়। আমরা বাঁচার জন্য প্রয়োজনে ‘জয় শ্রীরাম’ বলব, কপালে লিখে ঘুরব, তাতে কী আছে। সেটা তো ওদের (আক্রমণকারীদের) লক্ষ্য নয়। ওদের অন্তঃকরণে আরও কিছু লুকিয়ে আছে। যেখানে পারছে সেখানে মেরে ফেলছে। অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়া উচিত। এর পিছনে পুলিশ, প্রশাসনসহ তাদের যে এজেন্ট রয়েছে সেখানে মুসলিমদের শতাংশের হার কম থাকায় এবং রাজ্যে ৩০ শতাংশ মুসলিম বাসিন্দার কথা রাজ্য সরকার বলছে, কিন্তু আমরা যেহেতু আদমশুমারিতে বেশিরভাগে লিপ্ত নেই এবং আমাদেরকে লিপ্ত রাখা হয় না, সেজন্য আমাদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড সবকিছুতেই কিছু না কিছু জায়গায় ভুল ধরা পড়ছে। রাজ্যে মুসলিমদের যে শতাংশের কথা ওনারা বলছেন (৩০ শতাংশ), সেই শতাংশ অনুযায়ী যদি আমরা প্রশাসনে থাকতাম তাহলে হয়ত এতটা ভুল ও আতঙ্কের ব্যাপারটা আসত না। এখন এক/দুইজন কর্মকর্তা ছাড়া অন্যরা সব এজেন্ট হয়ে বসে আছেন। মানসিকভাবে তারা এজেন্ট হয়ে গেছেন! আতঙ্কে তো আমরা রয়েছি। যেরকম মেরে ফেলছে! রাজ্য সরকারকে কঠোর হাতে এসব দমন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সংসদে এনিয়ে বিতর্ক হলেও রাজ্য বিধানসভায় এনিয়ে কোনও বিতর্ক হচ্ছে না বা কেউ মুখ খুলছেন না। মুসলিম বিধায়ক/এমপিরারাও মুখ খুলছেন না। যেহেতু তারা তৃণমূলের টিকিটে পাস করেছেন সেজন্য ওদের বলার কিছু নেই! ওদের মুখে ‘টেপ’ বসানো আছে যে তোমরা কিছু বোলো না। কিন্তু তার ওপরেও কোপ পড়বে। কখন পড়বে তিনি জানেন না। আমরাও জানি না। কিন্তু আমরা আতঙ্কিত।’

অধ্যাপক মফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সংখ্যালঘুরা ষোলোআনাই আতঙ্কিত! একশ’ শতাংশ আমরা আতঙ্কিত। আমি এবং আমরা যারা সংখ্যালঘুরা রয়েছি বিশেষ করে সংখ্যালঘুর মধ্যে মুসলিমরা আতঙ্কিত। সংখ্যালঘু বলতে তো কেবল মুসলিমরা নয়, আরও অন্য ধর্মের মানুষ আছেন। কিন্তু কেবল মুসলিমদেরকেই টার্গেট করা হচ্ছে। আরএসএসের এবং তাদের সমর্থন যে বিজেপি দলের রয়েছে, সেই আরএসএসের পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু চলছে। মুসলিমদের এরকম করার নেপথ্যে আরএসএসের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্য সরকারকেও বিরক্ত করতে চাচ্ছে যাতে রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃনমূলকে সরিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন কার্যকর করা যায়। কিন্তু তৃণমূল সরকারের উচিত ছিল সরাসরি সামনে এসে প্রশাসনের হাতকে শক্ত করা।’ রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীই সর্বেসর্বা সেজন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও অধ্যাপক মফিকুল ইসলাম মন্তব্য করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.







পাঠক

Flag Counter



Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!