আপডেট ২২ min আগে ঢাকা, ১৬ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ১লা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ই সফর, ১৪৪১ হিজরী

Breaking News
{"effect":"fade","fontstyle":"normal","autoplay":"true","timer":4000}

প্রচ্ছদ আজকাল

Share Button

দর্শক গ্যালারি থেকেঃবিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৯ নিয়ে কিছু কথা

| ১৬:৩১, জুলাই ৬, ২০১৯

আবু তারেক চৌধুরী। লন্ডন । ৬ জুলাই, ২০১৯। ১৯৯৯ সাল মাঠে উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশ দলের সাফল্য দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল।২০ বৎসর পর আবারও ২০১৯ বিশ্বকাপেও মাঠে বসে বাংলাদেশের প্রতিভাময় এবং অভিজ্ঞদের নিয়ে সুন্দর ট্রাইগার দলের প্রানবন্ত খেলা দেখার সৌভাগ্য হয়। যেখানে বাংলাদেশীসহ বিদেশীদের প্রাণবন্ত সমর্থন ছিল টাইগার দলের প্রতি। আমরা কি পেরেছি সেই ভালবাসার মূল্য দিতে। তাই একবার ঘুরে আসি আমার চোখে দেখা ২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ।

ক্রিকেটে প্রতি ভালবাসা থেকে ক্রিকেটপ্রেমি এবং বাংলাদেশlর টাইগারদেকে ১০০% নিবিরভাবে ভালবাসা।

পুরো টুর্নামেন্টেই বাংলাদেশের ফিল্ডিং ছিল দৃষ্টিকটু। হাতের ফাঁক গলে বল বেরিয়েছে অসংখ্যবার, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ক্যাচ মিস করার মূল্য দিতে হয়েছে ম্যাচ হেরে। শেষ ম্যাচেও ছন্নছাড়া ফিল্ডিংয়ের অবস্থা চোখে লেগেছে খুব বেশি। ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করলেও মাশরাফি নিজেও খুশি হতে পারেননি ফিল্ডিং নিয়ে, ‘আমাদের ব্যাটিং ভালো হয়েছে। কিন্তু ফিল্ডিংটা ভালো হয়নি। কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাজে ফিল্ডিংয়ের খেসারত দিতে হয়েছে আমাদের।’

ফিল্ডিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়ের অবস্থাও নাজেহাল। নখদন্তহীন বোলিং নিয়ে বেশির ভাগ ম্যাচেই প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের মনে ভয় ধরাতে পারেননি বাংলাদেশি বোলাররা। কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও মোস্তাফিজুর রহমান ছিলেন স্ব-মহিমায় উজ্জ্বল। পুরো টুর্নামেন্টে ২০ উইকেট নিয়েছেন এ বাঁহাতি পেসার। শেষ দুই ম্যাচেই নিয়েছেন পাঁচটি করে উইকেট। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচে পাঁচ উইকেট পেয়েছেন, বাংলাদেশিদের মধ্যে এক আসরে সবচেয়ে বেশি উইকেটের রেকর্ডও এখন তাঁর।

পরিসংখ্যান যে সব সময় সঠিক আভাস দেয় না, তার বড় উদাহরণ হতে পারে এটি। রানের দিক থেকে সেরা বিশ্বকাপ, অথচ তামিম চাইলে এবারের বিশ্বকাপটাকে স্মৃতি থেকে মুছেই ফেলতে চাইবেন। এত আড়ষ্ট, এত ধীর গতির তামিমকে যে এর আগে কখনো দেখা যায়নি।

ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস’, অতি ব্যবহারে কিছুটা ক্লিশেই হয়ে গেছে কথাটা। কিন্তু এ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে ব্যবহার না করেও উপায় নেই। বাংলাদেশের সেমিফাইনাল স্বপ্ন যে সুতোর ওপর ঝুলেছে ভারত ম্যাচের আগে। এবং সেটা ভারতের সাথে হারে তা শেষ হয়ে গেছে, তার পেছনে অন্যতম বড় কারণ ফিল্ডারদের ‘মাখন লাগানো’ হাতের। সহজ সব ক্যাচ ছেড়ে প্রতিপক্ষ দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানদের জীবন দিয়েছেন, সেটিরই ফায়দা তুলে বাংলাদেশকে ভুগিয়েছেন তারা।

সবচেয়ে টাটকা উদাহরণটি ভারতের ম্যাচেই উপস্থিত। ২০১৯ বিশ্বকাপে বিরাট কোহলির চেয়েও ভয়ংকর হয়ে দেখা দিয়েছেন রোহিত শর্মা। ওয়ানডেতে তিনটি দ্বিশতকের মালিক রোহিত আজকের আগেই এ বিশ্বকাপে করে ফেলেছিলেন তিনটি সেঞ্চুরি। রোহিতের উইকেটের মূল্য তাই অজানা থাকার কথা নয় বাংলাদেশি বোলার-ফিল্ডারদের।

উইকেটে ভালোভাবে ঝেকে বসার আগেই সুযোগ দিয়েছিলেন ভারতীয় ওপেনার। কিন্তু বাংলাদেশ সুযোগ নিতে পারলে তো! পঞ্চম ওভারেই মোস্তাফিজুর রহমানের শর্ট বলে পুল করেছিলেন, টাইমিংটা ঠিকমতো হয়নি। ডিপ মিড উইকেটে সহজ ক্যাচ দিয়েছিলেন তামিমকে। অথচ বুকের ওপর থাকা বলটা মিস করলেন বাউন্ডারিতে বাংলাদেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ফিল্ডার তামিম। মাত্র ৯ রানে থাকা রোহিত এরপর ইচ্ছেমতো ভুগিয়েছেন বাংলাদেশকে। তুলে নিয়েছেন এ বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরির পর বেশি দূর এগোতে না পারলেও সর্বনাশ যা করার ততক্ষণে করে দিয়ে গেছেন। জীবন পাওয়ার পর যোগ করেছেন আরও ৯৫ রান।

রোহিতের চেয়েও বড় ক্ষতিটা করেছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। আজকের মতো নটিংহ্যামের সে ম্যাচেও ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ওপেনিং জুটি ভাঙার সুযোগ এসেছিল বাংলাদেশের সামনে। মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে ক্যাচ দিয়েছিলেন ওয়ার্নার। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে সহজ ক্যাচটা হাতে রাখতে পারেননি সাব্বির রহমান। ক্যাচ ছাড়ার সময় মাত্র ১০ রানে থাকা ওয়ার্নার এরপর তাণ্ডব চালিয়েছেন বাংলাদেশি বোলারদের ওপর। প্রথম অস্ট্রেলীয় হিসেবে ওয়ানডেতে দ্বিশতকের দিকে এগোতে থাকা ওয়ার্নার শেষ পর্যন্ত করেছিলেন ১৬৬ রান। এক ক্যাচ ছাড়ার মূল্য হিসেবে অতিরিক্ত ১৫৬ রান গুনতে হয়েছিল বাংলাদেশকে! ম্যাচটাও বাংলাদেশ হেরেছিল ৪৮ রানে।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ হয়ে আছে নিউজিল্যান্ড ম্যাচটি। বাগে পেয়েও সেদিন হারানো যায়নি কিউইদের। অথচ সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের ফলটা অন্যরকমও হতে পারত সেদিন। কেন উইলিয়ামসন যখন মাত্র ৮ রানে, মুশফিকুর রহিম মিস করলেন সহজতম রান আউটের সুযোগটা। সেই উইলিয়ামসন পরে যোগ করেছেন আরও ৩২ রান। ওই একই ওভারে রস টেলকেও স্ট্যাম্পিং করার সুযোগ পেয়েছিলেন মুশফিক। একটু কঠিন হলেও বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বের করে আনতে হলে এসব সুযোগ কাজে লাগাতেই হয়। ৯ রানে থাকা টেলর শেষ পর্যন্ত থেমেছেন ৮২ রানে। সে ম্যাচে একটুর জন্য ২ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। স্লো স্কোরিং ম্যাচে উইলিয়ামসন-টেলরের ব্যাট থেকে আসা অতিরিক্ত ১০৫ রানই গড়ে দিয়েছিল ম্যাচের ভাগ্য।

এ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জেতা ম্যাচেও দেখা গিয়েছিল বাংলাদেশি ফিল্ডারদের পিচ্ছিল হাত। ডেভিড মিলার যখন ১৬ রানে, ক্যাচ ছেড়েছিলেন সৌম্য সরকার। মিলার পরে যোগ করেছিলেন আরও ২২ রান। এর আগে কুইন্টন ডি ককের ক্যাচও ছেড়েছিলেন মুশফিক, তবে ওই একই বলে ডি কক রান আউট হয়ে যাওয়ার সেটি নিয়ে অত আলোচনা হয়নি।

পাকিস্তানের সাথে ম্যাচে বাবর আজম ৪০ রানে প্রান পেয়ে করেছেন ৯৮। এরকম অনেক উদাহরণ ।

শুধু ক্যাচিং নয়, বিশ্বকাপে গ্রাউন্ড ফিল্ডিংটাও একদমই মনমতো হয়নি বাংলাদেশের। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বিশ্বকাপে মিস ফিল্ডিং থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান হজম করেছে বাংলাদেশ। বাজে ফিল্ডিংয়ের কারণে প্রতি ম্যাচে গড়ে ৬০ রান অতিরিক্ত গুনতে হয়েছে প্রতি ম্যাচে। মিস ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে বেশি রান দিয়েছে কেবল আফগানিস্তান। টুর্নামেন্ট শেষে এ পরিসংখ্যানগুলো নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের ক্ষতস্থানে আরেকটু জ্বালা ধরাবে।

আর একটি ব্যাপার লক্ষনিয় ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করে প্রতিটি দলই ৩০০ এর বেশী রান করেছে যা আর কোন দলের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাছাড়া সেমিফাইনালে যে ৪ট দল খেলেছে তারা প্রায় প্রতিটি ম্যাচে অপেনিং জুটিতে ১০০ এর অতিরিক্ত রান করে আর সেখানে বাংলাদেশ দল পুরাপুরি ব্যতিক্রম তারা ৫০ রানের জুটিও উপহার দিতে পারে নাই উপরন্তু মিডল অর্ডার উপর রানের বোঝা রেখে গিয়েছেন।

তামিম সৌম্য বা লিটন ওপেনিং কোন ভূমিকা রাখতে পারেননি অযথা বল নষ্ট করেছেন।

সাকিবুল হাসান অসাধারন আর মুসফিকুর রাহিম সাধ্যমত ভাল খেলেছেন।

মাহমুদ্দুল্লাহ, সাব্বির, মোছাদ্দেক, মিরাজ যেন ক্রিকেট প্র্যাকটিস করেছেন।

ব্যাতিক্রম সাইফুদ্দিন যথাসাধ্য অলরাউন্ড সাফল্য দেখিয়েছেন।

মুস্তাফিজ শেষের দিকে সাফল্য পেলেও প্রথম দিকে তেমন কিছুই করতে পারে নাই।

পার্ট-টাইম বোলার হিসাবে সৌম্য সরকার ভাল করলেও রুবেল ছিলেন পুরাপুরি ব্যর্থ ।

মাশরাফ যতেষ্ট সচেতন ছিলেন বুদ্দিদ্বীপ্ত সিদ্ধান্তে কিন্তু টস ভাগ্য সহায়ক না থাকায় তাও কাজে লাগেনি।

 

আমার মনে হয় ওপেনিং নিয়ে চিন্তা করতে হবে। বিকল্প হিসাবে শাহরিয়ার নাফিজ, ইমরুল কয়েছ কিংবা এনামূল হক বিজয় নেওয়া যেতে পারে। নতুবা আমরা আবারও নিরাশ হব।

হারলেও বাংলাদেশ জিতলেও বাংলাদেশ এবং হ্নদয়ে বাংলাদেশ ।

 

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

Comments are closed.

পাঠক

Flag Counter

UserOnline

Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625

error: Content is protected !!